1. [email protected] : AK Nannu : AK Nannu
  2. [email protected] : arifulweb :
  3. [email protected] : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. [email protected] : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. [email protected] : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  6. [email protected] : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন

বগুড়ার জামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকের নির্মম নির্যাতনে ছাত্র আহত

  • Update Time : শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১
  • ৫০ Time View
ফকীর শাহ :  উত্তরাঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত, বগুড়ার আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া কাছেমুল উলুম জামিল মাদরাসায় শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। ঐ মাদরাসার নহম শ্রেণীর ছাত্র মো: মারুফ বিল্লাহকে শিক্ষক কর্তৃক নির্মম নির্যাতনের পর আহত মারুফকে বাইরে চিকিৎসা করতে না দিয়ে মাদরাসার ভেতরে এক রুমে আটকে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।
শিক্ষকের নির্যাতনে আহত শিক্ষার্থী মারুফের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। বগুড়ায় তার খোঁজ খবরও নেওয়ার কেউ নেই।
বুধবার সকাল ১১টায় মারুফের খোঁজ নিতে গিয়ে এই প্রতিবেদক দেখতে পান, মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থী বিভিন্ন শ্রেণীতে যে যার মত ক্লাস করছিল। মারুফ বিল্লাহ এসময় মাদ্রাসার প্রবেশ পথের উত্তর পাশে ৩য় তলার ৩ নং রুমে শরীরে কাঁথা বিছিয়ে শুয়ে আঘাতের ব্যাথায় কাতরাচ্ছিল।
এসময় তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতেই মাদরাসার শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা এসে সেখানে হাজির হয়।
একপর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা একে অপরের দিকে তাকাতে থাকে, কিন্ত ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না।
এসময় কাঁথা মুড়ি দিয়ে ব্যাথায় কাতরানো মারুফের ছবি তুলতে চাইলে সেখানকার কর্তব্যরত শিক্ষক বলেন,মুহতামিমের ( প্রিন্সিপাল ) অনুমতি ছাড়া এখানে ছবি তোলা নিষেধ।
ছবি তোলার জন্য বড় হুজুরের অনুমতি নেয়ার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তখন তিনি চট্টগ্রামে ছিলেন।
শিক্ষকের নির্মম নির্যাতনে আহত শিক্ষার্থী মারুফ ভয়ে এতোটাই কুঁকড়ে গেছে যে, সে ঠিকমত কোন কথাই বলতে পারছে না।
অন্যান্যরা জানায়,গত মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শ্রেণীতে পাঠদানের সময় মাও: ওসমান আলী ওই শ্রেণীর ছাত্র মারুফ বিল্লাহকে বেত দিয়ে এলোপাথাড়ি মারপিট শুরু করেন।
মারুফ বিল্লাহর সহপাঠিরা জানান, তার হাতের কব্জিতে, বাম হাতের পেশীতে, পিঠে বেদম মারপিট করতে থাকেন। ওসমান আলী হুজুরের অকথ্য নির্যাতনের একপর্যায়ে মারুফ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় তার চিকিৎসার জন্য মাদরাসার বাইরেও যেতে দেওয়া হয়নি।
ঐ অবস্থায় মাদরাসার ভেতরেই মারুফকে চিকিৎসা করানো হয়। তাকে ব্যাথানাশক ক্রিম ও ব্যাথার ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর থেকে তাকে আলাদা করে তিন তলায় ৩ নং রুমে বন্দী করে রাখা হয়। তার সঙ্গে অন্যকারো যোগাযোগ যাতে না হয়, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়।
নির্যাতিত নহম শ্রেণীর ছাত্র মো: মারুফ বিল্লাহ জানায়, ‘মাওলানা ওসমান দুই সপ্তাহ আগে এই মাদ্রাসায় এসেছেন। ক্লাসে দুষ্টুমি করার কারণে ওই হুজুর আমার হাতে ও পিঠে মেরে আহত করেছে। আমাদের জিম্মাদার ক্ষত স্থানে ক্রিম দিয়ে দিয়েছেন। আরকিছু ওষুধ দিয়েছেন সেগুলো আমি খেয়েছি ।’
ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র জীবনের নিরাত্তার স্বার্থে যার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না,সে জানায়,‘এই মাদ্রাসার দুইএকজন হুজুর ছাড়া বাঁকী সব হুজুরই অকথ্য নির্যাতন করে। আমরা কাউকে কিছু বলতে পারি না। বলতে গেলেই আমাদের মাদ্রাসা থেকে বের করে দিবে।
এ বিষয়ে নহম শ্রেণীর ছাত্রদের জিম্মাদার মো: ছাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনা সত্য। ওই শিক্ষক নতুন জয়েন করেছেন মাদ্রাসায়। এজন্য তিনি না বুঝে মেরেছেন। আমি ছবি তোলার অনুমতি দিতে পারব না। বড় হুজুরের অনুমতি নিয়ে ছবি তুলতে হবে।’
আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া কাছেমুল উলুম জামিল মাদরাসার মুহতামিম ( প্রিন্সিপাল ) মুঠোফোনে বলেন,‘ ছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনার বিষয়ে আমি শুনেছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
নির্যাতনকারী শিক্ষক মাও: ওসমান আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছ।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com

Developed By Pigeon Soft