বগুড়ার কাগইলে মীরপুর বিলে ফসল চাষ ব্যাহত: সুষ্ঠু তদন্ত এলাকাবাসী দাবী

বগুড়া গাবতলী সংবাদদাতাঃ বগুড়ার গাবতলী কাগইল এর মীরপুর কামারডাঙ্গা বিল এর পাড় না থাকায়
এবং ইজারাদাররা বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকুপে পানি সেচ দিয়ে পানিভরাট করে রাখায় কৃষকদের
ফসল চাষবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রতিবছরে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে নানাভাবে
মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত ও স্থানীয় দ্বন্দে জড়িয়ে পড়ছেন।
অভিযোগ সূত্র জানায়, মীরপুর বিল এর চারপাশে কৃষকরা ৪০থেকে ৫০বিঘা জমিতে সবজি’সহ
ইরিবোরো ধান চাষ করে আসছিল। চাষাবাদ অব্যাহত রাখতে ওই গ্রাম এর কৃষকরা ১লা জুলাই
১৮ইং সালে বিলটি লিজ না দেওয়া জন্য অনুরোধ জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বগুড়া
বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন। এরপরেও বিলটি লিজ হলে ইজারাদার ও তার সহযোগি
সিরাজুল ইসলাম সেকুল কৃষকরা যাতে ফসল উৎপাদন না করতে পারে সে জন্য বিদুৎচালিত গভীর
নলকুপ এর মাধ্যমে সবসময় বিল’সহ চারপাশে জমিগুলো পানিতে পরিপূর্ন করে রাখেয় কৃষকরা
চলতি মৌসুমে ফসল চাষবাদ করতে পারছে না। লোকসান এর মুখে পড়ছে কৃষকরা। ফলে কৃষকদের
ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় কৃষকরা এর প্রতিবাদ করলে এর জের ধরে ইজারাদার ও সহযোগিরা গত ১১আগষ্ট ২০ইং
বাদী হয়ে গাবতলী থানায় ১০জন কৃষকের নামে জোরপূর্বক মাছ ধরা ও মাছচাষে বাধাঁ দেওয়া
ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। এরপর ওই অভিযোগটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন
দাবী করে কৃষক মিঠু ও লতিফ’সহ ৯কৃষক স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ গত ৬সেটেম্বর
২০ইং জেলা প্রশাসক বগুড়া বরাবরে দায়ের করা হয়েছে। এর অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে অতিরিক্ত
জেলা প্রশাসক, বগুড়া। পুলিশ সুপার, বগুড়া। উপজেলা চেয়ারম্যান, গাবতলী। ইউএনও গাবতলী।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) গাবতলী, ওসি গাবতলী, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা, গাবতলী ও
চেয়ারম্যান, ১নং কাগইল ইউনিয়ন পরিষদ বরাবরে।
অভিযোগ এর প্রেক্ষিতে গাবতলী থানা এসআই জিয়াউর রহমান জিয়া ঘটনাস্থল পরির্দশন শেষে
তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন
দাখিল করা হবে। কাগইল ইউপি চেয়ারম্যান আগানিহাল বিন জলিল তপন জানান, ইতিপূর্বে ওই
বিল স্থানীয় কৃষকরা একটি সমবায় সমিতির মাধ্যমে মাছ চাষ করতো। মাছ চাষে যে অর্থ আয়
হতো সে টাকা সমাজসেবা মূলক কাজে ব্যয় করা হতো। কিন্তু এখন বিলটি লিজ দেওয়ায় বিল এর
চারপাশে থাকা কৃষকরা তাদের জমিতে ফসল চাষ করতে পারছে না। তবে এ ঘটনায় একটি
অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সঠিক বিষয়টি জানানো হবে।
ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল লতিফ ও শাহীন সরদার জানান, বিল এর চারপাশে জমি থাকলেও আমরা
জমিতে ফসল চাষবাদ করতে পারছি না। জমিতে ফসল চাষ করতে গেলেই প্রতিপক্ষরা আমাদেরকে
নানাভাবে হুমকি-ধামকি ও মিথ্যা অভিযোগ এবং মামলা-মোকদ্দমা দিচ্ছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত
এর জোর দাবী করেছেন এলাকাবাসী’সহ স্থানীয় কৃষক সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.