সিরাজগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী পা দিয়ে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে

04সিরাজগঞ্জ থেকে এইচ. এম মোকাদ্দেস: প্রবল ইচ্ছা শক্তি দিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধীতাকে হার মানিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে       জন্মগতভাবে দু’টি হাত ও একটি পা হীন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ফজলুর রহমান ফজলু নামে এক প্রতিবন্ধী ছাত্র। সে গত ১লা নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা দিচ্ছে উপজেলা সদরের শ্যাম কিশোর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। ফজলু বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের মিটুয়ানী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। শারীরিক প্রতিবন্ধী স্কুল ছাত্র ফজলু একই ইউনিয়নের চক গোপালপুর গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে।

তার ছোট বোন আসমা খাতুনই ফজলুকে স্কুলে যাতায়াতে সাহায্য করে। সেও ভাই ফজলুর সাথে জেএসসি পরিক্ষা দিচ্ছে। বাবা-মা, দুই ভাই ও পাঁচ বোন নিয়ে তাদের সংসার। তিন বোনের বিয়ে হয়েছে। বড় ভাই তাঁতের কাজ করে, বাবা-মা দিন মজুর। তার মা সারা খাতুন বলেন, ২০০০ সালে ফজলু বিকলাঙ্গ অবস্থায় জন্ম নেয়। আমরা স্বামী-স্ত্রী কেউ লেখাপড়া জানি না। ছোট মেয়ে আসমা না থাকলে ফজলুকে লেখা পড়া করানো সম্ভব হতো না। অভাব অনটনের মধ্যে সন্তানদের লেখাপড়া শিখাচ্ছি। ফজলুর দু’হাত ও এক পা না থাকলেও অনেক কাজ নিজেই করতে পারে।

মিটুয়ানী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজেদুল হক জানান, ২০১৪ সালে ফজলু এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সে লেখাপড়ায় ভালো, স্মরণশক্তিও প্রখর। তারা দুই ভাই বোন এই স্কুলেই লেখাপড়া করে। ফজলুর বাবা সাহেব আলী বলেন ফজলু যেন লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হতে পারে । সে তিনি জন্য সবার দোয়া ও সহযোগীতা  কামনা করেন ।

শ্যাম কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব এসএম শহিদুল রেজা বলেন, ফজলু ভালো পরিক্ষা দিচ্ছে। ওর পরিক্ষার প্রতি আমরা বিশেষ নজর রাখছি। বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করার সময় তাকে দেখে আলাদা পরিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হলেও কিন্তু ফজলু তা গ্রহন করেনি। সে তার নির্ধারিত স্থানেই পরিক্ষা দিচ্ছে। তার শিক্ষা গ্রহণের জন্য সরকারিভাবে অনুদান দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.