ডোমারে ভুল চিকিৎসায় প্রসুতির মৃত্যু

05নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে ভুল চিকিৎসার ও অবহেলার জন্য এক প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি বুধবার ডোমার বাসষ্টান সংলগ্ন পালর্স হসপিটাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ঘটলেও সারা ফেলেছে বৃহস্পতিবার পুরো উপজেলা জুড়েই ।

মৃত সুরমা বেগম (৩৫) ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ভোগডাবুড়ী মুক্তিরহাট গ্রামের নালু ইসলামের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার বিকালে মৃত সুরমা বেগমের স্বামী নির্বাক নালু ইসলাম কেদে কেদে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার করুন কাহিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জানান, আমি খুব গরীব মানুষ দিন মিলাই দিন খাই,গত মঙ্গলবার বিকালে আমার গর্ভবতি স্ত্রীর প্রসবের ব্যাথা উঠলে তাকে ডোমারের পালর্স হসপিটালে নিয়ে আসি,সেখানের ম্যানেজারকে চিকিৎসক কোথায় জানতে চাওয়া মাত্রই ম্যানেজার বলেন আগে ভর্তি করান, তারপর ডাক্তার এমনিতেই ছুটে  আসবে।তার কাথা মত আমার স্ত্রীর শারিরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তারাতারি ভর্তি করি।

কিন্তু ভর্তি করা মাত্রই একজন নার্স এসে রোগিকে দেখে এবং বলে যে ডাক্তার বাহিরে আছে ফোনে কথা বলেছি আমাকে ওষুধ ও ইনজেকসন দিতে বলেছে। এরপর ওষুধ ও ইনজেকসন দেওয়ার পরে ধীরে ধীরে সুরমার পেটের ব্যাথা কমে যায়। এভাবে অনেক রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আর প্রসবের ব্যাথা উঠে না।তখন ডাক্তার কে বললে তিনি বলে যে তোমার স্ত্রীর পেটের বাচ্ছা পানি ছাড়া আছে,সিজার ছাড়া বাচ্ছা হবে না।

আমি নরমালে বাচ্ছা প্রসবের চেষ্টারর কথা বলি,কিন্তুু ডাক্তার বলে তা সম্ভব নয়। পরদিন বুধবার পর্যন্ত সুরমার পেটে ব্যাথা না থাকায় বাধ্য হয়ে সিজার করতে অনুমতি দেই।

বুধবার সকাল ১০টায় আমার স্ত্রীকে অপারেসন রুমে নিয়ে যায় এবং ৪০ মিনিট পরে জানায় যে আমার কন্যা সন্তান হয়েছে এবং একটু পর মেয়ে বাচ্ছা কে আমার কাছে এনে দেয়। কিন্তুু এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা পার হয়ে গেলে ও আমার স্ত্রীর সাথে আমাকে দেখা করতে দেয় না, বলে যে এখনও জ্ঞান ফেরেনি।

ঘটনাটি আমার সন্দেহ হওয়ায় পালর্স হসপিতাল এর ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করি অনেক হাতে পায়ে ধরার পর বলে যে তোমার স্ত্রী সুরমা মারা গেছে।একথা শোনার পর আমি মাথা ঘুড়ে পরে যাই। আমি সুস্থ হওয়ার পর হসপিতালের সবাই আমাকে বলে ,কান্না কাটি করে লাভ নেই যা হবার হয়ে গেছে,আমরা তো আর ইচ্ছে করে মারি নি।

যে যাওয়ার চলে গেছে এখন তোমাকে কোন খরচ দিতে হবে না আমরাই তোমার সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এভাবেই বলে তারাতারি নালু কে স্ত্রী মৃত সুরমা বেগম সহ বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার তাদের পারিবারিক কবরস্থানে মৃতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে পালর্স হসপিতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সত্বাধীকারী ডা: একরামুল হক কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করে জানান, সুরমা বেগম সিজার করার সময় হার্ট ষ্টোকে মারা যায়।

এদিকে মৃতের পরিবারসহ এলাকাবাসী ঘটনার সঠিক তদন্ত করে যাতে আরো কোনো সুরমার মত রোগীকে ভুল চিকিৎসায় ও দায়িত্বের অবহেলায় মরতে না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট্যদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.