রাজশাহীতে বিস্ফোরণকালে বোমা ককটেল জিহাদী বই অস্ত্র উদ্ধার

02রাজশাহী থেকে মঈন উদ্দীন : রাজশাহীর পুঠিয়ায় বোমা তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই বাড়িসহ আহত খালেকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় উদ্ধার হয়েছে বোমা, ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, জিহাদী বইসহ নানান কিছু। শনিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়।

পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, শনিবার রাতে উপজেলার তাড়াস বেলপুকুর এলাকায় যে বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে তার মালিকের নাম জাহিদ আলী (৩০)। তার বাবার নাম সোহরাব আলী। আর বিস্ফোরণে যে ব্যক্তি আহত হন তার নাম আবদুল খালেক (২৭)। খালেক পার্শ¦বর্তী চারঘাট উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আকবর আলী শেখের ছেলে।

তিনি জানান, বিস্ফোরণের পর রাতে জাহিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ককটেল, চারটি জিহাদী বই, কম্পোজ করা দুই পৃষ্ঠা জিহাদী বার্তা, একটি হেলমেট ও বিস্ফোরণে খসে পড়া খালেকের হাতের দুটি আঙ্গুল উদ্ধার করা হয়েছে। খালেকের চাচাতো ভাই লালন হোসেন কয়েক মাস আগে বিপুল পরিমাণ জিহাদী বই ও লিফলেটসহ গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি এখন কারাগারে।

ওসি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি তারা জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) বা ধর্মীয় উগ্রবাদী কোনো জঙ্গীগোষ্ঠির সদস্য। আর জাহিদের বাড়িতে সংগঠনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। প্রয়োজনীয় বিস্ফোরকদ্রব্যও তৈরি করা হতো এখানে। তবে অভিযানের সময় বাড়িতে কাউকেই পাওয়া যায়নি। তাই কাউকে আটকও করা যায়নি।’

এদিকে জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-পুঠিয়া সার্কেল) আসলাম আলী জানিয়েছেন, রাতে চারঘাটের গোপালপুরে আহত আবদুল খালেকের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। সেখান থেকে দুটি বোমা, পাঁচটি হাসুয়া, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি জিহাদী বই, অজ্ঞাত একটি ডিভাইস এবং টাইমবোমার মতো একটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে।

আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ি থেকে খালেকের ভাই সাদেকুল ইসলাম (৩২) ও ভাবি ইসমত আরাকে (২৫) আটক করা হয়েছে।
শনিবার রাত ৮টার দিকে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে হাতের দুই কব্জি উড়ে যায় খালেকের। এছাড়া তার ডান চোখও ঝলসে যায়। গুরুতর জখম হয় বুক ও মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে। রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে আছেন।

বিস্ফোরণের পর জাহিদের বাড়ির সদস্যসহ খালেকের সহযোগীরা পালিয়ে যান। তাদের আটক করতে পুলিশ  মাঠে নেমেছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া। তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। জঙ্গিরা এ অঞ্চলে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

তারা সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। আর পুঠিয়ার বিস্ফোরণকাণ্ড এবং দুই উপজেলা থেকে অস্ত্র-বোমা উদ্ধারের ঘটনায় দুই থানাতেই আলাদা আলাদা মামলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.