1. [email protected] : AK Nannu : AK Nannu
  2. [email protected] : arifulweb :
  3. [email protected] : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. [email protected] : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. [email protected] : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  6. [email protected] : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধা ও সুন্দরগঞ্জে আনন্দ র‌্যালী ও মিষ্টি বিতরণ

  • Update Time : বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
  • ২০ Time View

ফারুক হোসেন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: সুন্দরগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা ৭১’র যুদ্ধাপরাধী আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ৬ আসামির ফাঁসির আদেশ হওয়ার খবর শোনার সাথে সুন্দরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফুর্ত আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে। এব্যাপারে তাৎক্ষনিক সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধায় মিষ্টি বিতরণ ও পৃথক পৃথক আনন্দ র‌্যালী বের করা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ এসব আনন্দ র‌্যালীতে অংশ নেয়। র‌্যালী শেষে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। রায় ঘোষণার পর সুন্দরগঞ্জের কোথাও কোন অপ্রীতির ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বরং সর্বত্র স্বস্তি এবং শান্তি শৃংখলা বিরাজ করে।

ফাঁসির রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, মামলার সাক্ষী ধর্মপুর ও মজুমদার গ্রামের আব্দুর রশিদ, রফিকুল ইসলাম, রাজা মিয়া এবং সুন্দরগঞ্জের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এমদাদুল হক বাবলু ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা সাজেদুল হক। তারা বলেন, স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর আ’লীগ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগেই এই স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার সম্ভব হয়েছে। এই রায়ে তারা অত্যন্ত খুশি এবং আনন্দিত। সেইসাথে পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করে এই ফাঁসির আদেশ যাতে অবিলম্বে কার্যকর করা হয় তারও দাবি জানান তারা। পাশাপাশি এই মামলার সাক্ষী ও নিহতের পরিবার-পরিজনদের জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী চক্রের হামলার হাত থেকে নিরাপত্তা বিধানেরও দাবি জানানো হয়।

৭১’র মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ে ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই ফাঁসির আদেশ দেন। মামলার রায়ে আব্দুল আজিজসহ অন্য যে ৫ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে তারা হলেন- মো. রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১), মো. আব্দুল লতিফ (৬১), আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী (৫৯), মো. নাজমুল হুদা (৬০) ও মো. আব্দুর রহিম মিঞা (৬২)। আসামিরা সকলেই পলাতক। একমাত্র আব্দুল লতিফ জেলহাজতে আটক রয়েছে।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ এই মামলার বাদি ও স্বাক্ষীদের ভয়ের কোন কারণ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশকে তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোন দুষ্ট চক্র যাতে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে জননিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে।

:ফাঁসির আসামিদের বিরুদ্ধে যত মামলা:
উল্লেখ্য, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল আজিজ মিয়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চার দলীয় জোটের অধীনে জামায়াত থেকে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাসহ ১৩টি মামলা হয়।
সুন্দরগঞ্জ থানা শাখার জামায়াতের সক্রিয় সদস্য রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জুর বিরুদ্ধে দুটি মামলা, উপজেলা জামায়াত নেতা আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে তিনটি, ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে দুটি, নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে দুটি এবং জামায়াত কর্মী আব্দুর রহিম মিঞার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুটি মামলার বিচার করে মানবতা বিরোধী ট্রাইব্যুনাল এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

:৭১’ এ আসামিদের সকল অপকর্ম:
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো- একাত্তরের ৯ অক্টোবর সকালে আসামিরা পাকিস্তানের দখলদার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সদর থানার মৌজামালি গ্রামে হামলা চালিয়ে চারজন নিরীহ, নিরস্ত্র স্বাধীনতার পক্ষের মানুষকে আটক, নির্যাতন ও অপহরণ করে। পরে তাদের দাঁড়িয়াপুর ব্রিজে নিয়ে গিয়ে একজনকে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে এবং বাকিদের ছেড়ে দেয়। আসামিরা আটকদের বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন করেন।
আসামিরা একইদিন বিকেল ৪টায় সুন্দরগঞ্জ থানার মাঠেরহাট ব্রিজে পাহারারত ছাত্রলীগের নেতা মো. বয়েজ উদ্দিনকে আটক করে মাঠেরহাটের রাজাকার ক্যা¤েপ নিয়ে নির্যাতন করে এবং পরদিন সকালে আসামিরা বয়েজকে থানা সদরে স্থাপিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যা¤েপ নিয়ে যায়। তিনদিন আটক রেখে নির্যাতনের পর ১৩ অক্টোবর বিকেলে পাকবাহিনী তাকে গুলি করে হত্যা করে। ১০ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত আসামিরা পাকিস্তান দখলদার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সুন্দরগঞ্জ থানার পাঁচটি ইউনিয়নের নিরীহ-নিরস্ত্র স্বাধীনতার পক্ষের ১৩ জন চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে অবৈধভাবে আটক করে। তাদের তিনদিন নির্যাতন করার পর পাকিস্তানি সেনাদের ক্যা¤েপর কাছে নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে। সেখানে ওই শহীদদের স্মরণে একটি বধ্যভূমি নির্মিত হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com

Developed By Pigeon Soft