গোবিন্দগঞ্জে বন্দুকধারী পুলিশ ও তীরন্দাজ উপজাতিদের তুমুল যুদ্ধ : ৩হাজার বাড়ি পুড়ে ছাই : ১০ জন গুলিবিদ্ধ : ৮ পুলিশ তীরবিদ্ধ ( ভিডিও)

54গাইবান্ধা থেকে ফারুক হোসেন: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জে বন্দুকধারী পুলিশের সঙ্গে ঢালধারী তীরন্দাজ উপজাতিদের তুমুল যুদ্ধে কমপক্ষে ১০জন গুলিবিদ্ধ এবং ৮ পুলিশ তীরবিদ্ধ হয়ে গুরুতার আহত হয়েছেন। একহাতে ঢাল আরেক হাতে তীরধনুক নিয়ে তীরন্দাজ যোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধে একপর্যায়ে পুলিশ গুরি করতে করতে পিছিয়ে যেতে থাকে। এসময় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পেছন থেকে একদল হামলাকারি উপজাতিদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দিলে নারী শিশুদের আহাজারিতে এক বিভৎষ্য পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় । একদিকে আগুনের লেলিহান শিখা আর অন্যদিকে মুহুর্হমূহু বন্দুকের গুলির শব্দে ঢাল আর তীর ধনুক নিয়ে পেছনে হটতে বাধ্য হন উপজাতি যোদ্ধারা ।এসময় উপজাতিদের কমপক্ষে তিন হাজার ঘরবাড়ি,গরু,ছাড়ল গবাদিপশু আসবাবপত্র ধানচাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

রোববার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাহেবগঞ্জ ইক্ষুখামার এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিকাল ৫ টায় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল হান্নান সহ আরো ২ ম্যজিষ্ট্রেট এর নেতৃত্বে পুলিশ র‌্যাবের যৌথ আভিযানে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রংপুর চিনিকলের আওতাধীন সাহেব ইক্ষুখামারের ১৮শ ৪২ একর জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় আদিবাসীদের সঙ্গে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল ।

সকালে বিরোধীপূর্ণ ওই জমিতে রংপুর চিনি কল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আখ কাটতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ নেয়।  এসময়  উভয় পক্ষের অন্তত: ১৫ জন আহত হয়।

আহতদের মধ্যে এসআই আক্তার, এএসআই রাজু, এএসআই আসাদসহ ৭ পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তাৎক্ষণিক ভাবে আহত অন্যান্যদের  নাম জানা যায়নি।

আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের অনেকে আদিবাসীদের ছোড়া তীরবিদ্ধ হয়েছেন। ডাক্তারা অপারেশনের মাধ্যমে শরীর থেকে তীর বের করছেন ।

পরে বিকাল ৫ টায় নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট আব্দুল হান্নান সহ আরো ২ ম্যজিষ্ট্রেট এর নেতৃত্বে ৩ শতাধকি পুলিশ র‌্যাবের যৌথ আভিযানে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

রংপুর চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল খালেক সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার জানান,বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

https://youtu.be/5P0ISy_WVpE

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.