চাটমোহরে স্কুল ছাত্র অপহরন: ঢাকা থেকে কৌশলে পালিয়ে বাঁচল সে

10পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার চাটমোহর উপজেলার আটলংকা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিবেশী কর্তৃক জিয়াউর রহমান জিয়া (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রকে অপহরন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহৃত জিয়া ঐ গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আতাউর রহমান আতার ছেলে ও চলতি জেএসসি পরীক্ষার্থী।

এ ঘটনায় ছেলের মা হাসিনা খাতুন বাদী হয়ে প্রতিবেশি ৫ জনকে আসামী করে চাটমোহর থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন- আটলংকা গ্রামের মৃত. নুরুল ইসলামের ছেলে মকবুল হোসেন (৬০), তার স্ত্রী শামসুন্নাহার (৫০), ছেলে সুজন হোসেন (৩০), রেলবাজার এলাকার জয়দেব (৩৫) ও অজ্ঞাত ১ জন।

গত ৩১ শে অক্টোবর সোমবার দুপুরে অপহরন কারীরা তাকে একটি মাইক্রোবাসে অপহরন করে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে কৌশলে জিয়া অপহরন কারীদের হাত থেকে পালিয়ে যায়। পরে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।

অপহৃত জিয়া জানান, গত সোমবার দুপুরে একজন অপরিচিত লোক মামা পরিচয় দিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর আমাকে জোর করে আমার পাশের মকবুল চাচার বাড়িতে নিয়ে সেখানে কয়েকজন মিলে আমার হাত-পা বেঁধে চাচী শামসুন্নাহার আমাকে একটি বড়ি খাইয়ে দেয়। বড়িটি খাবার পরে আমাকে জ্ঞান শুন্য অবস্থায় অপরিচিত তিনজন একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে যায়। অনেক রাতে আমার জ্ঞান ফিরলে দেখতে পাই মাইক্রোবাসে মহিলাসহ ৩/৪ জন হাত-পা বেঁধে আটকে রেখেছে।

বাইরে তাকাতেই বুঝলাম বড় করে লেখা টঙ্গী ঢাকা। সেখান রাস্তায় দাঁড়ানো অবস্থায় আরো কয়েকজন লোক এসে ২ লক্ষ ২৫ টাকা অপহরন কারীদের দিয়ে নতুন একটা গাড়িতে উঠিয়ে নিল। সেখানে ওঠার পরে তারা একটি ট্যাবলেট ৪ ভাগ করে ১ ভাগ আমার মুখের মধ্যে দিলে আমি কৌশলে ট্যাবলেট টি জিহ্বার নিচে রেখে দিয়ে অজ্ঞান হওয়ার ভান করি।

এসময় তারা সবাই আমাকে গাড়িতে রেখে চা খেতে পাশের দোকানে চলে যায়। এসুযোগে আমি গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ায়ে পালিয়ে যাই। প্রায় ৪৫ মিনিট দ্যেড়ানোর পরে এয়ারপোর্ট এলাকার পাশে একটি মহিলা চা দোকানির সাহায্য চেয়ে আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে সকালে জ্ঞান ফিরলে উনার ফোন থেকে বাড়িতে ফোন দিলে বাড়ির লোকজন আমাকে এসে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। আমরা কেন ঐ ছেলেকে অপহরন করতে যাবো। তাছাড়া আমার স্ত্রী গত ঈদের পর থেকেই অসুস্থ, ছেলেও ঢাকাতে রয়েছে। স্ত্রীকে নিয়েই এখন আমি হসপিটালে অবস্থান করছি তার অপারেশন করানোর জন্য।

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি (তদন্ত) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অপহরন ঘটনায় ৪ জন নামিয় ও ১ জন অজ্ঞাত রেখে থানায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.