৩ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস (ভিডিও)

02গোপালগঞ্জ থেকে হুসাইন ঈমাম সবুজ: আজ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস। ৭১ এর এই দিনে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া হানাদার মুক্ত হয়েছিল। কোটালীপাড়ায় এদিন আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। অনেক দুঃখ বেদনার পরও সেদিন এলাকার মানুষের মধ্যে ছিল আনন্দের জোয়ার। কেননা সে দিন কোটালীপাড়ার মানুষ মুক্তির স্বাদ পেয়ে দলে দলে রাস্তায় নেমে পড়ে। এদিন কোটালীপাড়া হানাদার মুক্ত হয়। কাকডাঙ্গা রাজাকার ক্যাম্পে হামলা করে হেমায়েত বাহিনী ক্যাম্পের পতন ঘটান। রাজাকার ক্যাম্পের সদস্যরা হেমায়েত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করেন। রাজাকার ক্যাম্পের পতনের মধ্য দিয়ে ৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়াই প্রথম হানাদার মুক্ত হয়।

এ অঞ্চলে পাকবাহিনী ও তাদের দোষরা ছিল খুবই শক্ত অবস্থানে।  কোটালীপাড়ার সন্তান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সৈনিক হেমায়েতউদ্দিন যুদ্ধ শুরু হলে দেশে পালিয়ে আসেন। গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। সাড়ে ৩ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন হেমায়েত বাহিনী। কোটালীপড়ায় তিনি একটি ট্রেনিং ক্যাম্পও গড়ে তোলেন। যেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরকেও যুদ্ধের ট্রেনিং দেয়া হতো।  মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে বেশ কয়েকটি সম্মূখ যুদ্ধে অবতীর্ন হয় হেমায়েত বাহিনী। উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয় হরিনাহাটি, মাটিভাঙ্গা, বাশবাড়িয়া, ঝনঝনিয়া, রামশীল, জহরের কান্দি, কোটালীপাড়া সদর প্রভৃতি স্থানে। এ ছাড়া ছোট যুদ্ধ হয়েছে বেশ কয়েকটি। আর এ সব যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন হেমায়েত বাহিনী প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীর বিক্রম।

ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চল  নিয়ে গঠিত হয়েছিল “হেমায়েত বাহিনী”। ৭২টি গ্রুপের সমন্বয়ে গঠিত এই হেমায়েত বাহিনী যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনে। এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার। তার মধ্য থেকে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে ২৪জন আহত ও ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
মুক্তিযুদ্ধ  চলাকালীন সময়ে হেমায়েত বাহিনীর সদস্যরা ১৩৪টি অপারেশন পরিচালনা করেন। এর মধ্যে রামশীলের যুদ্ধ অন্যতম। এই যুদ্ধটি অত্র অঞ্চলে ঐতিহাসিক রামশীলের যুদ্ধ বলে পরিচিত। হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন ঐতিহাসিক রামশীলের যুদ্ধে মারত্মক ভাবে আহত হন।

মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের কারণে দেশ স্বাধীন হবার পর হেমায়েত উদ্দিনকে “বীর বিক্রম” খেতাবে ভুষিত করা হয়। উলেখ্য হেমায়েত উদ্দিন “বীর বিক্রম” চলতি বছরে চিকিৎসারত অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যু বরন করেন।

এই দিবসটি উপলক্ষ্যে কোটালীপাড়ায় তিন দিন ব্যাপি গণ মেলা ও মুক্তিযোদ্ধা মহা সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এই  মেলা ও মুক্তিযোদ্ধা মহাসমাবেশের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ ও হেমায়েত বাহীনির ইতিহাস জানতে পারবে।

https://youtu.be/fFtjbl6siyU

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.