শীতের আগমনী বার্তায় বগুড়ার শেরপুরে চলছে শীত নিবারণের প্রস্তুতি

03শেরপুর(বগুড়া) প্রতিনিধি: গত কয়েকদিন ধরে শীতের হাওয়া বইতে শুরু করেছে হেমন্তের আগমনী বার্তার মাধ্যমেই। হেমন্তের শেষেই আসছে শীতকাল। প্রচন্ড শীতকে মোকাবেলা করতে রাত্রীতে গরম পরশ নিতে ছোটাছুটি করছে আগাম শীতার্থ মানুষেরা। আর সেই গরম উষ্ণুতার সহায়ক লেপ-তোষক তৈরী করতে ব্যস্ত রয়েছে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার শহরসহ বিভিন্ন এলাকার কারিগররা । উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ও দোকানে কারিগররা তৈরি পূর্বক বিক্রির জন্য লেপ-তোষক মজুদও রেখেছেন শীতের হীমেল হাওয়া শুরু হওয়ার আগে থেকেই।

এদিকে বিত্তবান লোকজন নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য লেপ-তোষক সংগ্রহ করছেন। অপরদিকে ছিন্নমুল পরিবারের মহিলারা পুরান শাড়ি, লুঙ্গি দিয়ে কাঁথা তৈরি করে চলেছেন। তাদেরও লেপ-তোষকের সাধ থাকলেও অনেকের সাধ্য না থাকায় তারা রং-বেরঙের সুতা দিয়ে কাঁথা বানানোর কাজ চালাচ্ছে।
গরম কাপড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে ধুনকর কারিগররা। লেপ-তোষক তৈরির অগ্রিম বায়না নিচ্ছে তারা।

শীত নিবারণের জন্য দর্জি দোকানগুলোতেও ভিড় জমাচ্ছে শীতার্থ মানুষ। বিভিন্ন ধরনের শীতবস্ত্র  তৈরির পাশাপাশি কোট-প্যান্ট তৈরির গ্রাহকসেবা চলছে পুরোদমে। স্বল্প আয়ের লোকেরা অবশ্য ফুটপাতে গড়ে ওঠা পুরান কাপড়ের দোকানে ধরণা দিচ্ছে। কিন্তু আমদানির পরিমাণ কম থাকায় ও মূল্য  বেশি হওয়ায় ক্রেতারা বিমুখ হয়ে  ফেরত যাচ্ছে।

এদিকে খোলা বাজারে লেপ-তোষক তৈরির তুলার দামও ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। উপজেলার শালফা, মির্জাপুর ও শহরের বাসপট্টি বাজার, রেজিস্ট্রি অফিস, খামারকান্দি বাজার, কুসুম্বী, ছোনকা, সীমাবাড়ি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার শীতবস্ত্র তৈরীর দোকানের কারিগররা লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে।

লেপ-তোষক তৈরির কারিগর মোঃ আরমান, রহমত,আসলামসহ একাধিকরা জানায়, বাজারে প্রতি কেজি গার্মেন্ট তুলা ২৫ থেকে ৭০ টাকা, শিমুল তুলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং কার্পাস ও শিশু তুলা ১৮০  থেকে ২০০ টাকা বেচাকেনা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তুলার রকমভেদে একটি লেপ তৈরী করতে কারিগরের মুজুরী সহ ব্যায় হচ্ছে ৬’শ থেকে ১৫’শ টাকা পর্যন্ত এবং তোষক বিক্রি হচ্ছে ৫’শ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। একটি লেপ বা তোষক তৈরী করতে ২জন কারিগর লাগে। তবে ২জনের পরিশ্রমে দিনে ২টি লেপ বা তোষক তৈরী করতে পারে।

তাছাড়া গত বছরের তুলনায় এ বছর তুলার মূল্য অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে বধূরা শীতের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পুরান কাঁথা-কম্বলগুলো জোড়া-তালি ও মেরামত করছে। এভাবেই চলছে  শেরপুর উপজেলার শীতার্থ মানুষদের শীত নিবারণের আগামা প্রস্তুতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.