এশিয়ানবার্তার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় কাজিপুরের চেয়ারম্যান মুকুল

02এশিয়ানবার্তা টোয়েন্টিফোরডটকম-এর নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ২নং চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কাজিপুর উপজেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান মুকুল।

:প্রক্রিয়াটি সমম্বয় করেছেন আমাদের কাজিপুর প্রতিনিধি টি এম কামাল:

পরিচিতি : চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের আয়তন ৭.০৪৭ একর, গ্রামের সংখ্যা ১৭টি, মৌজার সংখ্যা ১১টি, জনসংখ্যা ৪৫হাজার ৭শ’ ৫৩ জন। ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার ৮শ’ ০৯ জন। তথ্য সেবা কেন্দ্র ১টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২২টি, নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮টি, মাদ্রাসা ৩টি, মহাবিদ্যালয় ৪টি, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ১টি, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ১টি, কমিউনিটি ক্লিনিক ৬টি, কিশোর-কিশোরী ক্লাব ১টি, মসজিদ ৬৬টি, মন্দির ৬টি, হাট-বাজার ৮টি, সরকারী ২টি, ব্যাংক ২টি, গণ পাঠাগার ৫টি, আদর্শ গ্রাম ১টি, কাঁচা রাস্তা ২৪.৯৫ বর্গকিলোমিটার, পাঁকা রাস্তা ৩৫.২৮ বর্গকিলোমিটার, গভীর নলকূপ

১০টি, অগভীর নলকূপ ৭ হাজার ৩শ’ ৫৮টি, ১টি ইছামতি, পুকুর ৩২৮টি ( সরকারী ২টি), ব্রীজ-কালভার্ট ১০২টি রয়েছে। এলাকার লোকজনের প্রধান পেশা কৃষি, তাঁত ও কম্বল শিল্প। এখানকার প্রধান ফসল ধান, পাট। কাজিপুর সরকারি মনসুর আলী কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমানের পুত্র দ্বিতীয়বারের মতো আতিকুর রহমান মুকুল (এম.বি.এ) চালিতাডাঙ্গা ইউপি’র চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এশিয়ানবার্তা : আপনি কেমন আছেন?
আতিকুর রহমান মুকুল : ভালো আছি।

এশিয়ানবার্তা : ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিষদের উন্নয়ন কাজে নিরপেক্ষ থাকলেও আপনার কিছু সদস্য দিয়ে দলীয় পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে কাজ করছেন কেন?

আতিকুর রহমান মুকুল : ইউনিয়ন পরিষদের কাজে আমি যে নিরপেক্ষ সে কথা আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন। আমি সব সময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করি। তাই সদস্যদের দ্বারা দলীয় পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে কাজ করানোর প্রশ্নই ওঠে না।

এশিয়ানবার্তা : আপনি প্রায় ৬ বছর ধরে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এ সময়ে এলাকার উন্নয়নে সফলতা ও ব্যর্থতা কী?

আতিকুর রহমান মুকুল : সাফল্যের মধ্যে অন্যতম হলো এলাকায় ১০০ ভাগ স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা স্থাপন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা, ইউপি’র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতন, নারীর  আত্মকর্মসংস্থানের কাজ করছি, বেশিকিছু উন্নয়ন মূলক কাজ করেছি-রাস্তা নির্মাণ, অনেক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ইউনিয়নের সকল প্রকার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ইত্যাদি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এর তত্ত্ববধানে সিরাজগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চেয়ারম্যানের বিশেষ কর্মতৎপরতা ব্যর্থতা বলতে যা বলা যায়, তা হলো সবারই একটা কমিটমেন্ট থাকে, সেটা বাস্তবায়ন করতে না পারা। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর সবাইকে নিয়ে ইউনিয়নকে সাজাব ও কাজ কবর কিন্তু তা বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে করতে না পারাটাই আমার বড় ব্যর্থতা বলে মনে করছি।

এশিয়ানবার্তা : স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ স্বাধীনভাবে বন্টন করতে পারেন কি?

আতিকুর রহমান মুকুল : স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দগুলো সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বন্টন করতে হয়। সে ব্যাপারে কিছুটা সাবধানতা থাকলেও এখন বেশির ভাগ বরাদ্দ (বিশেষ) সংসদ সদস্য বন্টন করে থাকেন, তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কিছু করার থাকে না।
এশিয়ানবার্তা : ইউনিয়ন পরিষদ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে জনগণের খেতমত করতে কী কী নীতিমালা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন?
আতিকুর রহমান মুকুল : গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের সব বিষয়ে সেবাদানের একমাত্র প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ। তাই সব পরিপত্র বাতিল করে ১৯৮৩ সালের ইউনিয়ন পরিষদ অধ্যাদেশের বিধানসমূহ সময় উপযোগী করাসহ পূর্ণ বাস্তবায়ন করে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করলে জনগণের সেবা অনেকটা নিশ্চিত হবে বলে মনে করি। সঙ্গে সঙ্গে এমপি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব না দিয়ে সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।

এশিয়ানবার্তা : আপনি নির্বাচিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত কতগুলো প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন?

আতিকুর রহমান মুকুল : নির্বাচিত হওয়ার পর এলজিইডি, কাবিখা, কাবিটা, রাজস্ব, এনজিওসহ অন্যান্য খাত থেকে এক কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। টিআর-কাবিখা মিলে প্রায় ৩০০ মেঃ টন চাল-গম বরাদ্দ পেয়েছি। যার সব কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে ও হচ্ছে।
এশিয়ানবার্তা : শতভাগ স্যানিটেশন কতটুকু সত্য?
আতিকুর রহমান মুকুল : আমার ইউনিয়নে শতভাগ স্যানিটেশন সম্পন্ন হয়েছে, এক কথা সত্য। তবে কয়েক বছরের বন্যায় প্রায় ৪০ শতাংশ ল্যাট্রিন নষ্ট হয়ে গেছে।

এশিয়ানবার্তা : বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যানত প্রতিরোধে কোনো  পরিকল্পনা আছে কি?

আতিকুর রহমান মুকুল : বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে প্রচার-প্রচারণা মাধ্যমে জনমত সৃষ্টির চেষ্টা করছি। এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এশিয়ানবার্তা : সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কী পরিকল্পনা রয়েছে।

আতিকুর রহমান মুকুল : ইউনিয়নে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও উপকরণ সরবরাহ অব্যাহত আছে ও চলবে। শিক্ষার হার বৃদ্বির জন্য ঝড়ে পড়া রোধসহ অন্যান্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছি।

এশিয়ানবার্তা : আপনার পরিষদের সদস্যরা কেমন সহযোগিতা করে থাকেন।

আতিকুর রহমান মুকুল : সদস্যরা সব কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করে আসছে। এখন পর্যন্ত কোনো কাজ বাস্তবায়নে এবং সিদ্বান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সদস্যদের সঙ্গে কোনরূপ সমস্যা সৃষ্টি হয়নি।

এশিয়ানবার্তা : আর্থিক সংকটে এলাকার ক্রীড়া সংগঠনগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

আতিকুর রহমান মুকুল : ইউনিয়ন পরিষদে এ সংক্রান্ত কোনো ফান্ড না-থাকায় এতদিন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ফুটবল, ভলিবল খেলার সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। আর্থিক সংকুলান হলে এলাকার ক্রিয়া সংগঠগুলোর সমন্বয়ে বিভিন্ন সময়ে ‘চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নে মনসুর আলী ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট’ আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে।

এশিয়ানবার্তা : আপনার সঙ্গে ইউনিয়নবাসীর যোগাযোগ আগের চেয়ে কমে গেছে। আপনার মতামত কী?

আতিকুর রহমান মুকুল : বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক ভালো। নেতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের দোরগোড়ায় যেতে পেরেছি বলে বিশ্বাস করি। দলমতের উর্ধ্বে উঠে আমি কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এশিয়ানবার্তা : বিভিন্ন সময়ে ত্রাণ বিতণের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে আপনার বিরুদ্ধে। আপনার বক্তব্য কী?

আতিকুর রহমান মুকুল : ত্রাণ বিতরণ শুধু নয়, বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দকৃত কোনো জিনিসে সামান্যতম অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণ কেউ করতে পারবে না।

এশিয়ানবার্তা : ইউনিয়নের গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করার কমসূচি আছে কী?

আতিকুর রহমান মুকুল : ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থীক সহযোগিতা করার সুযোগ নেই। তার পরও আমরা কিছু কিছু করে থাকি।

এশিয়ানবার্তা : আপনি নারী সদস্যাদের তাদের প্রাপ্ত্য থেকে বঞ্চিত করেন কেন?

আতিকুর রহমান মুকুল : এ অভিযোগ ঠিক নয়। তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয় না।

এশিয়ানবার্তা : বর্তমান সরকারের আমলে ধুমপান প্রকাশ্য নিষিদ্ধ হলেও আপনার ইউনিয়নে তা মানা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আপনার পদক্ষেপ কী?

আতিকুর রহমান মুকুল : প্রতিনিয়িত আমরা মিটিং সেমিনার করে এ ব্যাপারে আলোচনা করে থাকি।

এশিয়ানবার্তা : ইউনিয়নে চিত্তবিনোদনের জন্য কোনো ব্যবস্থা করবেন কি?

আতিকুর রহমান মুকুল : আপাতত এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই।

এশিয়ানবার্তা : ইউনিয়নের অভিভাবক হিসেবে গরীব-দুঃখীদের খোঁজ-খবর নেন কি?

আতিকুর রহমান মুকুল : হাঁ, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়ে থাকি। প্রতিনিদ সকাল ও বিকেলে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের গরীব-দুঃখীদের খোঁজ-খবর নেওয়াসহ সকল শ্রেণীর মানুষের খোঁজ-খবর নিয়ে থাকি। ভবিষ্যতে আরো ব্যাপকভাবে গ্রাম থেকে গ্রামান্তর যাব ইনশাল্লাহ।

এশিয়ানবার্তা : আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
আতিকুর রহমান মুকুল : আমি একেবারে গ্রামের মানুষ। তাই সবার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো। নৌকার ভোট দেয়া মানুষগুলোর কল্যাণের দিকটি মাথায় রেখে তাদের সাথে নিয়ে জননেত্রী প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিমের ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথে চালিতাডাঙ্গাকে সামনের দিকে নিয়ে যাবো। এজন্য সবার দোয়া এবং আন্তরিক ভালোবাসা চাই।

এশিয়ানবার্তা : আপনি সরকারি বরাদ্দ বা অনুদান বিতরণে স্বজনপ্রীতি করে থাকেন-এটা কতটুকু সত্য?

আতিকুর রহমান মুকুল : অভিযোগটি মোটেই সত্য নয়। সাধারণ বরাদ্দগুলো ওয়ার্ডের সদস্য ও সদস্যাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। বিশেষ বরাদ্দ স্থানীয় সাংসদ তার প্রতিশ্রতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করে থাকি।

এশিয়ানবার্তা : এশিয়ানবার্তা টোয়েন্টিফোরডটকম সম্পর্কে কিছু বলুন।

 

আতিকুর রহমান মুকুল : এশিয়ানবার্তা টোয়েন্টিফোরডটকম সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুরের পাঠক নন্দিত অললাইন পত্রিকা। কাজিপুরের মাটি ও মানুষের খবর এখানে বেশি পাওয়া যায়। আমি এশিয়ানবার্তা টোয়েন্টিফোরডটকম-এর সুন্দর আগামী ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

এশিয়ানবার্তা টোয়েন্টিফোরডটকম : আপনাকে ধন্যবাদ।

আতিকুর রহমান মুকুল : আপনাকেও ধন্যবাদ। সেই সাথে এশিয়ানবার্তা টোয়েন্টিফোরডটকম-এর মাধ্যমে চালিতাডাঙ্গার জনগণকে সশ্রদ্ধ সালাম ও নমস্কার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.