যমুনা নদীর বালাসী-বাহাদুরাবাদঘাটে টানেল নির্মাণ করা হবে:প্রধানমন্ত্রী

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উত্তরাঞ্চলের রাজধানী ঢাকার সড়ক যোাগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এবং এতদঞ্চলের সাথে একটি বিকল্প সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গাইবান্ধার বালাসীঘাট থেকে জামালপুরের বাদাদুরাবাদঘাট পর্যন্ত যমুনা নদীতে একটি টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা সরকার শীঘ্রই বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উৎপাদিত পণ্যের সহজে বাজারজাত করণের সুবিধার্থে বালাসী-বাহাদুরাবাদঘাট বন্ধ হওয়া ফেরী সার্ভিসটি সরকার এবছর মার্চ মাস থেকে জরুরী ভিত্তিতে পুনঃরায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গাইবান্ধার অব্যাহত নদী ভাঙ্গন ও বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তদুপরি এতদঞ্চলের একটিও দরিদ্র ভূমিহীন গৃহহারা মানুষ যাতে গৃহহারা না থাকে সেজন্য সরকার তাদের সরকারি খাস জমিতে পুনর্বাসনের উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। গাইবান্ধার কোন মানুষ যাতে জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত হতে না পারে সেজন্য তিনি মসজিদের ইমামদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহবান জানান।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধা স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে তিনদিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর এইসব ঘোষণায় স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে উপস্থিত গাইবান্ধার সর্বস্তরের মানুষ উচ্ছসিত হয়ে ওঠে এবং আগামীতে গাইবান্ধায় উন্নয়নের আশার আলো দেখতে পায়।
উল্লেখ্য, সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে তুলে ধরতে ১১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে ১৩ জানুয়ারি শনিবার পর্যন্ত এই উন্নয়ন মেলা চলবে। গাইবান্ধাসহ বরগুনা, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে একযোগে এই মেলার উদ্বোধন করেন। সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে শুরু হয়ে ১২টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত এই ভিডিও কনফারেন্সিং চলে।
জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল শুরুতেই তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের আমলে গাইবান্ধার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধার বড় মসজিদের ইমাম মুফতি মো. মাহমুদুল হাসান, বয়স্কভাতা ভোগী ইসাহাক আলী এবং মুক্তিযোদ্ধা ওয়াশিকার মো. ইকবাল মাজুর বক্তব্য শোনেন। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে গাইবান্ধার সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিকেলে স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীষ বসু। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, পৌর মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন, সদর উপজেলা শ্রমিক লীগ আহবায়ক ও জেলা ট্রাক কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল করিম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে তুলে ধরা, জনগণকে উন্নয়ন কাজের সাথে সম্পৃক্ত করা, সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, এমডিজি অর্জনে সরকারের সাফল্য, এসডিজি কার্যক্রমে জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিখাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নকে লক্ষ্য রাখার জন্য এই উন্নয়ন মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় নানা উন্নয়ন বিষয়ে ৭০টি স্টল বসানো হয়েছে।

গাইবান্ধায় প্রচন্ড শীতে দরিদ্র মানুষের দুর্বিষহ জীবন যাপন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ॥ গত দু’সপ্তাহ ধরে গাইবান্ধায় শৈত্যপ্রবাহ ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে দরিদ্র মানুষেরা অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সেইসাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মত ঘন কুয়াশা পড়ছে। ফলে শস্যে ক্ষেতের শস্য ফুল ঝড়ে পড়ছে এবং শীতকালিন নানা সবজিগুলোতে ছত্রাক রোগের প্রকোপ বেড়েছে।
এছাড়া প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে বেশী। ফলে বৃদ্ধ ও শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। ঘন কুয়াশার কারণে সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। বেলা ১টার পর সুর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডা কমে না। এতে করে জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এদিকে প্রচন্ড শীতের কারণে শহরের পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।
এব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, প্রায় দু’সপ্তাহ শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকায় শীতকালীন নানা সবজি, বোরো বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে আসন্ন ইরি-বোরো চাষ পিছিয়ে ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।

গাইবান্ধার দুঃস্থ শীতার্ত মানুষদের মধ্যে সরকারের ৬০ হাজার ৫শ’ কম্বল বিতরণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ॥ গাইবান্ধার ৭টি উপজেলার দুঃস্থ শীতার্ত মানুষদের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে জরুরী ভিত্তিতে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার ৫শ’ ৩৬ পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কম্পিউটার ল্যাব কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আতিকুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি শীতার্ত মানুষদের জন্য সরকারি উদ্যোগ সমূহের বিবরণ তুলে ধরেন এবং দুঃস্থ অসহায়রা এই তীব্র শীতে যাতে কোন কষ্ট না পায় সে ব্যাপারে সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও উল্লেখ করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী।
জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার থেকে গাইবান্ধা জেলার শীতার্ত মানুষদের জন্য ৩২ হাজার ২শ’ ৩২ পিস কম্বল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ২৯ হাজার ২শ’ ৪৫ পিস এবং এনজিও আশা থেকে ৩শ’ ৩৬ পিস কম্বল পাওয়া গেছে। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ১০ হাজার ৩শ’ ৫০ পিস, গাইবান্ধা সদরে ৯ হাজার ৬শ’ পিস, সাদুল্যাপুরে ৮ হাজার ২শ’ ৩৯ পিস, পলাশবাড়িতে ৬ হাজার ৬শ’ ৬৭ পিস, গোবিন্দগঞ্জে ১১ হাজার ১শ’, সাঘাটায় ৭ হাজার ৭শ’ ৭৫ পিস এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ৫ হাজার ৮শ’ ৮৯ পিসসহ মোট ৫৯ হাজার ৬শ’ ৬২ পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন সরাসরি ৯শ’ ১৬ পিস কম্বল বিতরণ করেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.