টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

 

 

 

1475516729 টাঙ্গাইল থেকে মোঃ ফরমান শেখ : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার রুহুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৩) ইভটিজিংয়ের অপমান সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে নিজ শয়ন কক্ষে সে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রুহুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে স্থানীয় রুহুলী পূর্ব পাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে শাকিল, জয়েন উদ্দিনের ছেলে হোসেন আলী, মুসা মিঞার ছেলে সোহাগসহ আরো বেশ কয়েকজন বখাটে তাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যাক্ত করে আসছিল। ছাত্রীর বাবার বসুন্ধরা গ্রুপে চাকরির সুবাদে মা-বাবা দু’জনেই ঢাকায় অবস্থান করে। দাদীর কাছে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল সে। উত্যাক্তের বিষয়টি ছাত্রীর দাদী বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকা আনোয়ারা বেগমকে অবহিত করেন।

কিন্তু বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওই বখাটেদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে তারা। সম্মানহানির ভয়ে রোববার চলমান বার্ষিক পরীক্ষা দেয়া থেকে বিরত থাকে সে। সোমবারও যথারীতি পরীক্ষায় দেয়া থেকে বিরত থাকে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পেরে ক্ষোভ আর কষ্টে সকাল ১০টার দিকে নিজ শয়ন কক্ষে গলায় ফাঁস দেয়। এসময় তার চাচী বিষয়টি দেখতে পেরে চিৎকার দিয়ে দ্রুত তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। এ ঘটনায় এলাকায় ও বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র-ছাত্রী জানায়, যাদের কারণে ওই ছাত্রী মৃত্যুশয্যায় আমরা সেই সমস্ত বখাটেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এরা এর আগেও বেশ কয়েকজন ছাত্রীর সাথে এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। পুনরায় যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ সদস্য সুরুজ্জামান বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। যারা এ ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত তাদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আনোয়ারা বেগম বলেন, আমি তার দাদীর অভিযোগের বিষয়টি শোনার পর বিদ্যালয়ের সভাপতিকে অবগত করেছিলাম। তিনি ওই ছেলেদের মৌখিকভাবে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তবে ওই ছাত্রী যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা অত্যান্ত দুঃখজনক। বিদ্যালয়ের সভাপতি মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ওই ছেলেদের মৌখিকভাবে সতর্ক করে দিয়েছিলাম যাতে তারা এ ধরনের ঘটনা না ঘটায়। কিন্তু (সোমবার) যা ঘটেছে তা শুনে খুব খারাপ লাগছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.