1. [email protected] : AK Nannu : AK Nannu
  2. [email protected] : arifulweb :
  3. [email protected] : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. [email protected] : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. [email protected] : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  6. [email protected] : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

পত্নীতলায় বিলপ্তির পথে নজরকাড়া লাল শাপলা

  • Update Time : রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬
  • ৩২ Time View

11পত্নীতলায় (নওগাঁ) থেকে : এক সময় বর্ষামৌসুমের শুরুতেই পত্নীতলায় উপজেলার খাল-বিলসহ পুকুরে প্রচুর পরিমাণে নয়নাভিরাম লাল শাপলা ফুটে থাকতো। বর্ষা থেকে শরৎ কালের শেষ অবধি বিল-ঝিল, জলাশয় ও তুলনামূলক নিচু জমিতে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মাতো লাল শাপলা। ওই শাপলা আমাদের খাদ্য তালিকায় আবহমান হতে যুক্ত ছিল। কয়েক বছর আগেও বর্ষা ও শরৎ কালে খাল-বিলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকত অগণিত শাপলা। সকালের দিকে জলাশয়ের দিকে নজর পড়লে রঙ-বেরঙের এ শাপলা বাহারী রুপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আবুল হায়াত মোহা. ঈসমাইল জানান, শাপলা সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে। একটি সাদা ও অপরটি লাল রঙের। এর মধ্যে সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলাটি সবজি হিসেবে আর লাল শাপলা ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
শাপলা খুবই পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি। সাধারণ সবজির চেয়ে তুলনামূলক বেশি পুষ্টি শাপলার। শাপলায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। এই ক্যালসিয়ামের পরিমাণ আলুর চেয়ে সাত গুণ বেশি। তিনি আরো বলেন, শাপলা এলার্জি ও রক্ত আমাশায়ের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রতি ১শ’ গ্রাম শাপলার লতায় রয়েছে খনিজ পদার্থ ১.৩ গ্রাম, আঁশ ১.১ গ্রাম, খাদ্য প্রাণ ১৪২ গ্রাম, ক্যালোরি ৩.১ গ্রাম, শর্করা ৩১.৭ গ্রাম ও ক্যালসিয়াম ৭৬ মিলিগ্রাম।

এই শাপলা ফলকে স্থানীয় ভাষায় হলা বা ভ্যাঁট হিসেবে পরিচিত। এ শাপলা ফল দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খই ভাজা হয়। যা গ্রামাঞ্চলে ভ্যাঁটের খই বলে পরিচিত। মাটির নিচের মূল অংশকে স্থানীয় ভাষায় শালুক বলে। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বিল-ঝিল, হাওড়-বাঁওড় ও পুকুরের পানি যখন শুকে যায় তখন মাটির নিচ হতে শালুক তুলে সিদ্ধ করে খাওয়া যায়। যা খেতেও সুস্বাদু। বিশেষ করে আমাশয়ের জন্য এটা কবিরাজি মতে ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সবজি হিসেবে শাপলার প্রচলন শহর-নগর হতে গ্রামাঞ্চলেও।

অত্র অঞ্চলের প্রবীণ ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আষাঢ়-আশ্বিন মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জলাশয়ে অগনিত লাল ও সাদা শাপলা ফুটতো। কিন্তু বর্তমানে আর শাপলা দেখা যায়না। ওই সব লাল শাপলার বিলে ছুটে চলেছেন আজো প্রকৃতি প্রেমীরা। অনেকে আবার শাপলা বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বলেও জানা গেছে।

উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা শাপলা খাতুন বলেন, শাপলা ফুল আগের মতো আর চোখে পড়ে না। তবে জলাশয়ে চাষাবাদ করায় ঐতিহ্যবাহী এই জাতীয় ফুল শাপলা হারিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র সরকার জানান, ফসলি জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাল-বিল ও জলাশয়ে মাছ চাষ এবং ভরাটের ফলে উপজেলার বিলাঞ্চল হতে ক্রমান্বয়ে বিলপ্তির পথে এই লাল শাপলা। যার ফলে এখন আর খাল-বিল জলাশয়ে শাপলা তেমন আর চোখে পড়ে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com

Developed By Pigeon Soft