নওগাঁর পত্নীতলার ধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

03পত্নীতলা (নওগাঁ) থেকে ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ: নওগাঁর নজিপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লিখিত বক্তব্যে ধর্ষকের পিতার পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ করেছেন জেলার রাণীনগর উপজেলার কাঁচারী বেলঘড়িয়া গ্রামের এক ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ। সংবাদ সম্মেলনে দিতি রাণী তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা, ধর্ষকের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি ও আসামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

৭ নভেম্বর তিনি লিখিত বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করে জানান, গত ০৪/১১/১৬ ইং তারিখে একটি ওনলাইন মিডিয়াতে আসামী পক্ষের “ধর্ষণের মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে নওগাঁয় সংবাদ সম্মেলন” শিরোনামে নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবে একই গ্রামের ধর্ষক জয়নুল ইসলামের (১৯) পিতা আলতাফ হোসেন সংবাদ সম্মেলন করেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনের খবরটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়। এতে বলা হয়েছে যে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ অক্টোবর ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ওই দিন রাতেই স্থানীয় ইউপি সদস্য এবাদুল হক ও মতব্বররা গ্রাম্য শালিসে উভয়কে ৫টি করে বেত্রাঘাত মারেন ও ৪০ হাজার টকা জরিমানা করা হয়।

এমনকি আসামীর বয়স ১৯ হলেও সেখানে বয়স লুকিয়ে কম করে ১৬ বছর করা হয়েছে ওই সংবাদ পরিবেশনে। অথচ, ঘটনার দিন থেকেই পলাতক রয়েছেন আসামী জয়নুল ইসলাম। ওই দিন কোন শালিসই বসেনি, এ কথাটি মিথ্যা ও সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। আমি এ খবরটির তিব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রকৃত পক্ষে ধর্ষণের অভিযোগে সেচ্ছায় একই গ্রামের বাসিন্দা আসামীর মামা জসিমের পুত্র রুবেল হোসেন ও ভগ্নিপতি আব্দুল মান্নান আমার পরিবার ও আমাকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে মিমাংসা ও ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন স্থানীয় ইউপি মেম্বারের মারফতে।

গ্রাম্য কোন শালিস ও মারপিটের ঘটনাই ঘটেনি। অথচ, ৬নং কালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ইউপি সদস্য মোঃ এবাদুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মানহানিকর তথ্য দিয়ে অপপ্রচার ও ফাঁসানোর পায়তারা করেছেন। যা পরক্ষণে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে ও সুস্থ মস্তিস্কে বিবেকে বাঁধা দেয় ভূয়া ও মিথ্যা সাজানো কাহিনিটি। অবশেষে বিলম্ব হলেও আমি কারো প্রচারণায় নয় নিজে বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা করি।  যা আইনের আশ্রয় নিই আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার ও শাস্তির দাবীর নিশ্চিত করণের জন্য। নওগাঁর রাণীনগর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধন) এবং ২০০৩ সালের ধর্ষণ করার অপরাধে একটি মামলা হয়। যার মামলা নং- ০২ ও তারিখ: ০২-১১-১৬ইং।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.