1. [email protected] : AK Nannu : AK Nannu
  2. [email protected] : arifulweb :
  3. [email protected] : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. [email protected] : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. [email protected] : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  6. [email protected] : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

দিনাজপুরের হাবিপ্রবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

  • Update Time : বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
  • ১৬ Time View


মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর প্রতিনিধি: হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভিসি প্রফেসর ড. মু আবুল কাসেমকে লাঞ্চিত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্নকারী স্বার্থাস্বেষেী মহলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা হতে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচী পালন করে। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দিনাজপুর তথা উত্তরবঙ্গের ঐতিয্যবাহি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাবিপ্রবির ঐতিয্য ও সুনাম নষ্ট করতে চায়, পরিবেশ ও উন্নয়ন ব্যাহত করতে চায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোণঠাসা করে রাখতে চায়। ওই স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে লুটপাট, তেলচুরি, ভুয়া ডিগ্রি প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণের দাবী জানানো হয়।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্যে হাবিপ্রবির প্রবিন শিক্ষক পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিগত ২৭-০৯-২০১৬ তারিখে হাবিপ্রবির ভিসির পদশূন্য হওয়ার পর অনেক যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, সৎ ও সাহসী ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেমকে গত ২ ফেব্রুয়ারী-২০১৭ তারিখে চার বছরের জন্য ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদান করার প্রথম দিন থেকেই প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের ব্যানারে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে অসহযোগিতা ও বিরক্ত করে আসছেন।

চলতি মাসে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের ভর্তি পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং নূন্যতম সময়ে ফলাফল প্রকাশিত হয়। কিন্তু প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের কাল্পনিক তথ্যের ভিত্তিতে এই ফলাফল বিপর্যের কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের সুনাম ও ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পরীক্ষার ১ মাস ৩ দিন পূর্বে প্লাজমিড প্লাস নামের একটি ভর্তি সহায়িকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ছাত্রদের অনুরোধ উপস্থিত ছিলেন। যার সাথে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কোন সম্পর্ক নেই। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে তিনি মিডিয়াতে তার বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহলটি ভর্তি পরীক্ষার কোন গাইডের মোড়ক উন্মোচনকে কেন্দ্র প্রক্টর গাইড বাণিজ্যের সাথে জড়িত মর্মে অভিযোগ তুলে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ১৮ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ অসত্য বলে দাবী করে প্রফেসর মিজানুর রহমান বলেন, প্রতি ইউনিটে আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিগত ২০১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিফট পদ্ধতির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া শুরু হয়েছিল সাবেক ভিসি প্রফেসর মো. রুহুল আমিনের সময় থেকে এ পদ্ধতি শুরু হয়ে অদ্যবধি প্রচলিত রয়েছে। ফলে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে কোন অস্বাভাবিকতা হয়নি।
হাবিপ্রবি’র ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ডা. এসএম হারুন-উর-রশীদ প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অযৌক্তিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ ব্যাপারে ভাইস চ্যান্সেলর তার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কথা বলে তাকে প্রশাসনিক সহযোগিতা করার বাধ্যবাধকতার বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দেন। কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনসহ হাবিপ্রবি তথা সরকারের সুনাম ও ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন করার বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যান।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সোমবার (২০ নভেম্বর) ডা. এসএম হারুন-উর-রশীদকে অব্যাহতি দিয়ে প্রফেসর ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন খানকে ওই পদে দায়িত্ব দেন। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনার জন্য একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ওইদিন বিকেলে প্রফেসর ড. মো. আনিস খান ও প্রফেসর ড. বলরাম রায়ের নেতৃত্বে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের একটি দল পূর্বানুমতি ছাড়াই ভাইস চ্যান্সেলরের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে এবং প্রফেসর ড. এস এম হারুন-উর-রশীদকে পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি পত্র প্রত্যাহার করার দাবি জানান।
ভিসি প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম তাদের পরদিন আলোচনার কথা বললেও তারা তাতে কর্ণপাত না করে ভিসির কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। এ অবস্থায় প্রায় ৩ ঘন্টা সময় কেটে যায়। তারা ভিসির অফিস কক্ষে অবস্থান করার কথা বলে সকলকে নিয়ে ফ্লোরে বসে ও শুয়ে পড়েন। ভিসিকে লাঞ্চিত করেন ও তাঁর কক্ষে ভাংচুর করেন।
এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থরে পৌঁছে ভিসি ও অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দকে অবরুদ্ধ অবস্থা হতে মুক্ত করেন। এতে ছাত্রদের সাথে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে স্বার্থান্বেষী মহলের হাত থেকে বাঁচাতে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। লিখিত বক্তব্যে স্বার্থান্বেষী ওই মহলের হাত বিশ্ববিদ্যলয়কে বাঁচানো ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণের দাবী জানান প্রফেসর মিজানুর রহমান।
মানববন্ধন ও সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন খান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের ডীন প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হক, সহকারী প্রক্টর সৌরভ পাল চৌধুরী, পিএস টু ভাইস চ্যান্সেলর ও সেকশন অফিসার মোহাম্মদ সামসুজ্জোহা বাদশা, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী নিশাত সুলতানা, কর্মচারী মো. আব্দুর রহিম, শ্রমিক নেতা মো. রাজু আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা ভেটেরিনারি অনুষদের লেভেল-৫ এর ছাত্র মো. মারুফ, কৃষি অনুষদের লেভেল-৪ এর ছাত্র রিয়াদ খান, কৃষি অনুষদের লেভেল-৩ এর সাধারণ শিক্ষার্থী সাদিয়া ইয়াসমিন প্রমূখ।
উল্লেখ্য, হাবিপ্রবি) ছাত্র উপদেষ্টা বিষয়ক শিক্ষক প্রফেসর ড. হারুন উর-রশিদকে অব্যাহতি দেয়ার প্রতিবাদে ভিসিকে ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের নেতারা। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেল ৪টায় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সদস্যরা ভিসিকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে ভিসির সমর্থক শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ করে রাখা শিক্ষকদের সড়িয়ে দিয়ে ভিসিকে মুক্ত করে আনেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হামলায় ৬ শিক্ষক আহত হন। আহত শিক্ষকরা হলেন-হাবিপ্রবি প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম নেতা শাজদিক আহমেদ, হাফিজ আল আমীন পলাশ, হাসান জামিল, মাসুদ ইবনে আফজাল, আতিকুল হক ও রুবাইয়াত হাসান। আহত শিক্ষকদের মধ্যে ৪ শিক্ষককে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com

Developed By Pigeon Soft