1. [email protected] : AK Nannu : AK Nannu
  2. [email protected] : arifulweb :
  3. [email protected] : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. [email protected] : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. [email protected] : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  6. [email protected] : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

সিরাজগঞ্জে রিকশার প্যাডেলে ঘুরছে শিশু ভ্যান চালক রবিউল ও সজিবের ভাগ্য

  • Update Time : সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ১৯ Time View

03সিরাজগঞ্জ থেকেএইচ.এম মোকাদ্দেস : রিকশার প্যাডেলে ঘুরছে শিশু রিক্্রাভ্যান চালক রবিউল ও সজিবের ভাগ্য। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের মহারাজপুর গ্রামে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া হতদরিদ্র আলমাসের দুই কোমলমতি শিশু রবিউল ও সজিব। তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর ৭ মাস ধরে সংসারের ঘানি টানতে তারা এখন রিক্রাভ্যান চালক। অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে দু‘ভাইয়ের লেখাপড়া । কিন্তু  তারা আবারও লেখাপড়া করতে চায়।

জানাযায়, হত দরিদ্র রিক্সা-ভ্যান চালক আলমাসের সাত মাস আগে ক্যান্সার রোগ ধরা পরে। উপায় অন্ত না থাকায় তার চিকিৎসা ব্যয় ও সংসারের খরচ যোগাতে অষ্টম শ্রেণিতে পড়–য়া রবিউল ইসলাম (১৪) ও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়–য়া সজিব (১৩) বইখাতা ফেলে ও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে বাবার রিক্সা-ভ্যান চালাতে শুরু করে। সারা দিন রিক্সার প্যাডেল মেরে যে আয় হয় তা দিয়ে চলে ক্যান্সার আক্রান্ত বাবার চিকিৎসা। এর পরেও শেষ রক্ষা হয়নি। গত ১১ নভেম্বর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তাদের বাবা আলমাস।

এখন সংসারের বোঝা তাদের দু‘ভাইয়ের কাধে। সংসার চালাতে তাই তারা এখন রিক্সা চালক। ফলে লেখাপড়া ও স্কুলে যাওয়া বাদ দিয়ে এই বয়সেই তাদের দু‘ভাইয়ের সংসারের ঘানী টানতে হচ্ছে।  কিন্তু তারা এখনও লেখাপড়া করতে চায়। সংসারের অভাবের কারণে ইচ্ছা থাকা সত্বেও তারা আর পড়পলেখা করতে পাড়ছে না। নিহত আলমাসের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানায়, অভাবের সংসার। তবুও সুখ ছিল। ভ্যান চালিয়ে আলমাস যখন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও  সন্তানদের  নিয়ে আড্ডায় মেতে উঠতো। সারাদিনের জমানো কথা নিয়ে চলতো নানা হাসিঠাট্টা। এসবের মাঝেও খোঁজ রাখতেন সন্তনদের লেখাপড়ার। ঠিকমতো তারা স্কুলে যাচ্ছে কিনা বা স্কুলে কারো বেতন বকেয়া আছে কিনা তার খোজ নিতো সব সময় বাবা আলমাস ।

কোনো দিন এমনও হতো  সকালে ভ্যান নিয়ে কাজে বের হওয়ার সময় দুই সন্তানকে ভ্যানে তুলে নিয়ে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে তারপর কাজে যেতো। আর এমন অভাবের মাঝেও দুই ভাই তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিল ভালো ভাবেই। তিনি আরো বলেন, সাত মাস আগে হঠাৎ করে তার স্বামী আলমাস অসুস্থ হয়ে পড়ে। থমকে যায় পরিবারের চাকা। ভ্যানের চাকা ঘোরা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে তাদের আদরের দু‘সন্তানের লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে যায়।এলাকাবাসীর সহযোগিতায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আলমাসকে নেয়া হয় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ধরা পড়লো আলমাস ক্লোন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে বলা হলো তাকে ২১ দিন পর পর তিন মাস কেমো থেরাপি দিতে হবে। প্রতিবার থেরাপির জন্য খরচ হবে ৮ হাজার টাকা। এভাবে মোট ৬টি থেরাপি দিতে হবে ।

এরপর সংসারে অভাবের মাত্রা আরো বেড়ে গেল। তারা চোখে-মুখে অন্ধকার দেখতে লাগলো। এসময় তাদের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেয় সামাজিক সংগঠন সার্কেল শাহজাদপুরের একদল তরুণ যুবক। তারা তাকে রক্ত দিয়ে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অর্থ সাহায্য তুলে চিকিৎসা ব্যয় বহনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগলো। কিন্তু ক্যান্সারে আক্রান্ত আলমাসের শেষ রক্ষা হলো না।  শেষ পর্যন্ত রিক্্রা চালক আলমাস গত ১১ নভেম্বর মারা যান। সংসারের বোঝা মাথায় নিয়ে দুই ভাই জীবন জীবিকার তাগিদে বাবার রেখে যাওয়া ভ্যান রিক্্রাটি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো। সেই থেকে এই দুই ভাই এখন রিক্্রাভ্যান চালক। কিন্তু ওরা এখনও লেখাপড়া করতে চায়। সার্কেল শাহজাদপুর সংগঠনের ফারুক হোসেন, কাহার, রাজীব ও রাসেল জানায়, আলমাসের চিকিৎসার সময় পরিবারটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বেশ কিছু টাকা ঋণী হয়ে গেছে। তাই ওরা দুই ভাই এখন ভ্যান চালিয়ে সে সব ঋণ পরিশোধ করছে এবং সংসার খরচ চালাচ্ছে।  বাবার রেখে যাওয়া ভ্যান নিয়ে প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়  আর কাজ শেষে অনেক রাতে বাড়ি ফেরে।

কিন্তু পড়ালেখার নেশা তাদের ছাড়েনি। তাই রোজ রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে দুইভাই বইখাতা নিয়ে পড়তে বসে। গভীর রাত পর্যন্ত পড়ালেখা করে ঘুমিয়ে পরে। এরপর সকালে আবার বের হয় ভ্যান নিয়ে। এ ভাবে চলছে রিক্্রা ভ্যানচালক দু‘ভাই রবিউল ও সজিবের জীবন। সামাজিক সংগঠন সার্কেল শাহজাদপুরের পক্ষ থেকে কাহার ও রাজিব বলেন, হৃদয়বান ব্যক্তিরা যদি ওদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে ওরা আবার স্কুলে যেতে পারবে, আবার লেখাপড়া করতে পারবে। হয়তো সকলের সহযোগীতায় লেখাপড়া শিখে ওরাও একদিন বড় মাপের মানুষ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারবে। তাই তারা সমাজের বিত্তবানদের নিকট ওদের পাশে দাঁড়ানোর আহব্বান জানিয়েছেন। শিশু রিক্্রাভ্যান চালক রবিউল ও সজিব জানায়, তারা দুইভাই আবার স্কুলে যেতে চায়।

কিন্তু এখন স্কুলে গেলে তাদের সংসারের সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে। তাই ইচ্ছা থাকা সত্বেও তারা স্কুলে যেতে পারছে না।রবিউল ও সজিবের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার ছেলেরা স্কুল বাদ দিয়ে ভ্যান চালাচ্ছে। এ দেখে আমার বুক ফেটে যায়। কিন্তু আমি অসহায় ছেলেদের জন্য কিছুই করতে পারছিনা। আমার স্বামীর খুব ইচ্ছে ছিল ছেলেদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার। কিন্তু অভাবের জন্য তা আর পারলাম না। দুই ভাইকে বাধ্য হয়েই ওর  বাবার রেখে যাওয়া রিক্্রাভ্যান চালাতে হচ্ছে। তাই এখন রিকশার প্যাডেলে ঘুরছে ওদের ভাগ্য। ওদের পড়ালেখার খরচের জন্য সহৃদয়বান ব্যক্তিদের নিকট মনোয়ারা বেগম সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com

Developed By Pigeon Soft