রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

 

 

 

 

 

 

রাজশাহী থেকে মঈন উদ্দীন: রাজশাহী নগরীতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধমীয় ভার গাম্ভির্যের মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মঙ্গলবার সকাল থেকেই নগরীতে এ উপলক্ষে ধর্মীয় শোভাযাত্রা জশনে জুলুস বের হয়। বিভিন্ন মসজিদ ও সংগঠন এর আয়োজন করে। পরে সেগুলো নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সকালে নগরীর শিরোইল কলোনী বাইতুল মামুর ও আনজুম আশরাফিয়া নগরীতে জশনে জুলুস বের করে। এরপর পরই খানকায়ে গাউসুল আযম গাউসিয়া, তালীমে কুরআন তামাউয়াফি মাদ্রাসা এবং ইস্কে নবী ভক্তবৃন্দ নগরীতে আলাদা শজনে জুলুস বের করে।
এছাড়া দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে নগরীর কেন্দ্রীয় শাহমখদুম (রহ.) দরগা মসজিদে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল, হামদ ও নাত প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশন, রাজশাহী ও ইসলামী মানবকল্যাণ সংস্থা একই অনুষ্ঠান পালন করছে। এ উপলক্ষে বাদ মাগরিব নগরীর নগরীর বিভিন্ন মসজিদে মহানবী (সা:) এর জীবনাদর্শের অনুসরণ ও অনুশীলনের উপর গুত্বারোপ করে বিশেষ আলোচনা ও দোয়া মহাফিল অনুষ্ঠিত হবে। পরে মুসলিম উম্মার অব্যহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হবে।
এদিকে, পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাণী প্রদান করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম। বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক শৃঙ্খল সভ্যতার উন্মেষ, আদর্শ সমাজ, কল্যাণকর রাষ্ট্র, চরিত্রবান মানব গঠনে যিনি সর্বকালে শ্রেষ্ঠ অবদান রেখেছেন, তিনি আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। পৃথিবীর আদম সন্তান হিসেবে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ উত্তম চরিত্রের অধিকারী, শ্রেষ্ঠ সমাজসেবী, শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক, শ্রেষ্ঠ দার্শনিক। মহান আল্লাহ্তায়ালা আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে ৫৭০ সালের ১২ রবিউল আউয়াল আরব নগরীর কুরাইশ বংশে হাশেমী গোত্রে পিতা আব্দুল্লাহ ও মা আমিনার সন্তান হিসেবে তাঁকে প্রেরণ করেছিলেন বিশ্ববাসীকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখানোর উদ্দেশ্যে।
মহানবীর পার্থিব জীবনের স্বল্প আয়ু ৬৩২ সালের ১২ রবিউল আউয়াল শেষ হলেও মহাগ্রন্থ আল কোরআন ও সুন্নাহ্র আলোকে তাঁর মিশন চলমান থাকবে কেয়ামত পর্যন্ত। ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সবাইকে আল কোরআন ও সুন্নাহ্ আলোকে জীবন গড়ার আহবান জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র।
অন্যদিকে, দিবসটি উপলক্ষে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ কালেমা তৈয়ব খতিচ পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এতিমখানা সমুহে উন্নত মানের খাবার পরিবশেন করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর নগরীর বিভিন্ন মসজিদ ও গুরুত্বপূর্ণ ভবন সমূহে আলোকসজ্জা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.