বগুড়ার গাবতলীতে পুরোদমে চলছে আমন ধান কাটা মাড়াই

 

VLUU L100, M100 / Samsung L100, M100

বগুড়া থেকে আল আমিন মন্ডল : বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় পুরোদমে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা-মাড়াই। ফলন ভাল হওয়ায় খুশি কৃষক পরিবার। ফলে কৃষকের ঘরে চলছে নবান্ন উৎসব।

জানাযায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন’সহ পৌরসভা এলাকায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ১৬হাজার ৪শ ৫০হেক্টর জমিতে। অর্জিত হয়েছে ১৬হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৬৫হাজার ৫শ মেট্রিক টন (চাল)। এছাড়াও এবছরে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ৪শত হেক্টর জমিতে।

যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১হাজার ৬শত মেট্রিক টন (চাল)। ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে ৩শ ৩০হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রীড ২শ হেক্টর ও উপসী ১শ ৩০হেক্টর। তবে উপসী জাত ধান কর্তন করে দেখাগেছে প্রতি হেক্টর চালে ৩.৫মেট্রিক টন। যা গতবছরের চেয়ে প্রায় ১শত হেক্টর বেশি জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। তবে বেশীর ভাগ কৃষক মাঠে (ব্রি-ধান ৪৯) আমন ধানের চাষ করেছে। ফলে উপজেলার গ্রামাঞ্চলে আমন ধান সংগ্রহে কৃষক-কৃষানিরা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

দিনমজুর সংকটসহ মূল্যেবৃদ্ধি পেলেও কৃষক পরিবারগুলো এখন দম ফেলানোর সময় নেই। কৃষকের আঙ্গিনা জুড়ে এখন মৌ-মৌ গন্ধে মুখরিত। নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছে কৃষক পরিবার। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখাগেছে, কৃষকরা এখন আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। কাগইল কৈঢোপ গ্রামের কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এবছরে পরিবেশ অনূকুল ও ধান ক্ষেতে পোকা মাকড়ের আক্রমন কম থাকায় আমন ধানের ভাল ফলন হয়েছে।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমন ধান চাষ ও উৎপাদন বেড়েছে। ধানগাছ পোকা থেকে রক্ষা করতে পাচিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করে কোন কীটনাশক ছাড়াই পোকা দমন করা সম্ভব হয়েছে। রামেশ্বরপুর শুভপাড়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, প্রতি বিঘায় ১৮থেকে ২২মন ধান পেয়েছি। এখন ধানের ন্যায্যমূল্যে পেলে আমরা খুশি। তাই তারা আমন ধানের ন্যায্য মূল্যে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কৃষি অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। সোনারায় আটবাড়ীয়া বামুনিয়া গ্রামের কৃষক দুলু শাহ ও আব্দুল হান্নান জানান, আমন ধান কর্তন শেষে জমিতে শীতকালিন সবজি মুলা, ভূষ্টা ও আলু ফসল চাষ করা যাবে।

গাবতলী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক পরামর্শের ফলে এবছরে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে যাবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, উপজেলা জুড়ে কৃষকরা আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছে।

এবছরে ধানের ভাল ফলন হয়েছে। ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান জাহিদ, জাহাঙ্গীর আলম, ডিএস তনশ্রী, রিভা রানী, আক্তার জাহান ও জান্নাতুন মহল তুলি জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় আমরা সবসময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসচ্ছি।

ফলে গাবতলীতে আমন ধানের ভাল ফলন হয়েছে। এখন কৃষকের ঘরে ঘরে চলছে নবান্ন উৎসব। উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জুলফিকার আলী হায়দার জানান, কৃষক মাঠ স্কুল ও কৃষকদের নিয়ে আমন ধান চাষ বিষয়ক উঠান বৈঠক’সহ কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মশালা করা হয়েছে। ফলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.