লালমাটির গুলা ভ্রাম্যমাণভাবে বিক্রয়ে সংসার চালায় নওগাঁর রমজান আলী

06 পত্নীতলা (নওগাঁ) থেকে ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ,: কোন পেশাকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। শনিবার দুপুর ১২টা। নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা সদর হতে প্রায় ২০ কিঃ মিঃ দূরে মাটিন্দর ইউনিয়নের শাশইল গ্রাম। এ গ্রামের পাশ দিয়ে মহাদেবপুর-পোরশার সদর রাস্তা। ওই গ্রামের পাশ দিয়ে যেতেই কানে ভেসে আসতে লাগলো, লালমাটি গুলা নিবেন ! লালমাটি গুলা। এ পাশ ও পাশ তাকাতেই চোখে পড়ল এক তরুণ। হালকা পাতলা শারীরিক গঠন। গায়ে ফুলহাতা সার্ট আর গলায় একটি গামছা ঝুলানো রয়েছে।  সঙ্গে এক ভ্যান লালমাটির গুলা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই বললেন বাড়ি নওগাঁর সাপহার উপজেলার ঘাটনগর ইলিমপুর গ্রামে। বাবা বয়েসের ভারে নুয়ে পড়ায় প্রায় ১৮ বছর ধরে তাঁর (বাবার) পেশাকেই আমি বেছে নিয়েছি। বাবার নাম আব্দুল জব্বার। আমার নাম রমজান আলী (২৪)। লেখা পড়া তেমন জানিনা। বাবা দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ লালমাটি সংগ্রহ করে অত্রাঞ্চলে বিক্রয় ও তার আয় থেকে সংসার চালাতেন। আমিও প্রায় বাবার সাথে থেকে সহযোগিতা করতাম এ কাজে।

এ লালমাটির গুলা গুলো বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে রাস্তার উভয় পাশ, নতুন পুকুর খননকালে সংগ্রহ করি। এরপর মাটিগুলো পানিতে ভিজিয়ে চালুনি দিয়ে চেলে মাটির আঁকির গুলো বের করা হয় ও গুলা তৈরি করে রোদে শুকিয়ে বাজার, গ্রাম ও মহল্লায় বিক্রয় করে নগদ টাকা অথবা সমমূল্যের চাল নিয়ে থাকি। প্রতিটি মাটির গুলা তিন থেকে চার কেজি ওজনের এবং স্থান ভেদে ৩০-৫০ টাকার বিনিময়ে বিক্রয় হয়ে থাকে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার টাকার বিক্রয় হয়। পরিবারে পাঁচ জন সদস্য এ কাজে পুরো সহযোগিতা করে থাকেন।

এখন কিছু মানুষ ইটের বাড়ি তৈরি করতে শুরু করলেও রমজান আলী জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলের ঘর বাড়ি প্রায়ই মাটির তৈরি। এ মাটি ক্রয় করে সৌন্দর্য বর্ধণের জন্য বাড়ির মেঝে, দেয়াল, আঙিনা, ঘরের কোঠা লেপন করে থাকে গৃহিণীরা। এতে ধূলিবালিও অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানা যায়। আর এ মাটি বিক্রয়ের আয় থেকে রমজান আলীর পাঁচ সদস্যের সংসার ভালো ভাবেই চলে থাকে।

রমজান আলী আরো জানান- নওগাঁর  পত্নীতলা  সাপহার, পোরশা নিয়ামতপুর সহ আশপাশের উপজেলা গুলোর প্রায় বাড়ির মালিকের বাড়িতে আমার মোবাইল ফোন দেয়া আছে। প্রয়োজন হলেই তারা জানিয়ে দেন আমাকে। সঙ্গে সঙ্গেই ভ্যানে করে নিয়ে তাদের বাড়িতে পৌঁছিয়ে দিয়ে থাকি। এ পেশায় আসার পর তাকে আর কারো কাছে হাত পাততে হয় না। তিনি স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.