দিনাজপুর পরিবহন মালিক গ্রুপের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে আগরওয়ালা সভাপতি, পিম সাধারণ সম্পাদক


মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের দ্বি-বার্ষিক (২০১৮-২০২০) নির্বাচনে আগরওয়ালা-পিম পরিষদের পূর্ণ প্যানেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে।
জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে শুক্রবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে আগরওয়ালা-পিম প্যানেল মনোনয়নপত্র দাখিল করে। ১৯টি পদের বিপরিতে ওই প্যানেল ছাড়া অন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের নির্বাচনী বোর্ড আগরওয়ালা-পিম পরিষদকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে।
নির্বাচিতরা হলেন-সভাপতি ভবানী শংকর আগরওয়ালা, সহ-সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন, মো. মঞ্জরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ রিয়াজ চৌধুরী পিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী গোলাম রব্বানী, দপ্তর সম্পাদক আহম্মদ শাহ, যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মো. আব্দুস সাত্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মামুনুর রশীদ কচি, কোষাধ্যক্ষ শ্রী সুবল ঘোষ, সড়ক সম্পাদক মো. সাদেক আলী, সহ-সড়ক সম্পাদক এএফএম আশিকুর রহমান চৌধুরী, আভ্যন্তরীন হিসাব নিরীক্ষক অজয় কুমার আগরওয়ালা, যুগ্ম আভ্যন্তরীন হিসাব নিরীক্ষক খন্দকার বেলাল হোসেন, সদস্য মো. আরাফাত হোসেন, মো. হাফিজ উদ্দীন, মো. মিজানুর রহমান, মো. শাহজাহান সিরাজ, মো. মিজানুর রহমান মিজান ও মো. শামিম আজাদ।
দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচনী বোর্ডের নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন এ্যাডভোকেট আশফাক আহম্মেদ ও নির্বাচন বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এ্যাডভোকেট ইকবাল রায়হান হোসেল ও এ্যাডভোকেট শামিম বিন গোলাম পার্ল।

অনুর্ধ্ব-১৭ আন্তঃজেলা বক্সিং প্রতিযোগিতায় দিনাজপুর চ্যাম্পিয়ন

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ যুব গেমসের বিভাগীয় পর্যায়ে অনুর্ধ্ব-১৭ আন্তঃজেলা বক্সিং প্রতিযোগিতায় লালমনিরহাট জেলাকে পরাজিত করে দিনাজপুর জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
শুক্রবার দিনাজপুর বড় ময়দানে বক্সিং প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি মো. আজিজার রহমান। এ সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত মজুমদার ডলার, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আসলাম হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান, সদস্য প্রশান্ত সরকার অরুন, মো. আনোয়রুল ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম সুমি, মাহবুব এবং লালমনিরহাট জেলার বক্সিং কোচ বাবুল খন্দকার ও টিম ম্যানেজার রাজিয়া পারভীনসহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও খেলোয়াড়বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগীয় পর্যায়ে বক্সিং প্রতিযোগিতায় দিনাজপুর জেলা ও লালমনিরহাট জেলা অংশ নেয়। এদের মধ্যে ছেলে ৪টি ও মেয়ে ৪টি ওজন শ্রেনীতে বক্সিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দিনাজপুর জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়। ছেলেদের মধ্যে ৪৪ কেজিতে রেজা, ৪৯ কেজিতে জাহাঙ্গীর, ৫২ কেজিতে পারভেজ, ৫৬ কেজিতে মো. সাব্বির এবং মেয়েদের মধ্যে ৪৪ কেজিতে বৃষ্টি, ৪৬ কেজিতে বিউটি আক্তার, ৪৯ কেজিতে মুন্নি, ৫২ কেজিতে মিনাক্সি প্রথম হয়। ৮টি ওজন শ্রেনীতেই দিনাজপুর জেলার তরুন-তরুনী চ্যাম্পিয়ন হয়। বক্সিং প্রতিযোগিতায় রেফারী ছিলেন জুলফিকার আলী ও শহীদ আলম এবং বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মো. আব্দুল আজিজ ও মো. দুলাল।
মাঠে বিপুল পরিমাণ ক্রীড়ামোদী দর্শক এই বক্সিং প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।

দিনাজপুরে কনকনে শীতে জনজীবন স্থবির

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর প্রদিতিনিধি ॥ দিনাজপুরে গত প্রায় দু’সপ্তাহধরে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় কনকনে শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতের তীব্রতা কমেনি। শনিবার (১৩ জানুয়ারী) দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিনাজপুরে শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গত শুক্রবার ছিল ৭ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুর হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুসহ অন্যান্য প্রাণিকুলও কাহিল হয়ে পড়েছে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শৈত্যপ্রাবাহের কারণে শীতে লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। কাজকর্ম করতে না পারায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষগুলো সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগে পড়েছেন।
সন্ধ্যার পর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘনকুয়াশা থাকায় যানবাহন চলাচল করে ধীর গতিতে। ফলে সব ধরনের যানবাহন দেরীতে পৌঁছে। এছাড়া ট্রেনও বিলম্বে ছেড়েছে এবং পৌঁছেছে বিলম্বে। সংবাদপত্র এসে পৌঁছেছে অন্যান্য দিনের চেয়ে দেরিতে। ঘনকুয়াশার কারণে সকালেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে হয়। এর আগে কয়েক দিন সূর্যের দেখা মিললেও গত তিন দিনধরে সূর্যের দেখা মিলছে না।
এদিকে শীত অব্যাহত থাকায় গরম কাপড়ের দোনানে ভিড় বেড়েছে। নি¤œ-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষগুলো শহরের কাচারী বাজারসহ বিভিন্ন ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন। ফলে ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেচাবিক্রি জমে উঠেছে।
এদিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, দিনাজপুর জেলায় এ পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৮২০ পিস শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দিনাজপুরে শীতের প্রকোপ বেশী হলেও একজন মানুষও শীতে কষ্ট করছে না। শীতার্ত মানুষের শীত লাঘবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে এবং আগামীতে আরো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.