গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খমার দখলমুক্ত: নতুন করে আখঁ চাষ

07গাইবান্ধা থেকে ফারুক হোসেন: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি দখলমুক্ত হবার পর নতুন করে আখঁ চাষ শুরু হয়েছে। রংপুর চিনিকলের (রচিক) কর্মচারীরা সোমবার দুপুর থেকে পাওয়ার টিলার দিয়ে এ জমি চেষে আখঁ চাষ শুরু করেন।

এর আগের দিন বিকাল থেকে রাত প্রায় ১০ টা পর্যন্ত  গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যজিষ্ট্রেট (এডিএম) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর প্রায় অর্ধ সহ¯্রাধিক সদস্য এই জমি কিছু সংখ্যক  দখলদার মুসলিম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির কবল থেকে উদ্ধার করে।

উপজেলার মহিমাগঞ্জস্থ  রচিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের ১৮৪২ একর জমির মধ্যে প্রায় ১২০০ একর জমি ৮ মাস আগে স্থানীয় ও বিহিরাগত কিছু সংখ্যক  দখলদার মুসলিম এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি সম্প্রদায়ের লোকজন দখলে নিয়ে ঘরবাড়ি তুলে বসবস করছিল।

08গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার জানান, সংখ্যক  দখলদার মুসলিম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির কবল থেকে জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এরপরো রচিক কর্তৃপক্ষ উক্ত জমি চাষে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা করায় ঘটনা স্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চাষ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হান্নান জানান, রচিক কর্মকর্তা কর্মচারিদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

সাহেবগঞ্জ ক্ষুদ্র নৃগোষ্টী সম্প্রদায়ের বাসিন্দা ভবেন মার্ডী জানান,  উত্তরাধীকারি সূত্রে তারা ইক্ষু খামারের ১৮৪২ একর জমির মালিক। এ জন্যই তারা উক্ত জমি দখলে নিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবস করে আসছিলো।

o9কিন্তু আখ কাটার নামে রচিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ প্রশাসন তাদের পক্ষে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় আত্ম রক্ষার্থে তারা তীর ছোড়লে পুলিশ পাল্টা রাবার বুলেট ও কাঁদনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশের ৭ সদস্য সহ কমপক্ষে ১০ জন তীরবিদ্ধ হন।পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা সটকে পড়েন।

তিনি আরো জানান, সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকায় না থাকার সুযোগে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিপুল পরিমান ফাঁকা গুলি করে। এ সময় কতিপয় দুস্কৃতি কারিরা তাদের নির্মিত  ডেরা ঘরে আগুন দিয়ে পুড়ে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.