সরিষাবাড়ীতে বস্তায় চাল কম থাকার অযুহাত: ওজনে কম দিচ্ছে ডিলাররা

13সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে খাদ্যগুদাম থেকে সংগ্রহকৃত বস্তায় চাল কম থাকার অযুহাত দেখিয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায়ধীন হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি চাল বিতরনে ডিলাররা ওজনে কম দিচ্ছে।
উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায়ধীন এ উপজেলায় ১৯ হাজার ৪৯ জন হতদদ্রিদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরন চলছে। উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে ৩৬ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রথমে গত সেপ্টেম্বর মাসে এ কর্মসূচীর চাল বিতরন উদ্বোধন করা হয়। সে সময় চাল বিতরনে সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ায় নতুন করে সংশোধিত তালিকা প্রস্তুত করে জমা দেয়া হয়েছে। এতে ডিলারদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যাঘাত ঘটে। তাই নতুন করে ফন্দি এঁটে খাদ্যগুদাম থেকে সংগ্রহকৃত বস্তায় চাল কম থাকার অযুহাত দেখিয়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায়ধীন হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি চাল বিতরনে ডিলাররা ওজনে কম দিচ্ছে। উপকার ভোগীদের অনেকেই জানান, ৩০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও ডিলাররা ২৭ থেকে ২৮ কেজি করে চাল দিচ্ছে।

আওনা ইউনিয়নের ডিলার আবুবক্কর জানান, খাদ্যগুদাম থেকে বস্তায় চাল কম আসে। তাই তিনি ২৯ কেজি করে চাল বিতরন করছেন। মহাদান ইউনিয়নের সানাকৈর বাজার পয়েন্টের ডিলার আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, খাদ্যগুদাম থেকে প্রতি বস্তায় ৫০.৫ কেজি করে চাল ধরে দেয়। অথচ ওজন দিলে ৪৮ কেজি চাল পাওয়া যায়। ওই ইউনিয়নের বড়সরা (গুঠুর মোড়) পয়েন্টের ডিলার হাসানুর রহমান পিন্টু জানান, তার বস্তায় চাল কম হয় নি।

তিনি বড়সরা ও খাগুড়িয়া দরিদ্র এলাকার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আরও কিছু বেশি কার্ড দাবী করেন।  অপর দিকে একই ইউনিয়নের করবাড়ী পয়েন্টের ডিলার ইসমাইল হোসেন বিপ্লবের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার ২৬/২৭ কেজি করে চাল বিতরনের অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে ওই ডিলারের সাথে ফোনে জানতে চাইলে তিনি ৩০ কেজি করে চাল বিতরন করেছেন বলে জানান। ২৬/২৭ কেজি করে চাল বিতরনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে তদারককারী কর্মকর্তা সেঙ্গুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, জেএসসি পরিক্ষা থাকার কারণে তিনি সকালে ওই পয়েন্টে গিয়ে ৩০ কেজি করে চাল বিতরনের নির্দেশ দিয়ে স্বাক্ষর করে চলে আসেন। যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান। মিল মালিক ও ডোয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন রতন জানান, তারা মিলাররা যখন খাদ্য গুদামে চাল দেন, তখন প্রতি বস্তায় ৫১ কেজি করে চাল দেন।

তাই গুদামের বস্তায় চাল কম থাকার কথাই উঠে না। মহাদান ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম আনিছুর রহমান জুয়েল জানান, প্রত্যেক ডিলারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে তিনি খাবার উপযোগী চাল দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানান, গুদাম থেকে ডিলারদের সামনেই সঠিক ওজনের (৫০ কেজি) বস্তা ডেলিভারী দেয়া হয়।

ডিলাররা ওজন যাচাই করেই চাল নেন। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন জানান, বস্তায় কম বা বেশি যাই থাক সেটা কথা নয়। কোন ডিলারই ৩০ কেজির কম চাল বিতরন করতে পারবে না। তারা চাল নেয়ার সময় সঠিক ওজন দেখে নিলেই হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.