যশোরের কেশবপুরে পর্যটকদের দর্শনীয় স্থান আজও দখল মুক্ত হয়নি

07কেশবপুর (যশোর) থেকে মেহেদী হাসান: যশোরের কেশবপুরে পর্যটকদের দর্শনীয় স্থান মুগল সম্রাজ্যের ইতিহাস মির্জানগর জমিদার বাড়ি ও হম্মখানার ২ একর ৬৫ শতাংশ জমি অবৈধ দখলদারদের কবলে। মোগল সম্রাজ্যের চতুর্থতম সম্রাট জাহ্ধাসঢ়;ঙ্গীরের (শিক্ষক) ওস্তাাদ সৈয়দ মোহাম্মদ ফাকের যশোর জেলার কেশবপুরের মির্জানগর গ্রামে বসবাস করতেন। ৩৬৭বছর পুর্বে ১৬৪৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম যশোরে ফৌজদারী কার্যক্রম শুরু হয়। তখন সম্রাট জাহ্ধাসঢ়;ঙ্গীরের নিকটতম আত্মীয় ও বাংলার সুবেদার শাহ শুজার শ্যালকপুত্র মির্জা সফসি খাঁন পারস্য রাজ বংশে যার জন্ম।
তিনি যশোরের প্রথম ফৌজদার (ডিসি) হিসাবে যোগদান করেন। যশোর জেলার মির্জানগরে মুগল সম্রাজ্য পরিচালনার জন্য সেরেস্থা থাকায় তিনিও এখানে থাকতেন। মির্জা বংশের কোন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এখানে থেকে ফৌজদারী কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে তারই নামে নামকরণ করা হয় মির্জানগর। সেই থেকে গ্রামটি মির্জানগর নামে প্রশিদ্ধ হয়। সেই মির্জানরে অবস্থিত ৩’শ ৬১ বছরের প্রাচীন স্থাপত্য হাম্মামখানা ভ্রমন পিয়াসীদের জন্য এটি একটি দর্শনীয় ও আকর্ষনীয় স্থান। দেশের দুর দুরান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে আসলেও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সুযোগ সুবিধা না থাকায় ভ্রমন পিপাসুদের পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়।
সরকারি ভাবে প্রত-তত্ত্ব বিভাগের উপর মির্জানগর হাম্মামখানাটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করা হলেও সংস্কারের ব্যবস্থা না করায় সরকার বঞ্চিত হচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব থেকে। যশোর শহর থেকে ৩৮ কিঃ মিঃ দুরত্বে অবস্থিত কেশবপুর উপজেলা সদর। আর কেশবপুর থেকে মাত্র ৭ কিঃ মিঃ পশ্চিমে কপোতাক্ষ ও বুড়িভদ্রা নদীর মোহনায় মির্জানগর গ্রামে অবস্থিত হাম্মামখানাটি । তার পার্শে¦ রয়েছে জমিদারদের উত্তরসুরী সৈয়দ বংশধর জীবিত। রয়েছে মোগল সম্রাজ্যের বংশ পরম্পরার জমিদার বাড়ীর ভগ্নাংশ। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নুর উলা খাঁ ফৌজদার নিযুক্ত হন। তিনি বুড়িভদ্রা নদীর দক্ষিন পাড়ে কিলাবাড়ি স্থাপন করে সেখানে বসবাস করতেন।
সুবিস্তৃত পরিখা খনন করে আট দশ ফুট উচু প্রাচীর বেষ্টীত করে এটাকে মতিঝিল নামকরন করেন। এর একাংশে বতকখান, জোনানাসহ হাম্মামখানা (গোসল খানা) ও দূর্গের পূর্বদিকে সদর তোরন নির্মিত। কামান দ্বারা দূর্গটি সুরক্ষিত ছিল। মির্জানগরের কামানের ১টি অংশ যশোরের মনিহারে সিনেমা হলের সামনে সংরক্ষিত রয়েছে। চার কক্ষ বিশিষ্ট এবং একটি কুপ সহ হাম্মাম খানাটি মোগল স্থপত্য শৈলীর অনুকরনে নির্মিত হয়। স্থাপনাটি চার গম্বুজ বিশিষ্ট এর পশ্চিম দিকে পরপর দু’টি কক্ষ। পূর্ব দিকের কক্ষ দু’টি উচু চৌবাচ্চা হিসাবে ব্যবহার করা হত। পূর্ব পাশে দেয়াল বেস্টনীর ভেতরে রয়েছে ৯ফুট ব্যাসের পোড়া মাটির ইটের তৈরি র্নিমিত সুগভীর কুপ যে কুপ হতে পানি টেনে তুলে এক ছাদের দু’টি চৌবাচ্চায় জমা করে রোদ্রে গরম করে দেয়াল অভ্যান্তরে পোড়ামাটির নলের মাধ্যমে স্নান কক্ষে সরবরাহ করা হত। দক্ষিন পাশ্বে একটি চৌবাচ্চা এবং সুড়ঙ্গ রয়েছে যা তোষাখানা ছিল বলে ধারনা করা হয়।
১৯৯৬ সালে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ হতে এটিকে পুরা র্কীতি হিসাবে ঘোষনা করা হয়। সারা বছরই হাম্মামখানায় দর্শনার্থীদের ভীড় লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটক ও ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ ছুটে আসেন হাম্মামখানা দেখতে। ১ একর ৯৩ শতাংশ জমির উপ হাম্মামখানাটি অবস্থান থাকলেও বর্তমান সেই জমি অবৈধ ভুমি দস্যুদের দখলে রয়েছে । সরেজমিনে ঘুরে জানা যায় ওই গ্রামের কারী মোহাম্মাদ মতিয়ার রসুল ও তার পুত্র শহিদুল ইসলাম ২ বিঘা ২০ শতক, মৃত গোলাম হায়দারে পুত্র শেখ সালাম ২২ শতক, গোলাম মোস্তাফার কন্যা বকুল ৮ শতক ও তার পুত্র লতিফ ৮ শতক, আলীম ২ শতক, শেখ আব্দুল হামিদের পুত্র আব্দুল হান্নান ৮ শতক, গোলাম রব্বানীর পুত্র হায়দার ১০ শতক, মালেক গাজী ও করিম ৭ শতক জমি অবৈধ ভাবে দখল করে আসছে। এলাকাবাসি উক্ত জমি অবৈধ দখলমুক্ত করে সরকারিভাবে রক্ষনাবেক্ষনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে প্রত-তত্ত্ব বিভাগের রিজিওনাল ডিরেক্টর (আর,ডি) আফরোজা খাঁন মিতা বলেন সম্প্রতি অনেক সংসবকার করা হয়েছে, জমি নিয়ে মামলা চলছে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। হাম্মামখানার মামলা পরিচালনাকারী এ্যাডভোকেট শামিম (জিপি) বলেন হাম্মামখানার বিষয়ে কিছু জানতে হলে যশোরে আমার চেম্বারে আসতে হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ রায়হান কবির বলেন মামলা নিষ্পত্তি হলে দখলমুক্ত করা হবে। প্রত-তত্ত্ব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাগরদাড়ী মধুপলীর কাষ্টোডিয়ান মহিদুল ইসলাম বলেন হাম্মামখানার দখলদাররা জমি অধিগ্রহন দেওয়ার দাবীতে মামলা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.