সিরাজগঞ্জের পল্লীর তৈরি পোষাক এখন দেশ জুড়ে

08সিরাজগঞ্জ থেকে এইচ.এম মোকাদ্দেস: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার অজপল্লীর পূর্ণিমাগাঁতী ইউনিয়নের গোয়ালজানী ও হাটদেলুয়া গ্রাম দুটি একেবারে পাশাপাশি অবস্থিত। এক সময় এ গ্রাম দু’টির প্রতিটি পরিবার কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিলেন। আর একেবারে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর পুরুষেরা দিন মজুরের কাজ করে সংসার চলাতো। এ অঞ্চলের হাটদেলুয়া গ্রামের ৭২ বছর বয়সী আকতার হোসেন পোষাক তৈরির একটি ক্ষুদ্র কারখানা চালু করেন । তিনি নিজে বাড়িতে একটি মেশিন বসিয়ে পোষাক তৈরির এ কারখানার কাজ শুরু করেন।

তিনি সম্ভাবনাকে পুজি করে কঠোর পরিশ্রম করে বর্তমানে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। তাকে দেখে এ অঞ্চলের দু’টি গ্রামে স্থানীয় ভাবে গড়ে উঠেছে আরো শতাধিক পোষাক তৈরি কারখানা । ইতিমধ্যে অনেক পরিবার গরীব থেকে ধনী হয়েছেন।  এসব কারখানায় বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষ মিলে প্রায় দু’হাজার শ্রমিক দর্জি হিসেবে কাজ করেন। এসব কারখানার মালিকেরা অথনৈতিক ভাবে স্বাবলন্বী হওয়ার পাশাপাশি এসব কারখানায় কাজ করা বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষেরা নিজেদেরকে কর্মের মাঝে রেখে দিন হিসাবে ২শ’থেকে ৪শ’ টাকা আয় করে পরিবার গুলোতে সচ্ছলতা এনেছেন। বিভিন্ন সমস্যা আর দূর্ভোগের মাঝেও এরা এগিয়ে যাচ্ছে। এতে গ্রাম দুটিতে উন্নয়নের ব্যাপক ছোয়া লেগেছে। পাল্টে গেছে এ গ্রাম দু’টির চিত্র ।

ঢাকার ইসলামপুর, নরসিংদীর বাবুরহাট থেকে এ কারখানার মালিকেরা কাপড় কিনে এনে তা দিয়ে মুলতঃ কম বয়সীদের প্যান্ট, শার্ট, গেঞ্জিসহ অন্যান্য পোষাক তৈরি করা হয়। এখানকার তৈরি পোষাক উন্নতমানের অথচ তুলনামূলক ভাবে দাম কম। গ্রাম দুটির তৈরি পোষাক ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত পাইকারী মোকাম ছাড়াও রংপুর, সৈয়দপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লাসহ দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। এসব স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই এসে এসব তৈরি পোষাক কিনে নিয়ে যায়। অজপল্লী গ্রাম দুটিতে গড়ে ওঠা এসব কারখানার মালিকরা জানান, তাদের ব্যবসার পিছনে সরকারি কোন সহযোগিতা নেই।

ব্যবসায়ী আকতার হোসেন জানান, অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মাঝে এ ব্যবসায় সাফল্য এসেছে। এর  পিছুনে কঠোর পরিশ্রম আর মেধা খাটাতে হয়েছে। প্রথম দিকে গ্রামের অনেকেই উপহাস করেছেন। পরবর্তীতে এরাই আবার এ ব্যবসায় এসেছে। বিভিন্ন জনের সাথে আলাপ করে আরো জানাযায়, অনেকে আবার প্রয়োজনীয় পরিমান মুলধনের অভাবে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারছেন না। এদের কেউ কেউ বিভিন্ন এনজিও কিংবা ব্যক্তির কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কারখানায় কাজ করে এমন মহিলা শ্রমিকদের সাথে কথা হলে জানা যায়, সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য তারা এ পেশায় কাজ করছেন। ভোর সকালে সংসারের কাজ সেরে কারখানায় এসে কাজ করেন ।

আবার কাজ শেষে বাড়ি ফিরে সংসারের কাজেই সময় ব্যয় করতে হয়। এরপরেও তারা সুখী কেন না এখানে কাজ করে বাড়তি আয়ে সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। এ গ্রাম দুটিতে রয়েছে পণ্য পরিবহনের সমস্যা। আজ পর্যন্ত সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে নাই। চাপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী আনোয়ার উদ্দিন, ডোমারের ব্যবসায়ী মতিন মিয়া, যশোরের আরমান আলী জানান, তারা নিজেরাই এখানে এসে পাইকারী দামে তৈরি পোষাক কিনে নিয়ে নিজ এলাকায় বিক্রি করে থাকেন। এখানকার তৈরি পোষাক তারা কমদামে কিনতে পারছেন অথচ এসব পোষাকের মান অনেক উন্নত। এ গ্রাম দু‘টির সাধারণ কারখানাগুলোর তৈরি পোষাক সামগ্রী এখন দেশ জুড়ে বিক্রি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.