পার্বতীপুরের পল্লীতে স্বামীর দেওয়া ঔষুধ খেয়ে স্ত্রীর মৃত্যু

09 দিনাজপুর প্রতিনিধি:  দিনাজপুরের পাবর্তীপুর উপজেলার হরিামপুর ইউনিয়নের খাকড়াবন(মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে রফিকুল ইসলামের সাথে উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর (পাথরাপাড়া) গ্রামের বড়পুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার মৌলভী শিক্ষক মোঃ মকছেদ আলীর ২য় মেয়ে মোছাঃ মৌসুমি বানু (২৫) এর সাথে ৪ বছর আগে বিবাহ হয়। বিবাহবাবদ জামাইকে নগদ ৭লক্ষ টাকা দিয়ে বড়পুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি হয়।  বিবাহ হওয়ার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো বলে জানান, মৃতার বাবা।

তিনি আরোও জানান, ০৯ই নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে তার মেয়ে জামাই রফিকুল ইসলাম তার অসুস্থ্য মেয়েকে আমার বাড়ীতে রেখে যায়। অসুস্থ অবস্থায় মৌসুমী বানু তার স্বামী রফিকুলকে ঔষুধের জন্য ফোন করলে ওইদিন সন্ধ্যায় হোমিওপ্যাথী ঔষুধ এর ২টি পুরিয়া তার স্ত্রীকে দিয়ে বলে খালি পেটে খেতে হবে বলে রফিকুল সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার নিজ বাড়ীতে চলে যায়।

স্বামীর কথা অনুযায়ী সরল বিশ্বাসে রাতের বেলা ঔষুধ খেয়ে নিজের স্বয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। পরেরদিন সকাল ৭টা বাজার পরেও যখন দরজা খোলেনা তখন দরজা ভেঙ্গে দেখতে পায় মৌসুমী মেছেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে এবং তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে এবং ঘরে বিষের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ওইদিন সকাল ৮টায় মৃতার বাবা তার মেয়ে জামাইকে মোবাইল ফোনে বলে মৌসুমীর অবস্থা ভালো না তুমি তাড়াতাড়ী আসো, অপরদিক থেকে রফিকুল বলে আমি আসতেছি বলে মোবাইল কেটে দেয়। এখন পর্যন্ত তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মৃতার ছোট ভাই রেজওয়ানুল হক বাদী হয়ে পাবর্তীপুর মডেল থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করেন। যাহার নং-৩৬, তারিখ ১০-১১-২০১৬। অপরদিকে মৃতার স্বামী রফিকুল ইসলাম তার নিজ এলাকায় পূর্ব রসুলপুর গ্রামে ২য় বিবাহ করেছেন বলে এলাকাবাসী জানান। এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস.আই.ফেরদৌস আলম বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ দিনাজপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং একটি ইউডি মামলা দায়ের করেছেন মৃতার ছোট ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.