ময়েজ উদ্দিন কৃষি খামার পরিদর্শন করলেন: ঈশ্বরদীর ইউএনও শাকিল মাহমুদ

 

 

 

salim-ishurdi-farmer-30-november-2016-3ঈশ্বরদী (পাবনা) থেকে সেলিম আহমেদ: ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অজোপাড়াগা আড়কান্দি গ্রামে বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান ময়েজ পরিশ্রম, ধৈর্য্য, অধ্যাবসায়, সাহস ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন। অভিশপ্ত বেকার জিবনে পরিশ্রম, সংগ্রাম করে সাহসীকতার মধ্য দিয়ে কৃষি খামার করে তিনি একজন সফল খামারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ময়েজ উদ্দিন কৃষি খামার পরিদর্শন করলেন ঈশ্বরদীর ইউএনও শাকিল মাহমুদ।
কৃষক ময়েজ বলেন, কৃষকের উৎপাদিত সকল পণ্যেই বর্তমানে লোকশান হচ্ছে। এরপর তা হাট-বাজারে বিক্রি করতে গেলে খাজনার নামে ইজারাদারের লোকেরা কৃষকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন শতকরা দশ টাকা। এক দিনের একটি বাচ্চাসহ একটি গরু বিক্রি করলেও খাজনা  গুনে দিতে হয় ১ হাজার টাকা। কৃষি পণ্য বিক্রির পর কৃষকের কাছ থেকে খাজনা নেয়া সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধ থাকলেও ইজারাদারের লোকেরা বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তাদের ইচ্ছে মতো অধিকমাত্রায় খাজনা আদায় করছেন। ঈশ্বরদীর কোন হাটেই ইজারার নিয়ম মেনে খাজনা আদায় করেনা।

হাট-বাজারে কৃষকের কাছ থেকে অধিক হারে খাজনা আদায় করে থাকেন। মাঠ থেকে ভটভটিতে করে কৃষি পণ্য হাটে আনতে পুলিশ বাধা সৃষ্টি করে এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কাঁচা মালের ট্রাক থেকে চাঁদা রোধে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এর আগে ঈশ্বরদীর ইউএনও শাকিল মাহমুদকে সংবর্ধনা স্বরুপ তার খামারের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, শাক-সবজি উপহার হিসেবে তুলে দেন।
ঈশ্বরদী উপজেলার ইউএনও শাকিল মাহমুদ বলেন, পরিশ্রম মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায় তার বাস্তব প্রমাণ হলো কৃষি খামারী ময়েজ উদ্দিন। কঠোর পরিশ্রম করে বেকারত্বকে দু-হাতে পিছে ঠেলে দিয়ে ময়েজ একজন মডেল খামারী হিসেবে ইতোমধ্যে ঈশ্বরদীতে পরিচিতি লাভ করেছেন। পরিশ্রম, ধৈর্য্য, অধ্যাবসায়, সাহস ও মেধাকে কাজে লাগাতে পারলে ময়েজের মতো সকলেই এক সময় ক্রমান্বয়ে উপরে উঠতে থাকবে।

তিনি বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে ময়েজ উদ্দিন কৃষি খামারটি পরিপাটি ভাবে সাজানো গোছানো। দীর্ঘ দিন থেকে সুনামের সাথে তিনি তার খামার পরিচালনা করে আসছেন। ময়েজ উদ্দিন কৃষি খামার করে কিছুটা হলেও দেশের সবজি ও ফলমূলের চাহিদা পূরণ করছেন। চাকরি নামের সোনার হরিণের পিছে না ছুটে শিক্ষিত বেকার যুবকেরা কৃষি খামার করে চাষাবাদে এগিয়ে এলে ময়েজের চাইতেও তারা ভালো করবে বলে আমি মনে করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.