নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কর্মকর্তার আশ্বাসে কাজে ফিরেছে শ্রমিকরা

01 নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বাগাতিপাড়ার কৃষ্ণা বাণিজ্যিক কৃষি খামারসহ সাত খামার শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূরীকরনসহ তিন দফা দাবিতে চলা কর্মবিরতি স্থগিত রেখে সুগার মিলের কর্মকর্তাদের আশ্বাসে কাজে ফিরেছে শ্রমিকরা। দুইদিন কর্মবিরতির পর শনিবার সকালে হাজিরা খাতায় সাক্ষর করে নিজ নিজ কাজে যোগ দেন তারা।

শ্রমিক নেতা শাজাহান আলী জানান, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের সাত বাণিজ্যিক কৃষি খামারের শ্রমিকদের তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতির প্রেক্ষিতে শুক্রবার সকালে খামার শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠক করেন সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ আজিজ। সেখানে শ্রমিকদের দাবি দাওয়ার বিষয়টি শুনে ১৫ দিনের মধ্যে এ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাস দেন।

এরই প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা তাদের নিজ নিজ কাজে ফিরেছেন। সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কৃষ্ণা, বড়াল, নন্দা, ভবানিপুর, গোবিন্দপুর, নরেন্দ্রপুর, মুলাডুলি বাণিজ্যিক কৃষি খামারের শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে দাবি মানা না হলে আবারো আন্দোলনের কর্মসূচী দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ আজিজ মুঠোফোনে জানান, শ্রমিকদের সাথে বৈঠক করে তাদের দাবি-দাওয়াগুলো জেনেছি। বিষয়গুলো প্রধান কার্যালয়ে জানানো হবে। আশা করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।

উলে¬খ্য, বানিজ্যিক কৃষি খামারে পাহারাদার, দক্ষ শ্রমিক ও শ্রমিক সরদারদের মজুরি বৃদ্ধি করে দৈনিক ২৬০ টাকা হারে পারিশ্রমিক নির্ধারন, অতিরিক্ত সময়ের দায়িত্ব পালনের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক এবং সরকারী ছুটি ভোগের সুবিধার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে কর্মবিরতি শুরু করে। সম্প্রতি দৈনিক শ্রমিকদের মজুরি ভারী কাজের জন্য ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩০ টাকা এবং হালকা কাজের জন্য ১৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯০ টাকা করা হয়েছে।

কিন্তু পাহারাদার, দক্ষ শ্রমিক ও সরদারদের ভারী কাজের সম পরিমান দৈনিক পারিশ্রমিক পুূর্বে দেওয়া হলেও এবার তা না বাড়িয়ে ১৭৫ টাকাতেই রেখে দেওয়া হয়। এছাড়াও শ্রমিকরা দিনে ৮ ঘন্টার পরিবর্তে ১২ ঘন্টা কাজ করানো হলেও বাড়তি মজুরি ও সরকারী ছুটি ভোগের সুবিধা পাননা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.