নওগাঁর আত্রাইয়ে চিনিআতপ ধানের ব্লাষ্ট রোগে দিশেহারা কৃষক

 

 

 
01নওগাঁ থেকে আতাউর শাহ : নওগাঁর আত্রাইয়ে চিনিআতপ ধান ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ধানের শীষ মরে যাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আমন মৌসুমে সব থেকে উন্নত জাতের ও দামি এ ধানচাষ করে এখন এলাকার কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন। ধান ঠিক পাকার মুহুর্তে ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে এবং শীষ মরে যাচ্ছে। ফলে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ভোঁপাড়া ও মনিয়ারী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি, জামগ্রাম, তিলাবদুরী, কচুয়া, মাড়িয়া, নওদুলী, চৌথল, পালশা, কয়েড়াসহ বিভিন্ন মাঠে প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও ব্যাপক হারে চিনিআতপ ধানের চাষ করা হয়েছে। এসব ধান উৎপাদনে খরচ কম। অথচ বাজারে দাম বেশি থাকায় এটি কৃষকদের লাভজনক আবাদ।

অধিক লাভের আশায় এ আবাদ করে এবার এলাকার কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। ধান ঠিক পাকার মুহুর্তে এসে ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে জমিতেই ধানের শীষ মরে যাচ্ছে। কচুয়া গ্রামের কৃষক খোদাবক্স বলেন, আমি এবার বেশকিছু জমিতে চিনিআতপ ধানের চাষ করেছি। এসব ধানের শীষ মরে যাচ্ছে। জমিতে গেলে মাথায় হাত দিয়ে শুধু কাঁদতে হয়।

একই গ্রামের কৃষক মনতাজ বলেন, চিনিআতপ ধানের শীষ যে হারে মরে যাচ্ছে তাতে এবার আমাদের উৎপাদন খরচই উঠবে না। তাই আমরা হাতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। চৌথল গ্রামের আলতাফ হোসেন বলেন, প্রতিবারেই আমরা ধানের আবাদ করে লোকসানের শিকার হই। এবারে বাজারে ধানের দাম ভাল তাকলেও ধানগুলো রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ায় উৎপাদন খরচ উঠা কঠিন হবে।

আত্রাই উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কেএম কাওছার হোসেন বলেন, এই এলাকায় যে চিনিআতপ ধান এটাকে ব্রি-৩৪ ধানের জাত বলা হয়। এ ধানের বীজ কৃষকরা নিজেরাই তাদের পূর্বের ধান থেকে তৈরি করে থাকে। এ জন্যই এ জাতের ধানে ব্লাষ্ট রোগ বেশি দেখা দিয়েছে। তারপরও এ রোগ যাতে বিস্তার করতে না পারে সে জন্য মাঠ পর্যায়ে আমরা ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছি। অল্পতেই যারা আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তাদের ধান খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.