1. aknannu1964@gmail.com : AK Nannu : AK Nannu
  2. ariful.bpi2012@gmail.com : arifulweb :
  3. fshahjahan72@gmail.com : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. angelhomefoundation@gmail.com : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. nchost_transfers@namecheap.com : namecheap :
  6. prodhan.it77@gmail.com : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  7. support@itnuthosting.com : RM Rey : RM Rey
  8. farjanasraboni46@gmail.com : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৩২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ বার্তা :
সিরাজগঞ্জ বাঘাবাড়ী বেড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সরকারি গাছ কাটার হরিলুট সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত শিবগঞ্জে মহাস্থান যুবসংঘের উদ্যোগে মাদক বিরোধী ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের উদ্বোধন রাণীশংকৈলে সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত গোদাগাড়ীতে বাটিক ও হ্যান্ড এমব্রয়ডারি প্রশিক্ষণ সমাপ্ত বিশিষ্ট অভিনেতা আলী যাকের আর নেই অর্থনৈতিক মুক্তি নারীর টেকসই উন্নয়ন শ্লোগানে সৈয়দপুরে দুইদিন ব্যাপী পণ্য প্রদর্শণী সাভারে চাকরির প্রলোভন দিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চার প্রতারক চক্র আটক দিনাজপুরে শিশুপুত্রকে কুপিয়ে হত্যা করলো নেশাগ্রস্থ পিতা ম্যারাডোনার মৃত্যুতে কমিউনিস্ট পার্টি’র শোক ধামইরহাটে মোটর সাইকেল-ভটভটি মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত

হঠাৎ করে ইবলিশের মোবাইল ফোন : নিমিষেই সর্বশান্ত কোটিপতি মহাজন

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩১ Time View

এফ শাহজাহান :: ছোট্ট একটা শিশি। ভেতরে থায়োডিন। ভারত থেকে চোরাইপথে আসা কীটনাশক। ম্যাজিকের মত কাজ করে বলে জনগণ ভালোবেসে এর নাম দিয়েছে ওস্তাদ। মাত্র ১মিনিটের কাজ। তাতেই ৫ কোটি টাকার ক্ষতি।

আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার শরিফুল ইসলাম ব্যাপারীর ৬৬ বিঘা আয়তনের একটি পুকুরে বিষ দিয়ে ১০০ টনের বেশি মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ঘটনা। শুধু সেপ্টেম্বর অক্টোবর নয়। সারা বছরই আশুলিয়া থেকে বিশুলিয়া কিংবা টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া দেশের সবখানেই পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের এই ক্রাইম এখন প্রবল আকার ধারণ করেছে। আন্তউপজেলা,আন্তজেলা এবং দেশব্যাপি এই অপরাধী চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এখন এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, এদের কথা না শুনলে নিমিষেই সর্বশান্ত পথে বসছেন কোটিপতি মাছ চাষীরা।

হটস্পট বগুড়া
পুকুর ভরা মাছ। বুক ভরা আশা। রাত পোহালেই ২০ লাখ টাকার মালিক।কিন্তু রাত পোহাতে যত দেরি,সর্বনাশ হতে তত দেরি হয়নি বগুড়ার শিকড়ের গফুর সরদারের। রাত পোহানোর পর দেখলেন তার পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে।পুকুরে থই থই করা মস্ত বড় রুই কাতলার মতই বড় বড় স্বপ্ন দেখতেন আব্দুল গফুর সরদার ।এক রাতেই তার সব স্বপ্ন উধাও।

শুধু এই গফুর সরদার একা নয় । নিমিষেই এরকম শত শত গফুর সরদারের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ গায়েব থেকে ভেসে আসা একটা মোবাইল ফোন সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে। একেকজন মাছ চাষীকে এভাবে নিমিষেই সর্বশান্ত করে পথে বসাচ্ছে ইবলিশের মোবাইল ফোন। এবিষয়ে দীর্ঘ এক বছরের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং গভী অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এফ শাহজাহানের অনুসন্ধানী প্রতিরেবদনে।

পুকুরে বিষ প্রয়োগে কোটি কোটি টাকার মাছ নিধনের এই বিষয়টি গত ১ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে সারাদেশের মধ্যে বগুড়া জেলায় এই ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি। বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে আবার কাহালু,নন্দীগ্রাম, আদমদীঘি এবং শিবগঞ্জ উপজেলায় ঘটে সবচেয়ে বেশি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে,এইসব এলাকায় সাধারনত মাছ চাষ বেশি হয় বলে পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের ঘটনাও ঘটে সবচেয়ে বেশি। আবার এইসব জনপদে একসময় জীনের বাদশার রাজত্ব ছিল। সেকারনে এখন আবার ইবলিশের রাজত্বও চলছে রমরমা। বগুড়ার স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে বছরে দুই শতাধিক মাছ চাষীর প্রায় ২০ কোটি টাকার মাছ নিধন করেছে এই বিষচক্র।

জীনের বাদশার সাম্রাজ্য থেকে ইবলিশের রাজত্ব
মগের মুল্লকে একসময় জীনের বাদশাহদের রাজত্ব চলতো।এখন চলছে ইবলিশের রাজত্ব। জীনের বাদশাহর কথা কমবেশি দেশের সবাই জানেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জীনের বাদশাহরা কত মানুষকে যে সর্বশান্ত করেছে আর কত মানুষের সংসার ভেঙ্গেছে তার কোন হিসাব করেনি কেউ। মোবাইল ফোনে জীনের বাদশাহ নামের প্রতারক চক্রের সেই রমরমা অবস্থা এখন কিছুটা কমলেও নতুন আমদানি হয়েছে ইবলিশের ফোন। একসময় এই উত্তর জনপদে জীনের বাদশাহর নামে মোবাইল ফোনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের উৎপাত এখন না থাকলেও ইবলিশের ফোনের উৎপাতে সর্বশান্ত হচ্ছেন অনেক মানুষ। বিশেষ করে মাছ চাষীরা এখন সবচেয়ে বড় বিপদে আছেন এই ইবলিশের মোবাইল ফোনে। হঠাৎ মোবাইল ফোনে লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেলে পুকুরে বিষপ্রয়োগে লাখ লাক টাকার মাছ নিধন করার একটি সংঘবদ্ধ চক্র এখন এই অঞ্চলে বেশ সক্রিয়। এই চক্রের কারনে অনেক মৎস্য চাষীকে রাতারাতি পথে বসতে হচ্ছে।অনেকেই আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন আর অনেকেই চাঁদার টাকা পরিশোধ করে নিরাপদে আছেন। যারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারাও ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছেন এই আশংকায় যে,বেশি জানাজানি করলেই মাছ চাষের ব্যবসা থেকে পথে বসতে হবে তাকে। কারণ মাত্র ১ মিনিটেউ তার সব কয়টা পুকুরের কোটি টাকার মাছ মেরে ফেলতে পারে এই চক্র।

ইবলিশের মোবাইল ফোন মানে কী ?
পুকুরে চাষকৃত মাছ যখন বিক্রির উপযুক্ত হয়,তখন হঠাৎ অজানা অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসে মাছ চাষীর কাছে। ফোনে পুকুরে কত টাকার মাছ আছে তা উল্লেখ করে চাঁদা দাবি করা হয়। মাছের পরিমান ভেদে ১ লাখ থেকে ২লাখ চাঁদা দাবি করে বলা হয় টাকা না দিলে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে সব মাছ মেরে ফেলা হবে। অনেকেই মোবাইলের এই চাঁদা দাবির বিষয়টি আমলে নেন না।আবার কেউ ভাবেন উড়ো ফোনে ভয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু চাঁদা না দিলে সত্যি সত্যি পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয়। কিন্তু পরে আর সেই মোবাইল নম্বরের কোন হদিস পাওয়া যায় না। এরকম হঠাৎ করে অচেনা অজানা নম্বর থেকে আসা মোবাইল ফোনে এতোবড় একটা সর্বনাশ হয় বলে ভুক্তভোগীরা এর নাম দিয়েছেন ইবলিশের মোবাইল ফোন।

ইবলিশের ফোনের অনুসন্ধান
গত ১ মাস ধরে পুকুরে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধনের বিষয়টির গভীরে যেতে অনুসন্ধান চালানো হয়। এসময় শুধু বগুড়ার কাহালু,নন্দীগ্রাম ও আদমদীঘি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ শতাধিক মাছ চাষীর সন্ধান পাওয়া যায় । তারা জানান গত এক বছরে এই তিন উপজেলায় প্রায় দেড়শ পুকুরে বিষ প্রয়োগে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করে না পেলে পুকুরে বিষপ্রয়োগে মাছ মেরে ফেলে দুর্বৃত্তরা। তাছাড়াও পুর্ব বিরোধ,রেষারেশি এবং পুকুর লিজ নিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে রেষারেষি থেকেও পুকুরে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটে।

সারাদেশের একই চিত্র
শুধু বগুড়া জেলা নয়। সারাদেশেই এরকম ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে। তবে যেসব এলাকায় মাছ চাষ বেশি হয়,সেসব এলাকায় বেশি মাছ নিধনের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় ৬৬ বিঘা আয়তনের বড় একটি পুকুরে বিষ দিয়ে প্রায় ১০০ টনের বেশি মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এতে ৫ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুকুরের মালিক।

পুকুরের মালিক শরিফুল ইসলাম ব্যাপারী বলেন, ‘১৯৯৮ সাল থেকে আমি পুকুরে মাছচাষ করে আসছি। গতকাল রাতে একদল দুর্বৃত্ত রাতের আঁধারের কোনো এক সময়ে তার মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেন। গতকাল ১৩ আগস্ট হঠাৎ মাছ পানিতে ভেসে বেড়াতে শুরু করে। এসময় ৩০ থেকে ৪০ জন লোক নিয়ে প্রায় ৩০ টন মাছ অপসারন করে মাটিতে পুতে রাখা হয়। এরপর প্রায় ১০০ টন মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠে। আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার দেওয়ান ইদ্রিস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকার ‘প্রাণ প্রকৃতি অ্যাগ্রো’ নামে মাছের খামারে এ ঘটনা ঘটেছে।

সর্বনাশা থায়োডিন এবং গ্যাসের ট্যাবলেট
থায়োডিন নামের একটি বিষ দিয়ে পুকুরে লাখ লাখ টাকার মাছ নিধনের এই অপকর্ম চলে। ভারত থেকে চোরাই পথে আসা এই বিষ দিয়েই অধিকাংশ পুকুরে মাছ নিধন করা হয়। এছাড়াও গ্যাসের ট্যাবলেট নামের এক ধরনের বিষ ট্যাবলেট মাছ নিধনের জন্য দুর্বৃত্তরা ব্যবহার করে।

অপরাধীরা ধরা পড়ে না কেনো ?
মাত্র ৫ সেকেন্ডের কাজ। সুযোগ বুঝে যেকোন ভাবে পুকুরের যেকোন স্থানে এক বোতল বিষ ঢেলে দিলেই এতোবড় সর্বনাশ হয়ে যায়। অনেক সময় রাতে অনেক দুর থেকে পুকুরে বিষের বোতল ছুঁড়ে মারা হয়। অনেকেই পুকুরে গোসল করতে নেমে কমরে লুকে রাখা বিষের বোতল ঢেলে দিয়ে আসে। তাই সহজে বুঝা যায় না কে কখন এই সর্বনাশ করে গেছে। তাছাড়া এরকম ঘটনার কোন সাক্ষী পাওয়া যায় না।সাক্ষী থাকলেও কেউ ভয়ে মুখ খোলেনা।তাই অপরাধীরা ধরা পড়ে না।

এবিষয়ে কাহালু উপজেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ফকির বলেন,এর আগে এরকম একটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।সিরাজগঞ্জের একটি চরাঞ্চল থেকে একজনকে ধরেও নিয়ে এসছিল কাহালু থানার পুলিশ। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষীদের যথাযথ চেষ্টা এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষীর অভাবে ঐ চক্রের আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

মাছ চাষীরা মামলা করে না কেনো ?
মামলা করে কোন লাভ হয় না। কারণ সাক্ষীর অভাবে মামলার ফলাফল আসে না। তাছাড়া মামলা করলে আরো ঝুঁকি বাড়বে,সেই ভয়েও অধিকাংশ মাছ চাষী মামলা করেন না। এই নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘঁটি করতেও রাজি নন মাছ চাষীরা কেননা , বিষপ্রয়োগকারীদের বিরাগভাজন হলে এই ব্যবসায় তারা আর টিকে থাকতে পারবেন না। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্বৃত্তদের সঙ্গে এক ধরনের আপস করেই চলতে হচ্ছে মাছ চাষীদের।
ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষীর বক্তব্য
বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইইনয়নের শিকড় গ্রামের মাছ চাষী আব্দুল গফুর সরদার জানান গত ২৫ অক্টোবর আমার পুকুরে বিষ দিয়ে ৬ লাখ টাকার প্রায় ৮০ মন মাছ মেরে ফেলেছে। আমি এইবষয়ে থানায় একটা অভিযোগ দিয়েছি।
তাকে প্রশ্ন করা হলো কারা এই কাজ করতে পারে ?
তিনি এদিক ওদিক তাকিয়ে বললেন,জানি না।
তাকে যখন বলা হলো যে আপনার কাছে মোবাইল ফোনে কেউ চাঁদা চেয়েছিল ?
তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,তারা আমার পুকুরে বিষ দেয়নি। আমার পুকুরে অন্য কেউ বিষ দিয়েছে।
তারা দেয়নি এটা বুঝলেন কেমনি ?
গফুর সরদার এবার বললেন,আমি তাদেরকে টাকা দিয়েছি। কাজেই আমার বিশ্বাস তারা আমার পুকুরে বিষ দেয়নি।
আব্দুল গফুরের মত আরো মাছ চাষীদের বিশ্বাসও এরকম। তারা জানেন যে, ইবলিশের মোবাইল ফোনে যারা চাঁদা দাবি করে তাদের টাকা দিলে পুকুরের মাছ মরে না। কারণ, যারা মোবাইলে চাঁদা চায়;তারা এই গ্যারান্টি দিয়ে দেয় যে,আমাদের টাকা দিলে পুকুরের একটা মাছেরও ক্ষতি হতে দিবনা। তাই মাছ চাষীরা বেশি ঝামেলা না করে ১ লাখ ২ লাখ যখন যেমন পারে দরদাম করে চাঁদাবাজদের মিটিয়ে ফেলে। বাস্তবে হয়ও তাই। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও গফুর সরদারের পুকুরে কারা বিষ দিল, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির বক্তব্য
পুকুরে বিষপ্রয়োগে লাখ লাখ টাকার মাছ নিধনের বিষয়ে কাহালু উপজেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ফকির বলেন,এরকম এরকটা চক্র মাছ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ফেলেছে। তবে শুধু যে এই চক্রের কারনেই পুকুরে মাছ নিধন হচ্ছে তা নয়। অনেক সময় পুকুর লীজ নিতে গিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরেই পুকুরে বিষপ্রয়োগের ঘটনাও ঘটছে।আবার পাড়া প্রতিবেশির শত্রুতার কারনেই পুকুরে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটে।
প্রশাসনের বক্তব্য
পুকুরে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধনের বিষয়ে কাহালু থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষীরা সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না করার কারনে এবিষয়ে কোন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়না। যে দুই একজন অভিযোগ করেন,তারাও তাদের অভিযোগের সপক্ষে কোন সাক্ষী প্রমান যোগাড় করতে পারেন না।এরফলে এর কোন প্রতিকার করা পুলিশের পক্ষে সম্ভব হয় না।
মৎস্য অফিসারের বক্তব্য
কাহালু উপজেলা মৎস্য অফিসার ইরিনা মৌসুমী জানান, পুকুরে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধনের বিষয়টি মাছ চাষীদের জন্য খুবই দু:শ্চিন্তার একটি বিষয়। ইদানিং এই প্রবণতা বেশ বেড়ে গেছে। মাছ চাষীদের সঙ্গে পুর্ববিরোধের জের ধরে অনেক সময় পুকুরে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধনের ঘটনাটি ঘটে থাকে। সম্প্রতি আমরা জানতে পারছি একটি চক্র মোবাইল ফোনে পুকুরে বিষপ্রয়োগের হুমকী দিয়ে মাছ চাষীদের কাছে চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে এরকমের ঘটনা ঘটায়।

স্থানীয় সাংবাদিকদের বক্তব্য
কাহালু উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দৈনিক নয়াদিগন্দের উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আব্দুল কাদের বলেন সাংবাদিকতার জীবনে কতবার যে পুকুরে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধনের খবর প্রচার করেছি তার ইয়ত্তা নেই। মাঝে মধ্যেই পুকুরে বিসপ্রয়োগে মাছ নিধনের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে যা দেখি তা হতবাক হওয়ার মতই। লাখ লাখ টাকার মাছ মরে পুকুরে ভেসে ওঠার দৃশ্য দেখে মন ভারি হয়ে যায়। এসব ঘটনায় সবসময় একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি যে,ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষীরা ভয়ে কুঁকড়ে থাকেন। তারা সহজেই মুখ খুলতে চান না। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগও করতে চান না। তারা আশংকা করেন এবিষয়ে কথা বললেই তার বিপদ আরো বাড়বে। বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করলে তার এই ব্যবসা করাই যাবে না।
ইবলিশের ফোনের বিষয়ে আব্দুল কাদের বলেন,এরকম একটি সংঘবদ্ধ চক্র আছে। তারা মুলত মাছ চাষীদের কাছে মোবাইল ফোনে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে পুকুরের মাছ নিধন করেন।

অপরাধী চক্রের বিশাল নেটওয়ার্ক

বগুড়ার কাহালু ,নন্দীগ্রাম,আদমদীঘি ও শিবগঞ্জ উপজেলার মৎস্য চাসীদের সঙ্গে এবিষয়ে দীর্ঘদিনের আলাপ আলোচনায় উঠে এসেছে যে সারাদেশেই পুকুরে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় আছে। এদের আবার আন্তজেলা ও আন্ত উপজেলা দল আছে। এলাকার সকল মাছ চাষীদের মোবাইল নাম্বর ও ঠিকানা সবই তাদের কাছে থাকে। এদের লোকাল এজেন্টরা কার পুকুরে কখন মাছ বিক্রির উপযুক্ত হয় সেই খবরাখবর দিয়ে থাকে। তখন দুরে থেকেই এই চক্রের মুল হোতারা মাছ চাষীর কাছে ফোন করে লাখ লাক টাকা চাঁদা দাবী করে। সেই চাঁদার টাকা না দিলেই এই চক্রের লোকাল এজেন্টের মাধ্যমে পুকুরে বিষপ্রয়োগ করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষীরা ভভিষ্যৎের ক্ষতির আশংকায় এই বিষয়ে আর কোন পদক্ষেপ নেন না। ফলে পুকুরে বিষপ্রয়োগে কোটি কোটি টাকার মাছ নিধনকারী এই ইবলিশের মোবাইল ফোনচক্র সারাদেশেই তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ইবলিশের মোবাইল ফোনের এই নেটওয়ার্ক এখন এতোটাই সংঘবদ্ধ যে,থানা পুলিশ কোন কিছুকেই তারা পরোয়া করে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com
Theme Customized By BreakingNews