বীরগঞ্জে শিশু স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের ৯ দিন পর উদ্ধার

10বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকে মোঃ নজরুল ইসলাম খান বুলু: বীরগঞ্জে শিশু স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের  ৯ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলার ৪০ কিলোমিটার উত্তরে পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সোনাচালনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণী ছাত্রী সোনাচালনী গ্রামের দরিদ্র দিন মুজুরের মেয়ে কে একই গ্রামের পাতানো নানা জয়নালের ছেলে মোঃ মতি (৩২) / রোববার (৬/১১/১৬) নিজ বাড়ীতে নিয়ে যায়। রাতে নানার সাথে এক বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের এক পর্যায় শিশু স্কুল ছাত্রীকে জোর পূর্বক ধর্ষন ও রক্তাত্ত করে। শিশুর চিৎকারে পরিবারের লোকেরা জেগে গেলে ধষর্ক নিজ বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়।

সংবাদ পেয়ে বৃষ্টির বাবা ও পরিবারের অন্যরা বৃস্টিকে বাড়ীতে নিয়ে যায় ও ব্যাথার বড়ি খাওয়ায়। ধর্ষক বাবুল পালিয়ে পলাশবাড়ী ইউপি সদস্য শাহ্ আলমের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। শাহ্ আলম স্থানীয় টাউট জহরুল ও দুলালের সহযোগিতায় সালিস মিমাংসার প্রস্তাব দিয়ে ৯ দিন আটকিয়ে রাখে।

শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত স্থান ইনফেকশন হয়ে ব্যাথার যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকলে পলাশবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েলুর রহমানকে অবহিত করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েলুর রহমান  শিশুটিকে থানায় পাঠিয়ে দেন। সংবাদ পেয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মোস্তাক আহম্মেদ মানিক ও স্কুল শিক্ষক আজাহার আলী সহ অন্যরা থানায় পৌছে দিয়ে ধর্ষনের ঘটনার সঠিক বিচার সহ ধর্ষকের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানান।

সহকারী পুলিশ সুপার সুজন সরকার নিজেই শিশু স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনায় জবানবন্দ্রী গ্রহন করেন। তিনি তাৎক্ষনিক ভাবে পুলিশের তত্বাবধানে স্কুল ছাত্রীটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে শিশু স্কুল ছাত্রী বৃস্টি খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।

উল্লেখিত ঘটনায় শিশু স্কুল ছাত্রীর বাবা বাবুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/২০০৩ইং) এর ৯ (ক) ধারায় মামলা দায়ের করেছে। ওসি আবু আক্কাছ আহ্মদ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ধর্ষক ও সহযোগি আসামীদের গ্রেফতারের,জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.