পুরনো ইট-সুরকি দিয়ে রেললাইন: মারাত্মক ঝুঁকিতে রাজশাহী স্টেশন

03রাজশাহী থেকে মঈন উদ্দীন: রাজশাহী স্টেশনে একটি নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে পুরনো ইট-সুরকি দিয়ে। ইন্দোনেশিয়া থেকে নতুন ১৪টি কোচ এসে রাজশাহী স্টেশনে যোগ হবে। ওই কোচ রাখার জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় নতুন এ লাইনটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে নতুন কোচের জন্য এ রেললাইনটি নির্মাণ করা হচ্ছে সবকিছুই পুরনো যন্ত্রাংশ দিয়ে।

এমনকি লাইনে পাথরের স্থলে ফেলা হয়েছে পুরনো ইটের সুরকি এবং খোয়া। ফলে শুরুতেই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণভাবেই তৈরী করা হচ্ছে এ লাইনটি। আর এমন অব্যবস্থাপনার কাজটি চলছে খোদ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যস্থাপক খায়রুল আলমের নির্দেশে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহী স্টেশনের প্লাট ফর্মের প্রায় নিচ থেকেই পূর্বদিকে নতুন এই রেললাইনটি নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকৃত এই রেললাইনের পাশেই এখনো পড়ে আছে বাড়ি ভাঙা পুরনো ইট এবং সেই ইটের সুড়কি ও খোয়া।

এগুলোই ব্যবহার করা হয়েছে এ রেললাইনটিতে। রেললাইনের ওপরে বিছানো ইটের সুরকি ও খোয়া দেখেও সেটিই অনুমান করা যায় খুব সহজেই। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্র মতে, এক হাজার ১০০ মিটার আয়তনের এ রেললাইন নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে গত কয়েকদিন আগে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা কবে ঢুকবে ইন্দোনেশিয়া থেকে নতুন আমদানিকৃত ১৪টি কোচ।

কিন্তু রেললাইনটির নির্মাণকাজ দেখে এখনোই চোখ ছানা-বড়া হয়ে যাচ্ছে রেল শ্রমিকদের। তাদের দাবি, এমন অব্যবস্থাপনা আর অনিয়মের মাধ্যমে রেললাইন নির্মাণের দৃশ্য এই প্রথমই তারা দেখলেন। ফলে শুরু থেকেই রেললাইনটি হয়ে উঠবে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে করে আমাদিকৃত নতুন কোচ এখানে দাঁড় করানোর ব্যবস্থা করা হলেও সেটি যে কোনো সময় দুর্ঘটনা কবলে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন রেলওয়ে শ্রমির। আর দুর্ঘটনা ঘটলেই তদন্ত করে তখন দোষ চাপানো হবে রেল শ্রমিকদের ওপরই। যারা রেললাইন রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়েজিত, তাদের ওপর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ওয়েম্যান বলেন, ‘এই রেললাইনটি নির্মাণ করা হচ্ছে কোনো টেন্ডার ছাড়ায়। রেলওয়ের শ্রমিকদের দিয়েই লাইনটির নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো উপকরণ বাইরে থেকে কেনা হয়নি। রেললাইনের স্লিপার, হুক থেকে শুরু করে সবই পুরনো জিনিসপত্র। এমনকি এক টুকরো পাথরও ব্যবহার করা হয়নি।

আবার গোটা লাইনটিতেই ব্যবহার করা হয়েছে পুরনো ইটের খোয়া আর সুড়কি। ফলে এই লাইন দিয়ে ট্রেন যাতায়াত করবে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। এমনকি ইঞ্জিনসহ গোটা কোচও উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে লাইনটিতে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী স্টেশনের দায়িত্বরত রেলওয়ের শ্রমিকদের মাঝে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য ওই লাইনটি নির্মাণের দায়িত্বরত পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নাজিব কায়সারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কি পরিমাণ অর্থ এখানে ব্যয় হচ্ছে সেটা বলতে পারবো না। এটা জিএম স্যারই ভাল বলতে পারবেন। তবে যা কিছু হচ্ছে সবই রেলওয়ের নিজস্ব উপাদান ও যন্ত্রাংশ দিয়ে। পুরনো ইট-সুরকিগুলোও রেলওয়ের। বাইরে থেকে কোনো কিছুই এখন পর্যন্ত কেনা হয়নি।’

পুরনো এসব জিনিপসপত্র দিয়ে রেললাইনটি নির্মাণের ফলে এটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু এটি মেইন লাইন নয়, কাজেই অতটা ঝুঁকি থাকবে না এখানে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খায়রুল আলমের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.