গোবিন্দগঞ্জ সাহেবগঞ্জের ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষে থানায় মামলা

05গাইবান্ধা থেকে আরিফ উদ্দিন: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের সাঁতালদের উপর হামলা, লুটপাট ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৬শ’ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে মাদারপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ সাওতালদের পক্ষে স্বপন মুরমু। বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় তিনি এ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই থানা পুলিশ অভিযানে নেমে পরে এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে আটক করে। আটকৃতরা হলেন, উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের আব্দুল রশিদ, শাহনেওয়াজ, বাদশা, চয়ন মিয়া, সাগর মিয়া।

এদিকে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকায় রংপুর চিনিকলের অধিগ্রহণকৃত জমিতে সাঁওতালদের বসতি স্থাপন করা এবং জমি প্রদানের নামে ভূমি উদ্ধার কমিটির যে সমস্ত নেতৃবৃন্দ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন তাদের মদদ দিয়েছেন এবং তাদের দাবি মত চাঁদা বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন স্বপন মুরমু’র দায়ের করা মামলায় তাদের কেন আসামি করা হয়নি সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেননা সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজন এব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হচ্ছে না। এব্যাপারে সাঁওতাল ভূমি উদ্ধার কমিটির কোষাধ্যক্ষ রাফায়েল হাসদার সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বলেন, এই মামলা সম্পর্কে তিনি শুনেছেন। তবে গ্রেফতারকৃত আসামিদের নাম বললে তিনি জানায়, আটক চয়ন মিয়া অত্যান্ত সন্ত্রাসী এবং সংসদ সদস্যের অত্যান্ত ঘনিষ্ট চামচা। তাদের সাম্প্রতিক এ দুর্ভোগের জন্য চয়ন মিয়া দায়ী বলে তিনি জানান।

উচ্ছেদকৃত সাঁওতালদের দিনকাল ঃ মাদারপুর গ্রামের খৃষ্টান মিশন গীর্জা এলাকা সংলগ্ন মাঠ ও গাছের তলায় আশ্রিত গৃহহীন সাঁওতালদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানে তাদের বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ায় এখন তারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। যদিও এখন সরকারি ত্রাণ সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের চাল, ডাল, লবণ, তেল, আলু, কম্বলসহ নানা ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। তারপরেও এখন তাদের হাতে কোন কাজ না থাকায় এবং নগদ অর্থ সংকটে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। কৃষ্ণ মুরমু, ভবেশ মারর্ডি এবং রাফায়েল হাসদার সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এখনও ওই দাবিতে অনড়, যে জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে সেখানকার কাঁটা তারের বেড়া তুলে ফেলে তাদের পুনর্বাসিত করা হোক। তদুপরি গোবিন্দগঞ্জ থানায় ৩৮ জন নামীয়সহ যে অজ্ঞাতনামা সাড়ে ৩শ’ সাঁওতালকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে তা প্রত্যাহারসহ গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়া হোক।

সাঁওতালদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, উচ্ছেদকৃত এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার সাঁওতাল যারা এখন পার্শ্ববর্তী হরিণাবাড়ি, জয়পুর ও মাদারপুর সাঁওতাল পল¬ী এলাকায় নিজ নিজ আত্মীয়-স্বজনসহ অন্যান্য সাঁওতাল পরিবারের বসতবাড়িতে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে। আবার অনেকে খৃষ্টান মিশন গীর্জা সংলগ্ন অবকাঠামোগুলোতে বসাবস করে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

কৃষক সমিতি ও যুব ইউনিয়নের ত্রাণ ঃ বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ও কৃষক সমিতি গাইবান্ধা জেলা শাখার পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ইক্ষু খামারের উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত মাদারপুর খৃষ্টান মিশন গীর্জায় আশ্রিত দুইশত সাঁওতাল পরিবারের মধ্যে হাঁড়ি-পাতিল, থালা, গ্লাস, চামুচ বিতরণ করা হয়। এব্যাপারে যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রতিভা সরকার ববি ও কৃষক সমিতির জেলা শাখার সভাপতি সুভাষ শাহ রায় বলেন, সাঁওতাল পল্লীর অধিবাসীদের উচ্ছেদের সময় বাড়িঘর, হাড়ি-পাতিলসহ বাসনপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাড়িঘর পুড়ে যায়। তারা এখন কলার পাতায় খাবার খাচ্ছে। রান্না করার সামগ্রী না থাকায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেজন্যই তারা ত্রাণ হিসেবে এ সমস্ত তৈজাসপত্র বিতরণ করেন।

উলে¬খ্য, গত ৬ নভেম্বর, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের আখের বীজ কাটাকে কেন্দ্র করে খামারের  জমি দখলকারী আদিবাসী সাঁওতালের সাথে শ্রমিক-কর্মচারী ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এ সময় সাওতালদের  নিক্ষিপ্ত তীর-ধনুকের আঘাতে ১০ পুলিশ তীরবিদ্ধ সহ ৩০ জন আহত হয়। এঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ৩৮ জনের নাম উলে¬খ করে অজ্ঞাত সাড়ে ৩শ’ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.