রাজশাহীতে চাঁদা আদায় করতে গেলে এএসআইকে পিটিয়ে আহত

14রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীতে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার এক এএসআইকে পিটিয়ে আহত করেছে মাদক ব্যবাসয়ীরা। আহত ওই এএসআইয়ের নাম শামিউল হক। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নগরীর কাজলা খোজাপুর গোরস্থান এলাকায় তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকাদার ও নগরীর জাহাঘাট এলাকার বাসিন্দা একরামুল হকের ছেলে শিমুল হোসেনের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে আহত শামিউলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথার বাম পাশে জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে ওই ওয়ার্ডের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এসময় তার নিকট থেকে পিস্তলও কেড়ে নেওয়া হয়। তবে পরবর্তিতে পিস্তলটি ফেরত দেওয়া হয়। ঘটনার সময় সাদা পোশাকে একাই ছিলেন শামিউল। পরে মতিহার থানা পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

পুলিশ ও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকাদার ও নগরীর মতিহারের জাহাজঘাটি এলাকার বাসিন্দা শিমুলের সঙ্গে আগে থেকেই মাদকের চাাঁদা আদায় নিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এএসআই শামিউল হকের। তবে এরই মাঝে তাদের মধ্যে দ্বদ্বের সূত্রপাত ঘটে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, শামিউল ওই এলাকায় সাদা গিয়ে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করতেন। শনিবার বিকেলেও তিনি চাঁদার টাকা আদায় করতে যান। এসময় কয়েকজনের ওপর চড়াও হলে শিমুলের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা করা হয়।

এরই জের ধরে শনিবার বিকেলে এএসআই শামিউলের ওপর হামলা করেন শিমুল, তার সহযোগী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গড ফাদার আলমগীর হোসেন আলো, ভাই শাহাঙ্গীর হোসেন ও  স্থানীয় বাবুসহ ৫-৭ জন তার ওপর হামলা চালায়। এসময় পিটিয়ে শামিউলের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। কেড়ে নেওয়া হয় কমরে থাকা পিস্তলটিও। যদিও পরে পিস্তলটি ফেরত দেন শিমুল।

নগরীর মতিহার থানার ওসি হুমায়ন কবির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সাদা পোশাকে আসামি ধরতে গেলে এএসআই শামিউলের ওপর হামলা করে স্থানীয়রা। তাকে একটি গলির মধ্যে ডেকে নিয়ে গিয়ে হামলা করা হয়। পরে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সময় শামিউল একাই সাদা পোশাকে আসামি ধরতে গিয়েছিলেন-যোগ করেন ওসি।

ওসি বলেন, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভূক্ত আসামিরা একজোট হয়ে এএসআই শামিউলের ওপর হামলা করেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে শিমুল এই হামলার নেতৃত্বে ছিল কিনা জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘শুনেছি তবে এখনোই আমরা তার বিষয়ে কিছু বলছি না। তদন্ত চলছে।’

এদিকে আহত শামিউল হাসপাতালে জানান, শনিবার রাতে মাদক ব্যবসায়ী ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভূক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানোর জন্য তিনি আসামিদের বাড়ির নিশ্চিত হতে যান। তবে বিষয়টি জাহাঙ্গীরের ছেলে শাহাঙ্গীর টের পাওয়ায় তারা বাপ-ছেলেসহ আরো কয়েকজন মিলে শামিউলের ওপর হামলা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.