রাজশাহী নগরীর সরকারি স্কুলে ভর্তি যুদ্ধে বৈষম্যের শিকার কন্যাশিশু

04রাজশাহী থেকে মঈন উদ্দীন: সারাদেশে শুরু হয়েছে ভর্তিযুদ্ধ। ক্ষুদে পড়–য়ারা এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। রাজশাহীতে ছয়টি সরকারি স্কুলে ভর্তির জন্যও প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর হবে ভর্তি পরীক্ষা। রাজশাহীতে ছেলেদের জন্য সরকারি স্কুল রয়েছে চারটি। মেয়েদের জন্য রয়েছে দুটি স্কুল। স্কুল সংখ্যার দিক দিয়ে যেমন বৈষম্য রয়েছে তেমন রয়েছে আসন সংখ্যার দিক দিয়েও।

মেয়েদের স্কুল কম তাই আসন কম এটা যেমন সত্য। এরমধ্যে সবচেয়ে বৈষম্য মূলক বিষয়। কন্যাশিশুদের একটি মাত্র স্কুলে সুযোগ রয়েছে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তির। কন্যা শিশুদের এই বৈষম্য কমাতে পিএন গার্লস স্কুল ছাড়াও হেলেনাবাদ বালিকা বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন অভিভাবকেরা। তবে কন্যাশিশুদের জন্য আরো স্কুল প্রয়োজন বলেও তাদের অভিমত।

জানা গেছে, রাজশাহীতে তৃতীয় শ্রেনীতে ছেলেদের জন্য আসন রয়েছে ৪৩০টি। এরমধ্যে কলেজিয়েট স্কুলে রয়েছে ১৮০টি আসন। ল্যবরেটরি স্কুলে রয়েছে ১২০টি আসন। সিরোইল স্কুলে রয়েছে ১০০ আসন। মাদ্রাসা হাই স্কুলে রয়েছে ৩০টি আসন। অপরদিকে কন্যশিশুদের জন্য পিএন গার্লস হাই স্কুলে রয়েছে ১৮০টি আসন। কন্যাশিশুদের জন্য জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো ভর্তিযুদ্ধ বেশি কঠিন।

এ বিষয়ে অভিভাবক কলেজ শিক্ষক মনোয়ার হোসেন জানালেন, একজন ছেলে শিক্ষার্থী মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ৪৩ বা ৪৪ পায় তবে সে সরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাবে। কারন তাদের জন্য রয়েছে ৪৩০টি আসন। কন্যা শিশুদের জন্য আসন মাত্র ১৮০টি। যার কারনে তাদের ৫০ নম্বরের মধ্যে নূন্যতম ৪৮ নম্বর পেতে হয়। অতীতে এমন নম্বর পেয়ে পিএন স্কুলে ভর্তিও সুযোগ পায় কন্যা শিশুরা।

স্কুল শিক্ষক মামুনুর রহমান বলেন, রাজশাহীতে মেয়েদের স্কুলগুলোর মধ্যে হেলেনাবাদ বালিকা বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেনীতে ভর্তির সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। এজন্য দেনদরবার করা প্রয়োজন। অভিভাবকেরা এগিয়ে আসলে জনপ্রতিনিধিদের চাপ দেয়া যায় তবে এ ক্ষেত্রে ফল আসবে। পিএন গার্লস হাই স্কুলের মতো হেলেনাবাদ বালিকা বিদ্যালয়ে ডাবল সিফট চালু করা প্রয়োজন।

সরকারি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব এবং হেলনাবাদ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদ আরা বলেন, হেলেনাবাদ বালিকা বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণী থেকে ভর্তির ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে তারা সে ব্যপারে উদ্যোগ নিবেন। তবে তার স্কুলের জন্য আরো শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। ১৯৯০ সালের দিকে এই স্কুলে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। পরে এটি বাইরে চলে যায়। তবে এই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেনী থেকে সরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.