কলকাতায় এনএসজির পরামর্শে অবশেষে মমতার টালির বাড়ির সংস্কার

03কলকাতা থেকে গৌতম মালিক: নিরাপত্তার কারণে এনএসজি র পরামর্শে সংস্কার করা হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টালির ঘর। দেওয়া হবে কংক্রিটের ছাদ। রাজ্য পূর্ত দফতর কালীঘাটের মুখ্যমন্ত্রীর পুরো বাড়িটি সংস্কার করবে। বাড়ি সংস্কারের সময় ময়দানে রেসকোর্স লাগোয়া হেস্টিংসের কোনও সরকারি ভবনে মুখ্যমন্ত্রী সাময়িকভাবে থাকবেন।

পূর্ত দফতর মুখ্যমন্ত্রীর উপযুক্ত আস্তানার খোঁজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। হেস্টিংস এলাকায় পূর্ত দফতরের বেশ কয়েকটি বাড়ি আছে, যেগুলো দফতরের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের আবাসন বা কোয়াটার্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি আবার বাংলো ধরনের বাড়ি। সম্ভবত তার কোনও একটিতে মুখ্যমন্ত্রী এক মাসের জন্য থাকবেন।

শুক্রবার রাজ্যের সচিবালয় ‘নবান্ন’-এর মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে জানানো হয়েছে, এ সবই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য করা হচ্ছে। জানা গেছে, ২০১১ সালের ২০ মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বার শপথ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন থেকেই তার বাড়ি সংস্কারের কথা বলা হত।

কারণ পশ্চিমবঙ্গের থাকেন টালির চাল দেওয়া এক চিলতে ঘরে। আর চলতি বছর ২৭ মে দ্বিতীয় বার দ্বিতীয়বারের মতো শপথ নেন তিনি। দ্বিতীয় দফায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ছ’মাসের মধ্যে টালির চালের সেই চিরাচরিত ঘর বদলাতে চলেছেন তিনি। ওই টালির চালই বদলে এবার পাকা ছাদ তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, গোটা বাড়িটারই আমূল সংস্কার করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর অফিস বা সিএমও-র এক আধিকারিক এ দিন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসজি (ন্যাশনাল সিকিওরিটি গার্ড) মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে একটি পর্যালোচনা রিপোর্ট সম্প্রতি রাজ্যকে পাঠিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ি তাঁর নিরাপত্তার পক্ষে আদৌ উপযুক্ত নয়।

বিশেষ করে টালির চালের জন্য। দেওয়ালও মজবুত নয়। কিন্তু মমতা ওই ঠিকানা ছেড়ে অন্যত্র উঠে যেতে নারাজ। তখন ঠিক হয়, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি এনএসজির সুপারিশ অনুযায়ী, নিরাপত্তার উপযোগী করে তুলতে যতটা সম্ভব, সংস্কার করা হবে। মমতা এতে আর আপত্তি করেননি।’

মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর অন্য কোথাও ওঠা তো দূরের কথা, বাড়িটি সংস্কারেও তার মত ছিল না। তবে এনএসজির রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রী  নিজে পড়ে দেখেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিযুক্ত অফিসারদের একাংশ ও রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একাংশ তাঁকে বোঝানোর পর মমতা শেষ পর্যন্ত টালির চালের বাড়িকে পাকা ছাদের বাড়িতে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এক মাসের জন্য অন্যত্র উঠে যেতেও রাজি হয়েছেন।

হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ওই টালির চালের বাড়ি বহু স্মৃতি বিজড়িত, সেখানেই বরাবর বহু ভিআইপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। এমনকি ২০০০ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী ওই ঘরে ঢুকে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান, মমতার মা গায়ত্রী দেবীকে প্রণামও করেন। মমতা ছিলেন তখন ভারতের রেলমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.