নতুন এক আলোড়ন সৃষ্টি করলো মির্জাপুর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা

মির্জাপুর(টাঙ্গাইল)থেকে,এম ডি,শামীম: নতুন এক আলোড়ন সৃষ্টি করলো মির্জাপুর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।রাজনীতিতে ছাত্রলীগ যেমন নজীর স্থাপন করেছে তেমনি সামাজিক অঙ্গনেও আলোড়ন সৃষ্টি করলো।
মানুষ মানুষের জন্য,মানবতার জন্যই ধর্ম তারই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সাজেদা বেগম নামে এক বিধবার প্রায় ৬০ শতাংশ জমিতে বোরো ধান রোপন করে দিয়েছেন।কাজটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সাজেদা বেগমের বাড়ি উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বাঁশতৈল গ্রামে।

জানা গেছে,মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বাঁশতৈল গ্রামের দিন মজুর রবিউল হোসেন স্ত্রী সাজেদা বেগম ও ১২ বছরের একটি পুত্র সন্তান রেখে এক মাস আগে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তার বাড়ির পাশে তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় তিন স্থানে প্রায় ৬০ শতাংশ জমি রয়েছে।

ওই জমিতে চাষাবাদ করতে বিধবার কোন লোকবল বা আর্থিক সামর্থ নেই।বিধবা সহায়তা পেতে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির সয়নাপন্ন হন।সর্বশেষ তিনি তরফপুর ইউনিয়নের ডৌহাতলী নিউ ওয়ার্ক স্পোটিং ক্লাবের সদস্যদের অবহিত করেন।বিষয়টি সেখানে উপস্থিত তরফপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ হোসেনের নজরে আসে।

পরে তিনি দরিদ্র বিধবা মহিলাটিকে সহায়তা করার মনস্থির করে। পরে সে নিজেই উদ্যোগী হয়ে তার নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করে গত বুধবার তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে বিধবার পতিত জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন করে দেন।চারা রোপনে তার সাথে জমিতে কাজ করেন,ছাত্রলীগ নেতা রাসেল শিকদার,তৌফিক হোসেন,জাহাঙ্গীর হোসেন,শিপন মিয়া,শামীম আল মামুন ও আশিক।খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়।

তরফপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো.আরিফ হোসেন বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ছাত্রলীগের প্রতিটা নেতাকর্মী মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবে।তারই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে অন্যত্র থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করে দরিদ্র বিধবা মা সাজেদা বেগমের পতিত জমিতে রোপন করে দিয়েছেন।সামনে ওই জমিতে তারা সার ও সংরক্ষনের কাজও করে দিবেন বলে জানান।

মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মীর আসিফ অনিক ও সাধারণ সম্পাদক মো.শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন,লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিটা ছাত্রকে মানুষের সেবায় কাজ করা উচিত।বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী যার যার অবস্থান থেকে দরিদ্রদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন।তারই ধারাবাহিকতায় তরফপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই বিধবাকে সাহায্য করেছে।

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল বলেন,বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিটা নেতাকর্মী লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ড পালনে নিজেদের নিয়োজিত রাখছে।

তারই ধারাবাহিতকায় তরফপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ দরিদ্র বিধমা এক মায়ের পতিত জমি চাষ করে দিয়ে আলোচনায় পরিণত হয়েছে।দরিদ্র বিধবা সাজেদা বেগম বাড়ি না থাকায় ‘যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.