মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ রাজশাহী নগরবাসী

 

 

 

 

 

moshaরাজশাহী থেকে মঈন উদ্দীন : রাজশাহী মহানগরীতে মশার উৎপাত সীমা ছাড়িয়ে গেলেও তা নিধনে নিরব রয়েছে রাসিক। মশা নিধন কার্যক্রমে কোন না কোন অযুহাতে বন্ধ থাকে রাসিকের। কখনো বাজেট নাই কখনো ওষুধ নাই। এদিকে মশার উৎপাতে স্বস্তিতে নাই নগরবাসী। দিনে রাতে সমান তালে মশার দংশনে অতিষ্ট মানুষ। রেহাই পাচ্ছে না গৃহপালিত প্রাণিরাও।
পরিবেশবিদের মতে অক্টোবর মাস থেকে মশার বিস্তার ঘটে। সেই সাথে মশাবাহিত অসুখ ছড়ায় বেশি। আর এই সময়টাতে সর্তক না হলে দেখা দিতে পাওে ডেঙ্গুর মত মশা বাহিত নানান অসুখ।  অথচ নগরীতে দীর্ঘদিন মশা নিধন কার্যক্রম না থাকায় দিন-রাত সমানতালে মশার দংশনে অসি’র নগরবাসী। কয়েল জ্বালিয়েও রেহাই পাচ্ছে না মানুষ। এদিকে মশা নিধনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কোন কার্যক্রম নজরে আসছে না মানুষের। মোট কথা কতৃপক্ষ রয়েছে নির্বিকার। তবে সূত্র বলছে ওষুধ সংকটের কারণে নিধন কার্যক্রম চালাতে পারছেনা রাসিক।

বিষয়টি নিয়ে রাসিকের স্বাস্থ্য কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর নাজমা বেগম জানান বাজেট না থাকায় ওষুধ সংকটের কারণে ফগার মেশিনের সাহায্যে মশা নিধনকার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে ড্রেনে স্প্রে করে লার্ভা নিধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নগরীতে মশার বিস্তার এবং মশা নিধন কার্যক্রম বিষয়ে রাসিকের একটি সূত্র জানায় হঠাৎ করেই মশা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নিধন কার্যক্রম অচীরেই শুর্ব করা হবে।

এদিকে অন্য একটি সুত্র বলছে  ওষুধ না থাকার কারণে মশা নিধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আর ভুক্তভোগী নগরবাসীর অভিযোগ বেশ দীর্ঘ সময় থেকে মশার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটলেও তা নিধনে রাসিক কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। দীর্ঘ দিন নগরীর ড্রেন নালাগুলি পরিস্কার না করায় ময়লা আবর্জনা জমে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে  থাকায় তা মশা উৎপাদনের নার্সারীতে পরিণত হয়েছে। আর এতে করে রাজশাহী মহানগরীসহ এর আশ-পাশের এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক। মশার বৃদ্ধিতে অতিষ্ট  জনজীবন।  মশা নিধনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে অসন্তোষ। মশার উপদ্রবে বেকায়দায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা।  মশার দংশন আর ভন-ভনানিতে শুধু মানুষই নয় গৃহপালিত পশুরাও নেই স্বস্তিতে।

বেকায়দায় রয়েছে শিশু, বৃদ্ধ এবং হাসপাতালের রোগীরা। মশার জ্বালাতনে নগরবাসী বিরক্ত হলেও তাতে তেমন গা করছেনা রাসিক।
একটি সূত্র বলছে উড়ন্ত মশা নিধনে যে ফগারমেশিন ব্যবহার হয় তার স্বল্পতা থাকায় ক্রাশ প্রোগ্রাম পুরোপুরি সফল করা সম্ভব হয়না। সূত্র মতে চাহিদার মাত্র ২৫ ভাগ ফগারমেশিন দিয়ে কোন রকমে কাজ চালানো হয়। ফগারমেশিন সংকট মশা নিধন কার্যক্রমকে অনেক ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত করে থাকে। মেশিন বরাদ্দ নিয়েও জটিলতা দেখা দেয়। যেহেতু মশা নিধন রাসিক কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করে থাকে।

তবে মশার লার্ভা বা ডিম নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ঠ কাউন্সিলরগণ। যেটা সাপ্তাহিক রুটিন। মানুষের অভিযোগ কোন কোন ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম চললেও সকল ওয়ার্ডে তা পরিলক্ষিত হয় না। এ ব্যাপারে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানান আমাদের যে ওষুধ বরাদ্দ দেয়া হয় তা চাহিদার তুলনায় কম। এতে করে সফল ভাবে কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয় না। মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের মান নিয়েও নানান প্রশ্ন রয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। এদিকে মশার এতটাই বিস্তার ঘটেছে যাতে করে মানুষের স্থরি হয়ে দাঁড়ানোও দায় হয়ে পড়েছে। দিনে রাতে সমানতালে চলছে মশার দংশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.