রাজশাহী ওয়াসার ১২ কোটি টাকার টেন্ডার পেলেন সরকার দলীয় ঠিকাদাররা

01রাজশাহী বুরো প্রতিনিধি: : রাজশাহী পানি  ও পয়:নিস্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) ১২ কোটি টাকার টেন্ডার ভাগ-বাটোয়ারা করে নিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা। কাউকে টেন্ডার ফেলতে না দিয়ে তারা সিন্ডিকেট করে ওই টেন্ডারগুলো ভাগ করে নেন নিজেদের মধ্যে। ১৬টি গ্রুপের এ টেন্ডারে পুলিশ পাহারায় একজন ঠিকাদার সিডিউল জমা দিতে পারলেও পরে হুমকি দিয়ে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে প্রত্যাহার করে নিতে।

অন্য ঠিকাদাররা টেন্ডরে অংশ নিতে না পারায় সরকার দলীয় নেতা বলে পরিচিত ৯ জন ঠিকাদারই এ কাজ পাচ্ছেন এমনটিই নিশ্চিত করেছেন অন্যান্য ঠিকাদার ও ওয়াসার একাধিক সূত্র। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে অন্যান্য ঠিকাদারের মাঝে।

রাজশাহী ওয়াসা সূত্র জানায়, গত ১০ অক্টোবর রাজশাহী ওয়াসার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুন:সংস্কার জন্য ১৬টি গ্রুপে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে ট্রেন্ডার আহ্বান করা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার থেকে সিডিউল জমা পড়তে থাকে।

বৃহস্পতিবার ছিল সিডিউল জমাদানের শেষ দিন। তবে এই টেন্ডারে বাইরের ঠিকাদারদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ ও যবলীগের কয়েকজন নেতা এবং তাদের পছন্দের লোকজনকে টেন্ডারগুলো পাইয়ে দিতে প্রাণপণ চেষ্টা চালানো হয় গত তিন দিন ধরেই।

এ কারণে পুলিশ পাহারায় একজন ঠিকাদার কোনোমতে সিডিউল ফেলতে পারলেও গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ দিনে তাঁকে নগরীর শালবাগান এলাকায় অবস্থিত ওয়াসা কার্যালয়ের পাশে একটি স্কুল মাঠে ধরে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আবারো সিডিউল প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
সূত্র মতে, সুষ্ঠ মতো টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারলে ১৬টি গ্রুপে অন্তত ১৫০ জন ঠিকাদার অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু সেখানে সিডিউল জমা পড়েছে সর্বোচ্চ ৭০টির মতো।

প্রতিটি গ্রুপের টেন্ডারে নিয়ম অনুযায়ী কমপক্ষে ৩টি করে টেন্ডার জমা পড়লেই তবেই কর্তৃপক্ষ বাছ-বিচার করে সবচেয়ে কমমূল্য প্রদানকারী ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই হিসেব কষেই প্রতিটি গ্রুপে ৩-৪টি করে। প্রতিটি গ্রুপের জন্য অন্তত ১০টি করে সিডিউল বিক্রি হয়। কিন্তু স্থানীয় নেতাদের ভয়ভীতির কারণে অন্য ঠিকাদাররা টেন্ডারে অংশ নিতে না পারায় বাকি সিডিউলগুলো জমা দিতে পারেনি ঠিকাদাররা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করে জানান, তারা টেন্ডারে অংশ নিতে নিয়ম অনুযায়ী রাজশাহী ওয়াসার অনুকূলে ব্যাংক ড্রাফটও করেন। সেটি করতে গিয়ে তাদের প্রতিটি গ্রুপের জন্যই লক্ষাধিক টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়েছে। সবমিলিয়ে ১৬টি গ্রুপের কাজ পেতে ঠিকাদাররা লাখ লাখ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করেছেন। কিন্তু স্থানীয় নেতাদের বাধার কারণে সেই সিডিউল শেষ দিন পর্যন্ত জমা দিতে পারেননি।

আবার একজন ঠিকাদার পুলিশ পাহারায় ওই টেন্ডারে অংশ নিতে পারলেও গতকাল তাঁকেও সিডিউল প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে। নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই ঠিকাদার সিডিউল প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন বলেও তাঁর ঘোনিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর এ নিয়ে রাজশাহীর অন্যান্য ঠিকাদারদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।

এসব বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেয় রাজশাহী ওয়াসার তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মাসুদ বলেন, ‘বাইরে কি হয়েছে বলতে পারবো না। তবে আমরা ওয়াসা কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মোতায়েনসহ সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে রেখেছিলাম। এই অবস্থায় কারা টেন্ডারে অংশ নিতে পারলো না, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘একজন ঠিকাদার সিডিউল প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। কিন্তু কেন করেছেন-তাও বলতে পারব না।’
পারভেজ মাসুদ জানান, টেন্ডারে অংশ গ্রহণের জন্য ব্রাংকের মাধ্যমে সিডিউল বিক্রি করা হয়। ফলে কতটি সিডিউল বিক্রি হয়েছে সেটি এখনো ব্যাংক থেকে হিসেবে পাওয়া যায়নি। আবার টেন্ডার বাক্স খোলার পরে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করায় কতটি সিডিউল জমা পড়েছে, সেটিও বলতে পারবো না। তবে ৭০-৮০টি মতো সিডিউল জমা পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.