সিরাজগঞ্জের তাড়াশ চলনবিলাঞ্চলে চলছে নির্বিচারে পাখি শিকার

04সিরাজগঞ্জ থেকে এইচ.এম মোকাদ্দেস: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ চলনবিলাঞ্চলে চলছে নির্বিচারে অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার। পেশাদার ও সৌখিন শিকারীরা প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পাখি শিকার করে প্রকাশ্যে বাজারে তা বিক্রি করলেও দেখার কেউ নেই। স্থানীয়রা জানান, তাড়াশ চলনবিলে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন্ কৌশলে প্রতিদিন গড়ে ২শ’-৩শ’ অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করা হচ্ছে। বর্তমানে চলনবিলের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, সিংড়া ,গুরুদাসপুর উপজেলার বিল থেকে  পানি নেমে যাচ্ছে। বছরের আশ্বিন, কার্ত্তিক ও অগ্রায়ন মাসে চলনবিলে ডাহুক, কোরা, ঘুঘু, বক রাতচড়া, পানকৈড়, তৃসুল, বালিহাঁস সহ বিভিন্ন প্রকারের পাখি বেশী দেখা যায়।

আর এ সময় বিলে প্রচুর খাদ্য পাওয়ায় দেশের বিভিন্নস্থান থেকে  বিপুল সংখ্যক অতিথি পাখি বিলে খাদ্য সংগ্রহে আসে। এ সুযোগে শিকারীরা চলনবিলের কমপক্ষে ৩৫-৪০ টি স্থানে জাল পেতে , বিষটোপ, বড়শিতে মাছ গেঁথে ও ফাঁদ পেতে নির্বিচারে  ওই সব পাখি শিকার করছে। চলনবিলের যে সব স্থানে পাখি খাদ্য অন্ন্ষেণে নেমে পড়ে সেখানে সাত সকালে কিম্বা রাতে পেশাদার শিকারীরা পাখি শিকারের উপকরণ নিয়ে বিলে নেমে পড়ে। তারা তাদের কৌশলে পাখি ধরে খাঁচায় ভরছে। আবার অনেক সৌখিন শিকারীরা এয়ার গান দিয়ে প্রকাশ্যেই দিন-দুপুরে পাখি মেরে ভুড়িভোজে মেতে উঠছেন। তাড়াশ ্িবলপাড়ার  আলী  জানান, বর্তমানে তাড়াশ, সিংড়া, গুরুদাসপুরের মধ্য বিলে সবচেয়ে বেশী পাখি শিকার হচ্ছে।

আবার এসব পাখি চলনবিলের হাট বাজারে ফেরী করে প্রকাশ্যেই বেচা কেনা হচ্ছে। বারুহাঁস বাজারের শফিউল হক   বলেন, তার এলাকার  বিলে প্রতিদিন এক’শ থেকে দেড়শ বকসহ বিভিন্ন পাখি শিকার করা হচ্ছে। শিকার করা প্রতি জোড়া পাখি প্রকারভেদে ১শ’-২শ’ টাকায় বিক্রিও হচ্ছে। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনজুর রহমান পাখি শিকার প্রসঙ্গে বলেন, যে কোন প্রকার পাখি শিকার করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। চলনবিল একটি বৃহৎ এলাকা হওয়ায় সমন্বিতভাবে পাখি শিকার বন্ধ করতে হবে। তবে তাড়াশ এলাকায় পাখি শিকারীদের পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.