জেলা পরিষদ নির্বাচনে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন ভুলু

09রাজশাহী  প্রতিনিধি: রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মাহবুব জামান ভুলু। শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। মাহবুব জামান ভুলু আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক।

রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য মাহবুব জামান ভুলুসহ আবেদন করেন ১৪ জন। অপর ১৩ জনের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জিনাতুন নেছা তালুকদার, আওয়ামী লীগ নেতা ও রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মোহাম্মাদ আলী সরকার, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান বাদশা, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি রবিউল আলম বাবু, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু, আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম শরিফ, শ্রমিক লীগ নেতা নুর কুতুব আলী মান্নান, নাসির উদ্দিন বিদ্যুৎ, চারঘাট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলফোর রহমান।

রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুব জামান ভুলু শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ সম্মান পাশ। তিনি ১৯৬৫ সাল থেকে ছাত্রলীগ রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন ও সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে ছাত্র ঐক্য সংগ্রাম পরিষদে নেতা নির্বাচিত এবং বৃহত্তর রাজশাহীর গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও বিএনএফ রাজশাহীর কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে আওয়ামী যুবলীগ সদস্য ছিলেন।

তিনি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর বাকশাল রাজশাহী জেলা শাখার যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বঙ্গবন্ধুর স্ব-পরিবারে মৃত্যুর পর সামরিক জনতার হাতে গ্রেফতার ও কারা বরণ করেন। ১৯৭৮ সালে ঢাকা কারাগার হতে মুক্তিলাভ করেন। ১৯৭৯ সালে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোয়ন লাভ এবং পরে ১৪ দলকে সমর্থন করেন।

তিনি ১৯৮৮ থেকে ৯২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং স্বেরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালে রাজশাহী-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সংগঠনকে সুসংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

তিনি ১৯৯৭ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কাউন্সিলের মাধ্যমে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য। এছাড়া তিনি রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.