বীর সৈনিক লুৎফর রহমান জীবিকার জন্য পত্রিকার হকার

বগুড়া (দুপচাঁচিয়া) থেকে হাসান মুসা:  বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের বীর সৈনিক লুৎফর রহমান জীবন জীবিকার তাগিদে এখন পত্রিকা বিক্রেতা হকার। তিনি ঢাকার জাতীয় পত্রিকাসহ লোকাল সকল পত্রিকা ফেরি করে বিক্রি করেন। তার সংসারের ভরণ পোষন চালাতে গিয়ে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। ঢাকা থেকে জাতীয় দৈনিক আমাদের বিজয় পত্রিকা বিক্রি কালে গত ১৮ ডিসেম্বর উপজেলা চত্তর থেকে আলোকচিত্র সংগ্রহ করেন বগুড়া জেলা প্রতিনিধি মোছাব্বর হাসান মুসা।

আমি আর কারো কথা বলছি না ডিসেম্বর মাস আসে চলে যায় মুক্তিযোদ্ধারা সম্মান নিয়ে বাড়ী ফিরলেও মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও তার নাম মুক্তিযোদ্ধার গেজেটসহ ভাতার সম্মানটুকুও অর্জন করতে পারেনি, তার ভাগ্যে জোটেনি মুক্তিযোদ্ধার গেজেট ও লালবার্তার সনদ। নওগাঁ জেলার সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল এর সেক্টরে তিনি যুদ্ধ করেছেন।

আমি কথা বলছিলাম বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের আরতাফনগর বালুকা পাড়া গ্রামের মৃত রইচ উদ্দিনের পুত্র লুৎফর রহমান (৭৩) এর কথা। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের কুরমাইন এলাকায় প্রশিক্ষক কর্মকর্তা মেজর (অবসর) আবু তাহের সরকার ও ক্যাম্প ইনচার্জ অধ্যাপক আবু সাঈদ এর নের্তৃত্বে ট্রেনিং করেন। তিনি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেও কেন ভাতা বা গেজভুক্ত হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়কে সু-দৃষ্টি দেয়ার আহবান জানান। তার অস্ত্র জমা দেয়ার স্থান তারিখ সকল নথিপত্র দেখে প্রতিয়মান হয় যে তিনি একজন অসহায় সহজ সরল মুক্তিযোদ্ধা। তার আশা তিনি যেন মরার আগে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হন। তার সংসারে এক মাত্র ছেলে আর সাত টি মেয়ে তিনি অত্যান্ত কষ্ট করে দিনাতিপাত করছেন।তার মেয়েদেও কে বিয়ে দিতে পারছেন না

কারন দুপচাঁচিয়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বার বার বদল হলেও লুৎফর রহমানের তালিকাভুক্ত হবার জন্য সকলেই কথা দিয়ে কেই কথা রাখেনি ৪৬ বছরে। তার বড় আক্ষেপ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের রূপকার মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি অত্যান্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন ভাই আমার বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকা গেজেটভুক্ত করে আমার নামে ভাতা প্রদান করবেন। কারন তার নামে সকল ডকুমেন্ট থাকলেও কেন গেজেটভুক্ত হয়নি তা আমাদের বোধগম্য নয়।

তার এক স্ত্রী চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। বর্তমানে তিনি দুপচাঁচিয়া সি অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ও বিভিন্ন বাসে ঢাকার জাতীয়/লোকাল পত্রিকাগুলি ফেরী করে বিক্রি করেন। তার আগের মত আর রোজগার হয়না বলে তিনি জানান। তার কাছে সকল কমান্ডার টাকা চেয়েছে বলে তিনি জানান। অনেকের টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে। তিনি গরীব কোন টাকা দিতে পারেনি বলে তার নাম গেজেটভুক্ত হয়নি। তিনি এবার অত্যান্ত আশাবাদি বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় আশু এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে রণাঙ্গনের বীর সৈনিক হকার নাম ধারী ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান আশা ও প্রত্যাশা করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.