1. [email protected] : AK Nannu : AK Nannu
  2. [email protected] : arifulweb :
  3. [email protected] : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. [email protected] : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. [email protected] : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  6. [email protected] : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে নেসকো’র নতুন গাড়ি চুরমার(রাজশাহীর আরও 5টি খবর)

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭
  • ২৫ Time View


মঈন উদ্দীন, রাজশাহী ব্যূরো: রাজশাহীতে ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (নেসকো) নতুন প্রাইভেট কার চুরমার হয়েছে। অর্ধকোটি টাকা মূল্যের এ প্রাইভেট কার নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী প্রকৌশলীর ভাই সোমবার দুপুরে নগরীর নওদাপাড়ায় দুর্ঘটনায় পড়েন। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটির নিবন্ধন মেলেনি এখনো। এরই মধ্যে এমন ঘটনায় নেসকো’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িতে প্রকৌশলীর ভাই ড্রাইভিং শিখতে পারেন কী না এবং বিষয়টি কতখনি বিধিসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি নগরীর একটি গ্যারেজে মেরামতের জন্য দেয়া হয়েছে।
গত ৬ নভেম্বর ঢাকার একটি অটোমোবাইল শোরুম থেকে টয়োটা ভিআইওএস-২০১৬ ব্রান্ডের প্রাইভেট কারটি কেনে নেসকো। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যে এ প্রাইভেট কার বরাদ্দ ছিলো উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম, বাণিজ্যিক পরিচালন বিভাগ) ফারুক হোসেন সরকারের জন্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পারিবারিক প্রয়োজনের কথা বলে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ওই প্রায়ভেট কারটি নিয়ে যান সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে সেটি নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় দুর্ঘটনার পড়ে।
নেসকো’তে কর্মরত নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, জাহাঙ্গীর আলম সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে সহকারী প্রকৌশলী হয়েছেন। এর আগে তিনি উপ সহকারী প্রকৌশলী পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি উপ সহকারী প্রকৌশলী সমিতির রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী সংগঠনের নেতা হবার সুবাদে তিনি নেসকো’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর অনৈতিক প্রভাব খাটান। আর প্রভাব খাটিয়েই তিনি ডিজিএম ফারুক হোসেন সরকারের কাছ থেকে প্রাইভেট কারটি জোরপূর্বক নিয়ে যান।
নেসকো’র বাণিজ্যিক পরিচালন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সোমবার বেলা দেড়টার দিকে নগরীর উপকণ্ঠ নওদাপাড়ায় সিটি বাইপাস সড়কে প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের ভাই প্রাইভেট কারে ড্রাইভিং শিখছিলেন। এসময় সঙ্গে ছিলেন প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরও। ড্রাইভিং শেখার একপর্যায়ে একটি গরুবাহী ভটভটিকে সামনা সামনি ধাক্কা দেন প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের ভাই। এতে কারটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সূত্রটি প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের ভাইয়ের নাম জানাতে পারে নি।
এদিকে, নগরীর ডিঙ্গাডোবা এলাকার একটি গ্যারেজে মালিক আনারুল ইসলামকে সহযোগীদের নিয়ে গাড়িটি মেরামত করতে দেখা গেছে। আনারুল ইসলাম বলেন, প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম তাকে গাড়িটি মেরামতের জন্য দিয়েছেন। গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে ভেতরে ঢুকে গেছে। ভেঙে গেছে সামনের কাঁচ। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাম্পার, বনাট, রেডিয়েটর ও এসি। বাকিয়ে গেছে চেসিস।
আনারুল ইসলাম আরো বলেন, গাড়িটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে যাওয়া কাঁচের দাম লাখ টাকার ওপরে। এছাড়া চেসিস, এসি এবং রেডিয়েটের মেরামতে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হবে। ইতোমধ্যে কিছু যন্ত্রাংশ ঢাকা থেকে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে নতুন অবস্থায় আনা সম্ভব না। আর মেরামতেও খরচ হবে কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা।
অপরদিকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়ি ড্রাইভিং শিখতে ভাইকে দিতে পারেন কী না- এ ধরনের প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেন নি সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এর বাইরে কোনকিছু জানতে চাইলে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকে অফিসে এসে যোগাযোগ করতে বলেন।
তবে ডিজিএম ফারুক হোসেন সরকার প্রকৌশলী সমিতির নেতাদের দাপটে অনেকটা অসহায় বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গাড়িটি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর চেয়েছিলেন। আমি না করতে পারি নি। এভাবে অধঃস্থনদের গাড়ি ব্যবহার করতে দেয়া বিধিসম্মত কী না- এ প্রশ্নের উত্তরে কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি এ কর্মকর্তা। চলতি বছরের এপ্রিলে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) ভেঙে দেশজুড়ে ছয়টি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি গঠন করে সরকার। এর আওতায় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলা মিলে গঠিত হয় নেসকো।

রাজশাহীতে এসএসসির ফরম পূরণে নানা অজুহাতে আদায় হচ্ছে বাড়তি টাকা

রাজশাহী ব্যূরো: রাজশাহীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এসএসসি ফরম পূরণে নানান অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অভিভাবক মহলে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ এছাড়া গরিব শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা পড়েছেন বিপাকে।
রাজশাহীর পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি ও পরীক্ষায় ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায় করা হয়েছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকা পর্যন্ত। শেসন ফি, কেন্দ্র ফি, বোর্ড ফিসহ নানা অজুহাতে শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত টাকার বাইরেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে এ বিদ্যালয়টিতে।
এ নিয়ে পরীক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করে আসলেও কোনো লাভ হয়নি। স্কুল থেকে নির্ধারিত ফি দিয়েই ফরম পূরণ করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। ফলে টাকার অভাবে অনেক গরিব শিক্ষার্থীর বাবা-মাকে ধার-দেনার মধ্যেও জড়িয়ে পড়তে হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক শিক্ষার্থী থেকে গড়ে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা হারে বেশি আদায় করা হয়েছে। একইভাবে উপজেলার এসআর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও একই হারে অর্থ আদায় করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ক্ষেত্রে রাজশাহী জেলার কোনো স্কুলেই শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফি আদায় করা হয়নি। প্রত্যেকটি স্কুলেই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদায় করা হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্তও। ফলে ফরম পূরণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক গরিব শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা।
তবে পুঠিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডের বাইরে শুধু কেন্দ্র ফি ধরা হয়েছে। আর কিছু টাকা ধরা হয়েছে স্কুলের শেসন ফি বাবদ। এর বাইরে কোনো ফি আদায় করা হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা কেউ কোনো অভিযোগ করলে সেটি ঠিক নয়।’
একই দাবি করেছেন পুঠিয়া উপজেলার এসআর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিবলী খাতুন। তিনি বলেন, আমরা কোনো অতিরিক্ত টাকা আদায় করিনি। এটা কেউ বলতেও পারবে না।’
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সূত্র মতে, ২০১৮ সালের এএসসি পরীক্ষার জন্য এবার অনলাইনে ফরম পূরণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ৭ থেকে ১২ নভেম্বর পর্য। তবে বিলম্ব ফি দিয়ে ১৪ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ফরম পূরণ করার কথা বলা হলেও পরবর্তিতে বিলম্ব ফিসহ সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার মানবিক বিভাগের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ১১০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ২১০।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফরম পূরণে প্রতি পত্রের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ টাকা। প্রতি পত্রের ব্যবহারিক ফি ৩০ টাকা, শিক্ষার্থীপ্রতি ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ৩৫ টাকা, মূল সনদ ফি ১০০ টাকা, স্কাউট ও গার্লস গাইড ফি ১৫ টাকা, শিক্ষা সপ্তাহ ফি পাঁচ টাকা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রতি বার্ষিক ক্রীড়া অ্যাফিলিয়েশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ টাকা।
এ ছাড়া ব্যবহারিক নেই এমন শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র ফি ২৫০ টাকা এবং যাদের ব্যবহারিক আছে তাদের ফি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ১০০ টাকা ফি দিতে হবে। ফলে সব মিলিয়ে একজন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের জন্য মানবিক বিভাগের একজন শিক্ষার্থীতে দিতে হবে সর্বোচ্চ এক হাজার ৩৭০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য সর্বোচ্চ ফি দিতে হবে এক হাজার ৫৫০ টাকা। কিন্তু রাজশাহীর সব স্কুলের বোর্ডের সেই নিয়ম তোয়াক্কা না করে দ্বিগুন-তিনগুন টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে। এতে করে অনেকে গরিব শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা পড়েছেন বিপাকে।
জানতে চাইলে রাজশাহী নগরীর নজমুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, বোর্ডের বাইরেই টাকা আদায় করা হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ তা শোনেনি। টাকা কমানোর জন্য অনুরোধ করেও লাভ হয়নি।’
আরেক অভিভাবক বলেন, রাজশাহী নগরী থেকে থেকে শুরু করে জেলার প্রত্যেকটি স্কুলে অতিরিক্ত হারে অর্থ আদায় করা হয়েছে বা এখনো হচ্ছে। অনেক অভিভাবকরা অতিরিক্ত টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে ধার-দেনার মধ্যেও জড়িয়েছেন।
এসএসি পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি আদায় সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তরুণ কুমার সরকার বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার ফরম নির্ধারিত ফি সংক্রান্ত বিষয় শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। এর বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান টাকা আদায় করলে এবং সে বিষয়ে অভিযোগ উঠলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।

রাজশাহীর বাঘা পৌর নির্বাচন : ৪ মেয়রসহ ৫৯ প্রার্থীর মনোনয়ন উত্তোলন

বাঘা প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘা পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন সহ সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনে ৫৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র উত্তোলন করেছেন। মেয়র পদে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আক্কাছ আলী, বাঘা পৌর জামায়াতের আমির প্রভাষক সাইফুল ইসলাম, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মুসা । এছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ আসনে ৪১ জন ও সংরক্ষিত নারি আসনে ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন। বুধবার অফিস চলাকালিন সময়ে এসব মেনানয়নপদ্র উত্তোলন করা হয়।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারি রিটারিং অফিসার মজিবুল আলম জানান, আগামী ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ২৭ নভেম্বর । মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাই ২৮ ও ২৯ নভেম্বর । প্রার্থীতা প্রত্যাহার ৬ ডিসেম্বর । প্রতীক বরাদ্দ ৭ ডিসেম্বর । পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৮৯। এরমধ্যে পরুষ ভোটার ১৪ হাজার ১৭। নারী ভোটার ১৩ হাজার ৭৭২।

 

রাজশাহীতে পিস্তলসহ মেয়রের সহদরকে আটক করা সেই এএসআই পুরুস্কৃত

পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় পিস্তলসহ কাটাখালি পৌর মেয়রের ভাই ও পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম মানিক (৩৫) কে আটক করা পুঠিয়া থানার এএসআই মোকাদ্দেসকে আলীকে পুরুস্কৃত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলা পুলিশ এ পুরুস্কার প্রদান করেন।
পুরুস্কার স্বরুপ সহ-উপ পরিদর্শক (এএসআই) মোকাদ্দেস আলীকে সম্মাননা ও অর্থ পুরুস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও অক্টোবর মাসে জেলার সবচেয়ে বেশি গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতার করায় জেলার শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত হন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সায়েদুর রহমান ভূইয়া। ওসি জানান, আজ বেলা ১২ টায় রাজশাহী জেলা পুলিশের আয়োজনে ও জেলা পুলিশ সুপার মহদয়ের সভা কক্ষে জেলার সবকটি থানায় চলতি বছরের অক্টোবর মাসে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক উদ্ধার ও গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় পুরুস্কার প্রদানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার পুঠিয়া থানার এএসআই মোকাদ্দেস আলীকে গ্রেফতারি পরোয়ানায় জেলার শ্রেষ্ঠ পুরুস্কার প্রদান করা হয়।
পুরুস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পুঠিয়া সার্কেল আবুল কালাম সাহিদ, পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সায়েদুর রহমান ভূইয়া প্রমুখ।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য পালনের প্রস্তুতি সভা

রাজশাহী ব্যূরো: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ” মেমোরী অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিষ্টার ” এ অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে ” বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য” স্বীকৃতি লাভ করে। এ অসামান্য অর্জনকে যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামী ২৩ নভেম্বর পালন করার জন্য প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ নেওয়াজের সভাপতিত্বে উপজেলা অডিটরিয়ামে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ইসহাক।
উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান, গোদাগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল আমিন, গোগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান, দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন, চর আষাড়িয়াদহ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সানাউল্লাহ, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা হোসেন, বাসুদেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বেবী, গোদাগাড়ী কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী, গোদাগাড়ী প্রেস ক্লাব দপ্তর সম্পাদক আব্দুল বাতেন, উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
প্রস্তুতি সভায় আগামী ২৫ নভেম্বর সকাল ১০ টায় উপজেলা ক্যাম্পাস হতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাজে শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহন, যাদ্যযন্ত্র দল থাকা, গরুর গাড়ী শোভাযাত্রা, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন বাজানো, বিভিন্ন প্লেকার্ড প্রদর্শন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয় বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

রাজশাহীর বাঘায় ‘চলতি মৌসুমে ১০ কোটি টাকার গুড় বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা’

রাজশাহী ব্যূরো : রাজশাহীর বাঘায় শুরু হয়েছে খেজুর গুড় ও রস সংগ্রহের উৎসব। এ উপজেলার প্রধান অর্থকারী ফসল আমের পরেই খেজুরের গুড়ের স্থান। এখানকার গুড়ের সুনাম ও চাহিদা রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে। চলতি শীত মৌসুমে প্রায় ১০ কোটি টাকার খেজুরের গুড় বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উৎপাদন শুরু করেছেন স্থানীয় গাছিরা। আর গুড়ের বাণিজ্যিক উৎপাদনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বাঘায় খেজুরের গুড়ের যে বাণিজ্যিক উৎপাদনতা এই অঞ্চলের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিরাট ভুমিকা পালন করছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, এ উপজেলার ২টি পৌরসভা বাঘা ও আড়ানী এবং ৭টি ইউনিয়ন বাজু বাঘা, দাদাপুর গড়গড়ি, পাকুড়িয়া, মনিগ্রাম, বাউসা ও আড়ানীতে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার কৃষি ও খেজুরের গুড়ের উপর নির্ভরশীল। যাদের প্রত্যেকেরই কম বেশি খেজুর গাছসহ এ অঞ্চলে ছোট-বড় প্রায় ৩ হাজার খেজুর বাগান রয়েছে। এ ছাড়া সড়কপথ, রেললাইনের ধার, পতিত জমি, জমির আইল ও বাড়ির আঙ্গীনায় মিলে রয়েছে আরো লক্ষাধিক খেজুর গাছ।
স্থানীয় লোকজন জানান, একজন গাছি প্রতিদিন অর্ধ শতাধিক খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করতে পারেন। চলতি শীত মৌসুমে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি গাছি খেজুরের রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। একজন গাছি এক মৌসুমে অর্থাৎ ১২০ দিনে ১টি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি গুড় পেয়ে থাকেন। খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। এ গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচও করতে হয় না। ঝোপ-জঙ্গলে কোনো যতœ ছাড়াই বড় হয়ে ওঠে খেজুর গাছ। শুধু মৌসুম এলেই নিয়মিত গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেই রস দিয়ে তৈরী করা হয় সুস্বাদু গুড়।
স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক গোলাম পাঞ্জাতন জানান, গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ থেকে সুমধুর রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হবে গুড়-পাটালি তৈরির উৎসব। গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা, পায়েস, মুড়ি-মুড়কী ও নানা রকমের মুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম পড়বে। সকালে এবং সন্ধ্যায় কাঁচা রস খেতে খুবই মজাদার। রসে ভেজা পোড়া পিঠার (চিতই পিঠা) স্বাদই আলাদা। ঝোলা ও দানা গুড়ের সুমিষ্ট গন্ধেই যেন হয়ে যায় অর্ধ ভোজন।
উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার কৃষক সায়েম উদ্দীন ও আব্দুর রশিদ জানান, তাদের প্রায় তিন শতাধিক খেজুর গাছ রয়েছে। এই গাছ গুলো লাগানোর জন্য তিনি দু’জন গাছি নিয়োগ করেছেন। যারা নিয়মিত গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরী করছেন। তাদের মতে, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বাঘা উপজেলার আমের যে খ্যাতি রয়েছে অনুরুপ খ্যাতি রয়েছে এখানকার সু-মিষ্টি খেজুরের গুড়ের। তারা সপ্তায় তিনদিন বাঘার হাটসহ মনিগ্রাম বাজারে নিজে ব্যবসায়ীদের কাছে গুড় বিক্রী করে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা আয় করবেন বলে জানান। অনুরুপ কথা বলেন, বানিয়া পাড়া গ্রামের কৃষক আজাহার আলী।
উপজেলার মনিগ্রাম বাজারের প্রবিন গুড় ব্যবসায়ী ও মনিগ্রাম ৭ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি আব্দুল মোমেন সরকার এবং মনিগ্রাম ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গুড় ব্যবসায়ী আইনাল হক পিন্টু জানান, বাঘা একটি কৃষি প্রধান এলাকা। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসলের মধ্যে খেজুর গাছ একটি মুল্যবান সম্পদ। তাদের মতে, অত্র অঞ্চলের চরাঞ্চল থেকে শুরু করে সমতল এলাকায় যার তিন কাঠা জমি রয়েছে তারও দু’টি খেজুর গাছ রয়েছে। তিনারা আরো বলেন, এই খেজুর গাছের গুড় থেকে এ অঞ্চলের মানুষ প্রতি শীত মৌসুমে আনুমানিক ৮-১০ কোটি টাকা আয় করে থাকেন।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, আমরা কৃষকদের মাঝে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এ ছাড়া পরিকল্পিত ভাবে পতিত জমিতে খেজুর গাছ লাগানো গেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও গুড় রপ্তানি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হবে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com

Developed By Pigeon Soft