1. [email protected] : AK Nannu : AK Nannu
  2. [email protected] : arifulweb :
  3. [email protected] : F Shahjahan : F Shahjahan
  4. [email protected] : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  5. [email protected] : Arif Prodhan : Arif Prodhan
  6. [email protected] : Farjana Sraboni : Farjana Sraboni
বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন

নওগাঁ পত্নীতলায় প্যাশন ফল চাষে সাফল্য

  • Update Time : সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬
  • ৩৫ Time View

22নওগাঁ প্রতিনিধি: বরেন্দ্রভূমি নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নের রুপগ্রাম এগ্রা ফার্ম বিদেশি সুস্বাদু ‘প্যাশন’ ফল চাষে সাফল্য এসেছে। এই ফল থেকে ট্যাংয়ের মতাে শরবত তৈরি হয় বলে দেশে ট্যাং ফল নামেও এর পরিচিতি আছে। প্যাশন ফলের বীজক আবাত করে থাকা হলুদ সুগন্ধিযুক্ত পাল্পক পানিতে দ্রেবীভত করে খুবই উপাদয় শরবত প্রস্তুত করা যায়।

এই শরবত অত্যাধনিক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন সি এতেই বেশি যে ফলের এক-চতুর্থাংশ একজন মানুষর নিত্যদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদা মেটাতে সক্ষম। গাছে লতানাে, পাতা সবুজ, কিনারা গভীরভাবে খাঁজকাটা। ফলে সুগাল, বড় সফেদা আকারের, খাসা শক্ত। পাকা-ফলের রং হলুদ।
ফার্মের পরিচালক সোহল রানা জানান, তিনি ২০১৫ সালে ঢাকা জাতীয় বৃক্ষ মেলা থেকে প্যাশন ফলের একটি কাটিং চারা এনে খামার রােপন করেন।

লতানাে এই গাছ দ্রুত বদ্ধি পেতে শুরু করলে তিনি গাছের জন্য একটি মাচা করে দেন। এক বছর পর গত জুলাই মাস থেকে গাছে ফুল ফোটা শুরু করে। প্রথম দিকে গাছে অনেক ফুল ফুটল ও এর কাননটিই ফলে পরিণত না হয়ে ঝরে যেত। একপর্যায় প্যাশন ফল চাষ নিয়ে আমি ইটারনেটে ঘাটাঘাটি করে জানতে পারি প্যাশন ফুল কৃত্রিম উপায় পারাগায়ন করলে দ্রুত এবং অনেক বেশি ফল পাওয়া যায়।

এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইউটিউবে বেশ কিছু ভিডিও দেখে হাতে হাতে পরাগায়নের কালাকশল শিখে আমার গাছে তা প্রয়োগ করতে থাকি। এর কিছুদিন পর গাছে ধরতে থাকে বহুল কাখিত প্যাশন ফল। ইতিমধ্যে একটি গাছে ৫০/৬০ টি ফল ধরছে। এখন প্রতিদিনই বিভিন জায়গা থেকে লােকজন খামারে আসছেন প্যাশন ফল দেখতে। আমি এই গাছ থেকে চারা তৈরি করছি। আগ্রহী অনকেই এখন চারা সংগ্রহর জন্য আসছেন। সামনে বছর আমি আরও বড় পরিসরে এই ফলের চাষ করবো। এখন খামারের ১৫ বিঘা নিজস্ব জমিতে ড্রাগন ফল, বারি মাল্টা-১, আম, লিচু, থাই পেয়ারাসহ ৫০ প্রজাতির ফলের গাছ আছে।

সােহল রানা আরও জানান, প্যাশন চাষ কোনা সার, সেচ, কীটনাশক এমনকি বিশেষ কােন পরিচর্যারও প্রয়োজন হয় না। শুধু শিম বা লাউ-কুমড়া গাছের মতাে মাটিতে চারা লাগানাের পর তা বড় হলে বাঁশের মাচায় অথবা কোনো বড় গাছে উঠিয়ে দিলেই হয়। জেলার সাপাহার উপজেলার উপ-সহকারী কষি কর্মকর্তা বাবুল আকতার জানান, সোহল রানাকে বিভিন সময় এই ফল চাষে সহযােগিতা করা হয়েছে। ‘প্যাশন’ ফল চাষ সাফল্য পাওয়ায় এই অঞ্চলে দেখা দিয়েছে অপার সম্ভাবনা। এর ফলে এই ঠাঁ-ঠাঁ বরেন্দ্র এলাকার হাজার হাজার একর পতিত জমিতে ‘প্যাশন’ ফল চাষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

এই ফল সম্পর্কে বাংলাদেশের বিশিষ্ট উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল আলম জানান, প্যাশন ফলের উৎপত্তি হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার রেইন ফরেস্টের আমাজান অঞ্চলে। বিশেষ করে ব্রাজিল এবং তদসংলগ্ন প্যারাগুয়ে ও উত্তর আর্জেন্টিনাতে। প্যাশন ফল একটি বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় উদ্ভিদ। প্যাশন ফল দুই ধরনের। পার্পল প্যাশন ফল এবং হলুদ প্যাশন ফল । প্যাশন গাছের ফুল অত্যন্ত নয়নাভিরাম এবং এটি প্যারাগুয়ের জাতীয় ফুল। প্যাশন গাছ বছরে দুবার ফল ধরে। প্রথমবার মার্চ-এপ্রিল মাসে ফুল আসে এবং জুন-আগস্ট মাসে ফল পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়বার জুলাই-আগস্ট মাসে ফুল আসে এবং ডিসম্বর-জানুয়ারিতে ফল পাওয়া যায়। গাছ লাগানাের ১২ থেকে ২০ মাসের মধ্যেই সধারণত ফুল ও ফল পাওয়া যায়। পূর্ণাঙ্গ ফল গােলাকার বা ডিম্বাকার। কাঁচা অবস্থায় এটি সবুজ হয়। তবে পরিণত অবস্থায় হলুদ রং ধারণ করে। জেলা কষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সত্যব্রত সাহা জানান, জেলায় ‘প্যাশন’ ফলের বেশ কয়েকটি গাছ থাকলেও সােহলের হাত ধরে একটিতে সাফল্য পাওয়া গেছে। এই সাফল্য আগামী দিন এই অঞ্চল প্যাশন ফল চাষ বদ্ধি পাবে। বরেন্দ্র এলাকার উঁচু জমিতে এই ফল চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি একটি অত্যাধিক লাভজনক ফসল হিসবে সমাদৃত হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2016-2020 asianbarta24.com

Developed By Pigeon Soft