পাবনার কৃষি খামার পরিদর্শন করলেন এডিশনাল আইজি ও জেলা পুলিশ সুপার

13ঈশ্বরদী (পাবনা) থেকে সেলিম আহমেদ,: ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অজোপাড়াগা আড়কান্দি গ্রামে বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান ময়েজ পরিশ্রম, ধৈর্য্য, অধ্যাবসায়, সাহস ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন। অভিশপ্ত বেকার জিবনে পরিশ্রম, সংগ্রাম করে সাহসীকতার মধ্য দিয়ে কৃষি খামার করে তিনি একজন সফল খামারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। শুক্রবার বিকেলে ময়েজ উদ্দিন কৃষি খামার পরিদর্শন করলেন এডিশনাল আইজি (অবঃ) মোঃ আব্দুস সাত্তার ও পাবনা জেলা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জিহাদ পিপিএম।

এসময় কৃষকদের মধ্য থেকে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান ময়েজ, জাতীয় ডায়েরী ভুক্ত কৃষক আব্দুল বারী, কিতাব মন্ডল ওরফে লিচু কিতাব, মুরাদ মালিথা, পান্না হোসেন, আশরাফ আলী, তোফাজ্জল হোসেন তফে, ইউপি সদস্য তারা মালিথা, ডাক্তার আব্দুল্লাহ ও ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল হাই।

বক্তারা বলেন, এদেশের কৃষকেরা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার কারণে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে কৃষি পণ্য রপ্তানী করছেন। কৃষি কাজ করে কৃষকের কোন লাভ না হলেও বিদেশ থেকে কৃষি পণ্য আমদানী করতে হচ্ছেনা। দেশের সকল কল-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনের ইন্সুরেন্স থাকলেও কৃষকের পণ্যের কোন ইন্সুরেন্স নেই। কৃষক রোদ বৃষ্টিতে ভিজে কৃষি পণ্য উৎপাদন করে থাকেন। এরপর তা হাট-বাজারে বিক্রি করতে গেলে খাজনার নামে ইজারাদারের লোকেরা কৃষকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন শতকরা দশ টাকা। কৃষি পণ্য বিক্রির পর কৃষকের কাছ থেকে খাজনা নেয়া সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধ থাকলেও ইজারাদারের লোকেরা বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তাদের ইচ্ছে মতো অধিকমাত্রায় খাজনা আদায় করছেন।

ঈশ্বরদীর কোন হাটেই ইজারার নিয়ম মেনে খাজনা আদায় করেনা। হাট-বাজারে কৃষকের কাছ থেকে অধিক হারে খাজনা আদায় করে থাকেন। একই সাথে কৃষকের কোন নিরাপত্তা নেই। এর আগে এডিশনাল আইজি (অবঃ) মোঃ আব্দুস সাত্তার ও পাবনা জেলা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জিহাদ পিপিএমকে সংবর্ধনা স্বরুপ তার খামারের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, শাক-সবজি উপহার হিসেবে তুলে দেন।

এডিশনাল আইজি (অবঃ) মোঃ আব্দুস সাত্তার ও পাবনা জেলা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জিহাদ পিপিএম বলেন, আমরা কৃষকের ছেলে ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে কৃষক মাঠে হাল লাঙ্গল নিয়ে কাজে বেড়িয়ে যায়। কৃষক শুধু তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন নয়, দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণে সব সময় কাজ করে থাকেন। কঠোর পরিশ্রম করে বেকারত্বকে দু-হাতে পিছে ঠেলে দিয়ে ময়েজ একজন মডেল খামারী হিসেবে ইতোমধ্যে ঈশ্বরদীতে পরিচিতি লাভ করেছেন। তারা বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে ময়েজ উদ্দিন কৃষি খামারটি পরিপাটি ভাবে সাজানো গোছানো।

দীর্ঘ দিন থেকে সুনামের সাথে তিনি তার খামার পরিচালনা করে আসছেন। ময়েজ উদ্দিন কৃষি খামার করে কিছুটা হলেও দেশের সবজি ও ফলমূলের চাহিদা পূরণ করছেন। একই সাথে ঈশ্বরদীর ওসিকে কৃষক ও তাদের উৎপাদিত পণ্যের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.