1. [email protected] : AK Nannu : AK Nannu
  2. [email protected] : arifulweb :
  3. [email protected] : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. [email protected] : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. [email protected] : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  6. [email protected] : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১২:০৫ অপরাহ্ন

ডিমলায় ১২লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় ঠিকাদারের মালামাল আটকের অভিযোগ

  • Update Time : শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৬
  • ৬২ Time View

10নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় এক সুনাম ধন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালামাল জোড়পুর্বক আটকিয়ে রেখে মোটা অংকের চাদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে উক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির সুপারভাইজার আব্দুল আজিজ নিরউপায় হয়ে ডিমলা থানায়  চাদাবাজদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে,ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের  চরখড়িবাড়িতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবোর আওতায় টেন্ডারের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ নির্মানের একটি কাজ পায় প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম।কাজ শুরু হতে না হতেই উক্ত এলাকার একটি কু-চক্রি মহল ঠিকাদারের কাছে থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অযৌতিক দাবি করে আসছিলেন।কিন্তু ঠিকাদার তাদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে নিয়ম মতই বাধটি নির্মানের কাজ সম্পন্ন করেন।কাজ শেষ হবার পরে ঠিকাদারি কাজে ব্যবহৃত নানান ধরনের মালামাল সেখান থেকে নিয়ে আসতে গেলে উক্ত এলাকার চাদাবাজ-ফুলুর উদ্দিন(৫৫)পিতা মৃত,রহিজ উদ্দিন,আব্দুস ছালাম(৪৫)পিতা-উমদ আলী,সহিদ মিয়া (৪৪)-পিতা মৃত,বাহাদুর,শাআলম(৫৩)-পিতা মৃত,আইন শেখ,তহর আলী(৪২)-পিতা মৃত, আজগর আলী,ইউনুস আলী(৪২)-পিতা মৃত,সুরুজ আলী,জাকীর হোসেন(২৮)-পিতা দুলু মামুদ,আবু সায়েদ(৪৬)-পিতা মৃত,জামাল উদ্দিন,রফিকুল ইসলাম(৩৭)-পিতা আব্দুস সাত্তারসহ ২০/২৫ জন মিলে ঠিকাদারের নিকট অহেতুক- ১০/১২ লাখ টাকা চাদা দাবি করেন।দাবিকৃত টাকা ঠিকাদার দিতে অস্বীকৃতি জানালে চক্রটি ঠিকাদারের-২টি ট্রাক্টর,২টি মিক্সার মেশিন,১টি ভাইব্রেটর,৩টি ভাইব্রেশন নজেল,২টি পানির পাম্প মেশিন,সিসি ব্লোক তৈরীর ইষ্টিল ফার্মা-২০২৪টি,২টি ৩০ফিটের টিনের ঘরের টিন,১টি টিউবওয়েল, ১টি ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ অন্যান্য মালামাল জোরপুর্বক আটকিয়ে দেয় এবং হুমকি প্রদান করে বলেন, দাবিকৃত টাকা ছাড়া এই মালামাল যে নিতে আসবে তাকেই হত্যা করে তিস্তা নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়া হবে।তাই ঠিকাদারের সুপারভাইজার আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে গত ২৬শে অক্টোবর ডিমলা থানায়  উপরোক্ত চাদাবাজদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আরো জানা গেছে,এই চাদাবাজ চক্রটির নেতৃত্বদাতা একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ও স্ব-ইউনিয়নের সরকারদলীয় মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ময়নুল হক।আর এই প্রভাবশালী ঘটনার মুল নায়ক হবার পরেও অভিযোগে তার নাম বাদী দিতে পারেননি যদি তার নামে অভিযোগ করলে ঘটনাটি সরকাদলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে ভিন্নখাতে প্রবাহিত হয় ও ওই নেতাকর্তৃক মামলারবাদী বড় ধরনের ক্ষতিসাধন হন সেই ভয়ে।
সরেজমিনে শনিবার  (২৯শে অক্টোবর) উক্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে এই কু-চক্রি মহলটির বিরুদ্ধে এলাকায় অফুরন্ত অভিযোগ।শুধু তাই নয়,অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো-পওর বিভাগের কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে পুর্বেও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছেন।অভিযোগ রয়েছে, কু-চক্রি মহলটির নেতৃত্বের মুল যে সরকার দলীয় হাইব্রীড নেতা, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ও টেপাখড়িবাড়ির ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ময়নুল হক একজন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা হয়ে অজানা যোগ্যতার কারনেই আওয়ামীলীগের মত এত বৃহৎ একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান পার্থী মনোনীত হবার ব্যাপারেও!!যদিও সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে অত্র ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন স্হগিত রয়েছে।কিন্তু তাতে কি হয়েছে?সরকারদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী তো মনোনীত হয়েছেন।
আর সেই লেবাসটি ব্যবহার করেই ময়নুল রাতারাতি হয়ে উঠেন হাইব্রীড আওয়ামীলীগ নেতা!!সেই থেকে ময়নুল নিজের আদিপদ্য বিস্তারে কারনে-অকারনে এলাকার মানুষদের জিম্মি করতে শুরু করেন।তার এলাকার ছোট খাটো বিষয় গুলিকে বড় করে তার নিয়ন্ত্রনেই তিনি তৃতীয় পক্ষ সেজে তা সালিশের নামে আপোষ মিমাংসা করে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের অর্থ।আর এলাকায় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবস্হান নেন ও কথা বলে এমন সাধ্য আছে কার বাবার?আওয়ামীলীগ নেতা বলে কথা!! এলাকায় এ পর্যন্ত তার অন্যায়,স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে অনেকেই হয়েছেন নানান রকম ক্ষতিসাধিত।আর তাতে বাদ পড়েননি তার নিজ দলীয় ফাদার সংগঠনসহ সিনিয়র নেতারাও!!এক কথায় বলা যেতে পারে এই হাইব্রীড ময়নুলের কাছে তার নিজ এলাকা টেপাখড়িবাড়ি বাসী এখন জিম্মিই!!
তার এলাকার একাধিক এলাকাবাসী তথ্যফাস না হবার অঙ্গিকারে এই প্রতিবেদককে জানান,এলাকায় শুধু এই চাদাবাজ সিন্ডিকেটটি নয় আরো এই এলাকায় অনেক এমন কু-চক্রি সিন্ডিকেট রয়েছেন যার নায়ক ময়নুল।তিনি খুব ভালো জানেন কিভাবে মানুষকে বিপদের বেড়াজালে ফেলতে হবে আর কিভাবে তাকেই উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে বিপদ হতে রক্ষা করে জিম্মি করতে হবে!!
শুধু তাই নয়, তিস্তানদীতে অবাধে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে এবারের বন্যায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ডিমলা উপজেলার টেখাখড়িবাড়ি ইউনিয়নটি হাজার-হাজার মানুষের বসতভিঠা,আবাদী জমি,কয়েকটি বিদ্যালয়,কমিউনিটি ক্লিনিক,ব্রীজ,কালভার্ট,রাস্তা-ঘাটসহ সর্বস্ব নদীতে বিলিন হলে উপজেলা প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাব থাকলেও পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিস্তা নদীতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়।কিন্তু ক্ষতিসাধিত পরিবার গুলো ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই হাইব্রীড নেতা ময়নুল হক উপজেলা প্রশাসন,রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন মহলের সাথে আদাত করে,তারই নেতৃত্বে প্রতিদিনের অর্থের চুক্তিতে তিস্তানদীতে আবারও শত শত নৌকায় সেফের মাধ্যমে অবাধে অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করেন অসাধু পাথর উত্তোলনকারীরা।আর প্রতিদিন এসব শত শত পাথর উত্তোলনের নৌকার টাকা তিনি তার বাহিনী দিয়ে কালেকশন করে নামে মাত্র সামান্য টাকা চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিদের দিয়ে শিংহভাগ অর্থ তিনিই হাতিয়ে নেন।
তার এলাকা টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের এক প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা,বীরমুক্তিযোদ্ধা সহ একাধিক আওয়ামীলীগ নেতারা অভিযোগ করে বলেন,আমাদের এলাকায় আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের অনেক সিনিয়র ত্যাগী,যোগ্য নেতাকর্মী থাকলেও কিসের যোগ্যতায় ময়নুলের মত হাইব্রীড নেতা এই এলাকায় আমাদের দলের(আওয়ামীলীগের)ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন তা আমাদের জানা নেই।তবে আমাদের এলাকায় সরকারের এত উন্নয়নের পরেও প্রতিনিয়তই ময়নুলসহ তার সিন্ডিকেটের অনেক হাইব্রীড নেতাকর্মীদের কু-কর্মের কারনে দলীয় ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েই চলেছেন।আর এই হাইব্রীড নেতার সাথে স্ব-দলীয় নেতাকর্মী,সাধারন মানুষসহ দল,বল নির্বিশেষে সু-সম্পর্ক রয়েছেন এ রকম মানুষের সংখ্যা একবারই কম।কারন তিনি সর্বদা গায়ের জোরে, দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সবকিছু করেন।তার নিটক ছোট-বড় কাহারই মতামতের কোনো ভিত্তি নেই।
বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসবার প্রায় আট বছরের এমন কোনো দিন নাই যে আমরা শুনিনি এলাকার মানুষের সাথে তার দ্বন্দ্ব নেই!!তারা আরো অভিযোগ করে বলেন,তিস্তায় ভয়াবহ বন্যার পর অবৈধ ভাবে টেপাখড়িবাড়িতে পাথর উত্তোলন বন্ধ হবার কিছুদিন পরই এই হাইব্রীড নেতা এলাকার ক্ষতিগ্রস্হ হাজার হাজার মানুষের কথা না ভেবে শুধু নিজের স্বার্থ হাসিলের লক্ষে পুনরায় তিস্তানদীতে পাথর উত্তোলনের ব্যবস্হা করবার জন্য বিভিন্ন দফতরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেন।প্রায় এক মাস পুর্বে উপজেলা প্রশাসনের একসভায় স্হানীয় সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকারের নিটক এলাকার কতিপয় কিছু অসাধু ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে গিয়ে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে কথা বলতে গেলে এমপি মহাদয় ভিষন ভাবে রেগে গিয়ে সকলের সামনেই তাকে বলেন,তোমার মত মানুষ জনগনের সেবা করবেন কিভাবে?তোমার এলাকার হাজার হাজার মানুষ এখনো বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি আর তুমি কিনা এসেছ আবারও পাথর উত্তোলনের বিষয়ে আমাকে অনুরোধ করতে!আসলে তোমাকে দলীয় ভাবে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনীত করাটাই আমার জীবনের একটা বড় ভুল।তিনি এই হাইব্রীড নেতাকে সকলের সামনে হুশিয়ারী করে দিয়ে বলেন,কোনো প্রকারে পাথর উঠবেনা তুমি যাও।
> কিন্তু এই হাইব্রীড নেতার নেতৃত্বে এমপি মহাদয়ের নির্দেশ  উপেক্ষা করেই প্রশাসনিক  বিভিন্ন দফতরকে উৎকোচ দেয়ার মাধ্যমে তিস্তা নদীতে শত শত নৌকায় সেফ মেশিন দিয়ে অবাধে পাথর উত্তোলন চালিয়েই যাচ্ছেন কতিপয় অসাধু ব্যক্তি।যা কি-না এখনো চলমান!
এই মামলার বাদী আব্দুল আজিজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,আমাদের সবারই ইচ্ছা থাকা সত্তেও আমরা সবকিছুই করতে পারিনা।আমিও তাই ঘটনার মুল নায়ক ময়নুল হকের নাম অভিযোগে দিতে পারি নাই।
আমরা ব্যবসায়ী,তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আমাদের আটককৃত মালামাল উদ্ধার হলে আমরা কোনো রকম দ্বন্দ্বে জড়াবোনা।
ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান,অভিযোগটি আমরা আমলে নিয়েছি, খুব দ্রুত বিষয়টির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com

Developed By Pigeon Soft