রাজশাহীতে হাড়কাঁপানো শীতে দুস্থদের দুর্ভোগ

 

 

 

 

 
yewuরাজশাহী থেকে নূর আলম আকন্দ : রাজশাহীতে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়া সঙ্গে কুয়াশা গত দুদিনে হাড়কাঁপুনি শীত নামিয়েছে রাজশাহীতে। এতে করে গত সোমবার থেকে হঠাৎ করে থমতে শুরু করেছে তাপমাত্রার পরিমাণও। মঙ্গলবার সকালে এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
হঠাৎ জেঁকে বসা তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসের অনেকটা দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। বিশেষ করে রাজশাহীর ছিন্নমূল মানুষরা পড়েছেন বেশি বিপাকে। তারা ঠান্ডা তাড়াতে অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে সাময়িকভাবে একটু প্রশান্তি খোঁজারও চেষ্টা করছেন।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সঙ্গে বাতাসের আর্দতা ছিল ৯৮ ভাগ।অনেকটা কুয়াশায় ঢাকা ছিল রাজশাহী চারিদিক। দুপুর ১২ টার দিকে এ রিপোর্ট লেখারও সময় কুয়াশা ছিল। আকাশে তখনো দেখা মেলেনি সূর্যের। এতে করে হিমেল বাতাসে ঠান্ডার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুন। কুয়াশার কারণে গাড়ীর হেড লাইটগুলো জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।
লতিফা হেলেন বলেন, ‘গতকাল সোমবার ছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আজ মঙ্গলবার আবহাওয়ার যে গতিবিধি তাতে সর্বোচ্চ তামাত্রা ২৫ ডিগ্রি ছাড়াবে না বলেও মনে করা হচ্ছে।
লতিফা হেলেন আরো বলেন, ‘গত রবিবার রাজশাহীর তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওইদিন তেমন কুয়াশা এবং বাতাসও ছিল না। কুয়াশা এবং বাতার বাড়তে থাকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত। আগামী কয়েকদিনে কুয়াশা ঘন কুয়াশায় রুপ লাভ করতে পারে এমন সম্ভাবনাও আছে।’
এদিকে হিমেল হাওয়া আর কুয়াশা প্রবাহে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে এসব মানুষরা শীতে অনেকটা কাতর হয়ে পড়েছেন।
শীত নিবারণের জন্য কম দামে শীতবস্ত্র কিনতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুরোতে শিশু এবং বৃদ্ধরা পড়েছে শীতে প্রচন্ড বিপাকে। গরম কাপড় না পাওয়ায় শীতে আক্রান্ত হয়ে অনেকে অসুস্থ হয়েও পড়ছে। ফলে বাড়ছে শীতজনিত রোগের মাত্রাও।
এছাড়া সন্ধ্যার পর ছিন্নমূল মানুষগুলোকে পথের ধারে খড়-কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা  গেছে। তবে সরকারি, সেবরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণও শুরু হয়নি বলেও জানা গেছে। ফলে দুর্গত মানুষরা নিজেদের প্রচেষ্টায় কোনো মতে দুর্ভোগ কাটাতে চেষ্টা করছে। কিন্তু আগামী কয়েকদিনে শীত আরো বাড়লে এসব মানুষদের ভোগান্তি ও বাড়বে ব্যাপক হারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.