1. [email protected] : AK Nannu : AK Nannu
  2. [email protected] : arifulweb :
  3. [email protected] : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. [email protected] : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. [email protected] : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  6. [email protected] : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৫ অপরাহ্ন

ধর্মের নামে ব্যবসা : ইমামতি ছেড়ে ২০ হাজার কোট টাকার মালিক মুফতি রাগীব হাসান

  • Update Time : শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২৪ Time View

ফকীর শাহ : হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্র ছিলেন।খুলনার আরেকটি কওমী মাদরাসায় পড়ে মুফতিও হয়েছেন।এরপর মসজিদে ইমামতি শুরু করেন। সুরতে লেবাসে পরহেজগার সেই হুজুরই মানুষকে ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।স্রেফ প্রতারণার মাধ্যমে এখন হুজুর রাগীব হাসানের অবৈধ সম্পদের পরিমান প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

মুফতি এবং ইমাম রাগীব হাসানের গল্পটা আরো বিষ্ময়কর। ইমামতি করা অবস্থায় ৯০০ টাকা বেতনে ঢাকার একটি এমএলএম কোম্পানিতে চাকরি করতে থাকেন।এমএলএম কোম্পানিতে চাকরী করতে করতে প্রতারণার ফাঁকফোঁকরের তালাশ পেয়ে যান তিনি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন ‘এহসান গ্রুপ’ নামের আরেক প্রতারণার ফাঁদ।

ইসলাম ধর্মের মোড়কে ‘এহসান গ্রুপ’ নামে সেই প্রতারণার ফাঁদে ফেলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে হাসপাতাল, ক্যাডেট মাদরাসা, ট্রাভেল এজেন্সি বৃদ্ধাশ্রম, আবাসন কোম্পানিসহ মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন হুজুর রাগীব হাসান।

রাগীবের প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, লক্ষাধিক গ্রাহক তার মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা প্রতারিত হয়েছেন।

প্রতারিতরা দাবি করেন, রাগীব তার প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে অর্থ সংগ্রহ করে পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের নামে-বেনামে সম্পত্তি ও জায়গাজমি কিনেছেন। এ ছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের নামে ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করেন। শ্বশুরকে প্রতিষ্ঠানের সহসভাপতি, বাবাকে প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা, ভগ্নিপতিকে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার করেছিলেন প্রতারক রাগীব।

গ্রেফতার দাবিতে ভুক্তভোগীরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধনও করেছেন। অবশেষে র‌্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১০-এর একটি  দল গতকাল ভোরে রাজধানীর শাহবাগ এলাকার তোপখানা থেকে রাগীব ও তার সহযোগী আবুল বাশার খানকে গ্রেফতার করে।

অন্যদিকে তার অন্য দুই ভাই মুফতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মো. খাইরুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পিরোজপুরের খলিশাখালী নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে গতকাল বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দুজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই রাগীব অনেক বিষয় স্বীকার করেছেন।

রাগীব জানিয়েছেন ২০০৮ সালে ১০ হাজার গ্রাহককে তার কোম্পানিতে যুক্ত করেন। ১৭টি প্রতিষ্ঠান গড়ে গ্রাহকের কাছ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা তিনি সংগ্রহ করেছেন।

রাগীব হাসান ১৯৮৬ সালে পিরোজপুরের একটি মাদরাসায় পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯৯৬-১৯৯৯ পর্যন্ত হাটহাজারীর একটি মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং ১৯৯৯-২০০০ পর্যন্ত খুলনার একটি মাদরাসা থেকে মুফতি সনদ নেন। পরে পিরোজপুরের একটি মাদরাসায় চাকরি শুরু করেন।

২০০৬-২০০৭ সালে ইমামতির পাশাপাশি ‘এহসান এস মাল্টিপারপাস’ নামে একটি এমএলএম কোম্পানিতে ৯০০ টাকা বেতনের চাকরি করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে ‘এমএলএম’ কোম্পানির প্রতারণার বিষয়টি রপ্ত করেন। পরে ২০০৮ সালে ‘এহসান রিয়েল এস্টেট’ নামে একটি এমএলএম কোম্পানি করেন। ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতির অপব্যবহার করে এমএলএম কোম্পানির ফাঁদ তৈরি করেন রাগীব।

র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, রাগীব দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুক্ত ব্যক্তি, মসজিদের ইমাম ও অন্যদের টার্গেট করে প্রতারণার ফাঁদ পাতেন।

তিনি ‘শরিয়তসম্মত সুদবিহীন বিনিয়োগ’-এর বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেন। তা ছাড়া ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে ব্যবসায়িক প্রচার-প্রচারণা চালাতেন।

লাখ টাকার বিনিয়োগে প্রতি মাসে বিনিয়োগকারীদের মাত্রাতিরিক্ত লাভের প্রলোভন দেখাতেন। ২০০৮ সালে ১০ হাজার গ্রাহককে তার কোম্পানিতে যুক্ত করেন। এখন গ্রাহকের সংখ্যা লক্ষাধিক বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

র‌্যাবের কর্মকর্তা আরো বলেন, প্রতারক রাগীবের ৩ শতাধিক কর্মচারী রয়েছেন। যাদের কোনো ধরনের বেতন দেওয়া হতো না। তারাই মাঠপর্যায় থেকে বিনিয়োগকারী সংগ্রহ করে দিতেন। এতে ২০ শতাংশ লভ্যাংশের প্রলোভন দেখাতেন। এভাবেই রাগীবের দ্রুত গ্রাহক বাড়তে থাকে। তবে বর্তমানে তিনি তার কর্মচারী, গ্রাহক সবাইকেই প্রতারিত করেছেন।

রাগীব আহসান প্রতারণার মাধ্যমে যে ১৭টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, সেগুলো হলো- এহসান গ্রুপ বাংলাদেশ, এহসান পিরোজপুর বাংলাদেশ (পাবলিক) লিমিটেড, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড, নূর-ই মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি, জামিয়া আরাবিয়া নূরজাহান মহিলা মাদরাসা, হোটেল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক), আল্লাহর দান বস্ত্রালয়, পিরোজপুর বস্ত্রালয়-১ ও ২, এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডিং অ্যান্ড কোং, মেসার্স মক্কা এন্টারপ্রাইজ, এহসান মাইক অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম, এহসান ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস, ইসলাম নিবাস প্রজেক্ট, এহসান পিরোজপুর হাসপাতাল, এহসান পিরোজপুর গবেষণাগার ও এহসান পিরোজপুর বৃদ্ধাশ্রম।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com

Developed By Pigeon Soft