কাজিপুরের চর এলাকায় আইন নেই, জোর যার মুল্লুক তার

07কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে টি এম কামাল: নদীর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয় সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের চর এলাকার দেড় লাখ অধিবাসীর। কারণ প্রতি বছর নদী তার কূল ভেঙ্গে বর্ষাশেষে আবার জাগিয়ে তোলে নতুন চর। নতুন চরে নতুন আশায় দুর্ভাগা মানুষ আবার যাত্রা শুরু করে। কাজিপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, মনসুর নগর, মাইজবাড়ী, কাজিপুর সদর ও শুভগাছা ইউনিয়নে দেড় লাখ অধিবাসী যমুনার ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ভাঙ্গাগড়ার সাথে তাল মিলিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে।

প্রতিবছর এসব এলাকার অনেক ঘর-বাড়ী ক্ষেত-খামার নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায়। বর্ষাশেষে নতুনভাবে চর জাগলে গৃহহীন মানুষ নতুন নতুন আশা নিয়ে আবার ঐ চরে ঘর বাঁধে। এসব চর এলাকায় আইন বলে তেমন কিছুই নেই। জোর যার মুল্লুক তার এই নীতিতে চলে চর এলাকা। অর্থলোভীদের জোরপূর্বক ভূমিদখল ও ফসল কাটার প্রতিযোগিতার বাহুবলের শিকার হয় নিরীহ সাধারণ মানুষ। অসহায় কৃষক নিজ শ্রমে ফসল ফলার আর লাঠিয়ালরা জোরপূর্বক ফসল কেটে নিয়ে যায় এবং তা নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, মামলা-পাল্টা মামলা নিয়মিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

চর এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থার সংকটের কারণে দাঙ্গা-ফ্যাসাদের খবর পাওয়া সত্ত্বেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাও সময়মত ঘটনাস্থলে পৌছাতে পারে না। ফলে কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেওয়াও তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। প্রশাসনিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব চর এলাকার অসহায় মানুষদের খোঁজ-খবর নিতে যান। রাস্তাঘাটের অভাব ও যোগাযোগে অব্যবস্থার কারণে এসব চরের বাসিন্দারা জেলা ও উপজেলা সদর হতে বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছে।

চর এলাকাগুলোতে শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবে এসব শিশুদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। চর এলাকায় প্রয়োজনীয় নলকূপ বা অন্য কোন ব্যবস্থা না থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট সারা বছর লেগেই থাকে। স্বাস্থ্য সেবার অবস্থা আরো করুণ। চিকিৎসক বা চিকিৎসাসেবার কেন্দ্র না থাকায় প্রতিবছর বহু লোক অসুস্থ হবার পরে এ রকম বিনা চিকিৎসায় অকালে মারা যায়।

কাজিপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ ও মনসুর নগর ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ডাক্তার ও কর্মীর সংখ্যা অপ্রতুল। নাটুয়ারপাড়া, ঘোড়াগাছা, ফুলড়োর, পানাগাড়ী, যুক্তিগাছা, পীরগাছা, বাংলাবাজার, জর্জিরা, ডিগ্রীদরতা, মাইজবাড়ী প্রভৃতি গ্রামগুলো অনেক আগেই যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এসব দুর্দশাগ্রস্ত শত শত পরিবার দীর্ঘদিন যাবৎ মানবেতর জীবন-যাপন করলেও তাদের পূনর্বাসনের সরকারি কোন উদ্যোগ নেই। চর এলাকায় দিন দুপুরে ডাকাতি হয়। মাঝে-মধ্যে পুলিশ এলেও তারা ফিরে আসার পরই পুনরায় নৌদস্যুদের দ্বারা পুরো এলাকা আক্রান্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.