সীমান্তে গরু আমদানিতে নতুন নিয়ম, লোকসানে ব্যবসায়ীরা

11মঈন উদ্দীন : রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্তে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ায় গরু-মহিষ আসা কমে গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ১৯৯৪ সালে গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোর চালু হয়। এরপর ভারতীয় গরু মহিষ সীমান্ত পার হয়ে সরাসরি সুলতানগঞ্জ করিডোরে আসতো। রাজস্ব ছাড় সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে গরু-মহিষ চলে যেত। ২০০৫ সালে ভারত সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেঁড়া নির্মাণ করলে গরু-মহিষ আসা বন্ধ হয়ে যায়।

গত কয়েক মাস থেকে বগচর ও বাখের আলী সীমান্ত দিয়ে গরু-মহিষ আসা শুরু করে। পুরাতন নিয়ম অনুযায়ী সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোরে গরু-মহিষ আসলেও গত দুই সপ্তাহ থেকে সীমান্তে নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় সরাসরি সুলতানগঞ্জ করিডোরে গরু-মহিষ আসা বন্ধ হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সীমান্ত পার হওয়ার পর হাজার হাজার গরু-মহিষ বগচরে আটকে দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। এরপর রাজস্ব ছাড়পত্র সংগ্রহ করে সীমান্ত এলাকা বগচর থেকে গরু-মহিষ আনা যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০০ গরু-মহিষের বেশি সীমান্ত থেকে আনা যাবে না। অথচ দুই সপ্তাহ আগে সীমান্ত পার হওয়া মাত্রই সব গরু-মহিষ সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোরে সরাসরি আনা যাচ্ছিল।

তবে এ বিষয়ে সীমান্তে কর্মরত বিজিবি সদস্যরা কথা বলতে রাজি হননি। সীমান্ত পার হয়ে দীর্ঘ সময় বগচরে অবস্থান করায় গরু-মহিষ ঠিকমত থাকা ও খাওয়ার সুবিধা পাচ্ছে না। অধিকাংশ গরু-মহিষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সীমান্তে আটকে থাকার কারণে সময় মত রাজশাহী সিটি হাট ও কাঁকনহাটে গরু-মহিষ তুলতে না পেরে ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন।

গরু ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, সীমান্তে নতুন নিয়মের বেড়াজালে পড়ে দেড় লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। মনিরুল নামের আরেক গরু ব্যবসায়ী চারটি গরুতে ৫০ হাজার টাকা লোকসান করায় আপাতত গরু-মহিষ ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন। তার মতো অনেক ব্যবসায়ী গরু-মহিষ আনা বন্ধ করে দেওয়ায় সুতলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোরে রাজস্ব আদায় কমে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.